• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

গণহত্যার দোসর চুপ্পুকে অপসারণ ও গ্রেফতার করতে হবে: নাহিদ


নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৩০, ২০২৬, ০৬:১৯ পিএম
গণহত্যার দোসর চুপ্পুকে অপসারণ ও গ্রেফতার করতে হবে: নাহিদ

ফাইল ছবি

বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের অপসারণ ও তাঁকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, এই রাষ্ট্রপতির বঙ্গভবনে থাকার বা সংসদে বক্তব্য দেওয়ার কোনো নৈতিক অধিকার নেই।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন। এ সময় সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

আলোচনায় অংশ নিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির বক্তব্য আমি শুনিও নাই, পড়িও নাই। সেই বক্তব্য এবং বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়াকে আমরা প্রত্যাখ্যান করেছিলাম। আমরা খুব স্পষ্টভাবে বলেছিলাম যে, এই রাষ্ট্রপতির অপসারণ প্রয়োজন, তাঁকে গ্রেপ্তার করা প্রয়োজন। এই রাষ্ট্রপতির আর কোনো অধিকার নেই বঙ্গভবনে থাকার বা এখানে এসে বক্তব্য দেওয়ার।’

রাষ্ট্রপতির অতীত কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘মো. সাহাবুদ্দিন যখন দুদকের কমিশনার ছিলেন, তখন তাঁকে তিনটি নির্দিষ্ট কাজ দিয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। প্রথমত, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে শাস্তি নিশ্চিত করা। দ্বিতীয়ত, পদ্মা সেতুর দুর্নীতির অভিযোগ থেকে আওয়ামী লীগকে দায়মুক্তি দেওয়া এবং তৃতীয়ত, ২০০৭ সালের জরুরি অবস্থার সময় শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে হওয়া দুর্নীতির মামলাগুলো বাতিল করা।’ এমন একজন ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে মেনে নেওয়া দুর্ভাগ্যজনক বলে তিনি মন্তব্য করেন।

নাহিদ ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, ‘২০০৯ সালে শেখ হাসিনার নির্দেশে সাহাবুদ্দিনের নেতৃত্বে গঠিত বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন একটি একপেশে প্রতিবেদন তৈরি করেছিল। যেখানে ২০০১ পরবর্তী সময়ে কয়েক হাজার হিন্দু হত্যা ও সহিংসতার জন্য বিএনপির ২৬ হাজার নেতাকর্মীকে দায়ী করা হয়েছিল। আওয়ামী লীগ এই বানোয়াট রিপোর্ট দেশ-বিদেশে প্রচার করে তাদের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করেছিল।’

ইসলামী ব্যাংক সংকটের জন্য রাষ্ট্রপতিকে দায়ী করে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, ‘তিনি ইসলামী ব্যাংককে একটি বিশেষ গোষ্ঠীর হাতে তুলে দেওয়ার কারিগর। এর ফলে দুই কোটি আমানতকারী পথে বসেছেন। এ ছাড়া জুলাই গণহত্যার সময় তাঁর ভূমিকা ও ফ্যাসিবাদের সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতা সবার জানা। আমাদের দুর্ভাগ্য যে, এই দুর্নীতিবাজ, অপদার্থ ও গণহত্যার দোসর এখনো বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি।’

জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘ছাত্ররা তখনই রাষ্ট্রপতির অপসারণ চেয়েছিল। কিন্তু তখন সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার দোহাই দিয়ে তাঁর পক্ষ নেওয়া হয়েছিল। এখন তো নির্বাচিত সরকার, এখন কেন এই অপদার্থ ও মিথ্যুক রাষ্ট্রপতিকে পরিবর্তন করা হচ্ছে না?’

এসএইচ 

Link copied!