• ঢাকা
  • বুধবার, ০৩ জুন, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

দিনের ১৮ ঘণ্টাই থানায় কাটে যুবদল নেতার, মামলা বাণিজ্যের অভিযোগ


নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ৩, ২০২৬, ০৬:১৪ পিএম
দিনের ১৮ ঘণ্টাই থানায় কাটে যুবদল নেতার, মামলা বাণিজ্যের অভিযোগ

ছবি: প্রতিনিধি

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলা যুবদলের সভাপতি আলমগীর চৌকিদারের বিরুদ্ধে থানা-পুলিশের ভয় দেখিয়ে মামলা বাণিজ্য, সাধারণ মানুষকে হয়রানি এবং এলাকায় প্রভাব খাটানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে সুবিধা আদায় করতে এই যুবদল নেতা দিনের অধিকাংশ সময় থানায় অবস্থান করেন। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১৮ থেকে ২০ ঘণ্টাই তাঁকে জাজিরা থানা চত্বর বা আশপাশে দেখা যায়।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জমিজমা সংক্রান্ত সমস্যা, ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব কিংবা যেকোনো বিরোধকে কেন্দ্র করে থানায় মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন আলমগীর। অনেক ক্ষেত্রে পক্ষ-বিপক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতার নামে বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এছাড়া রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের সমর্থক হিসেবে চিহ্নিত করে থানায় নাশকতা বা সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় নাম ঢুকিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে নিরীহ ব্যক্তিদের কাছ থেকে টাকা দাবি করা হয় বলেও ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যবসায়ী জানান, এলাকায় কোনো সমস্যা হলে থানায় যাওয়ার আগেই আলমগীর চৌকিদারের নাম শুনতে হয়। নিজেকে অত্যন্ত ক্ষমতাবান পরিচয় দেওয়ায় সাধারণ মানুষ সবসময় তাঁর ভয়ে তটস্থ থাকে। আরেক ভুক্তভোগী জানান, একটি পারিবারিক বিরোধের জেরে তাঁকে থানায় ডেকে নেওয়ার ভয় দেখানো হয় এবং পরে বিষয়টি মীমাংসার কথা বলে আর্থিক সুবিধা দাবি করা হয়।

সম্প্রতি জাজিরা কলেজ সংলগ্ন ঢাকা-শরীয়তপুর মহাসড়কে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সমর্থনে মিছিলের প্রস্তুতি নেওয়ার অভিযোগে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীসহ আটজনকে আটক করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখায় জাজিরা থানা-পুলিশ। গ্রেপ্তার হওয়া যুবকদের পরিবারের দাবি, মিছিলের প্রস্তুতি নেওয়া ব্যক্তিরা পালিয়ে গেলে রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের আটক করে পুলিশ। পরে তাঁদের খোঁজ নিতে থানায় যাওয়া আরও দুজনকে আটকে মামলা দেওয়া হয়। স্বজনদের অভিযোগ, এই নিরীহ যুবকদের মিথ্যা মামলায় জড়ানোর পেছনে নেপথ্য ভূমিকা রেখেছেন যুবদল নেতা আলমগীর চৌকিদার।

অবশ্য নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন যুবদল নেতা আলমগীর চৌকিদার। তিনি জানান, তিনি দিনরাত থানায় থাকেন কি না, তা ওসির কাছে জিজ্ঞেস করলেই জানা যাবে। তবে জাজিরা থানা যুবদলের সভাপতি হওয়ার কারণে বিভিন্ন প্রয়োজনে ওসি ফোন করলে সহযোগিতার জন্য তাঁকে মাঝে মাঝে থানায় যেতে হয় বলে দাবি করেন তিনি।

এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাজিরা উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের একাধিক নেতাকর্মী জানান, থানায় আলমগীরের অতিরিক্ত উপস্থিতি এবং লবিং নিয়ে সংগঠনের ভেতরেও নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহাম্মদ ওই যুবদল নেতার পক্ষ নিয়ে বলেন, থানায় ১৮ ঘণ্টা পুলিশ নিজেই অফিস করে না, সেখানে একজন রাজনৈতিক নেতা কীভাবে থাকবেন। তিনি দাবি করেন, থানায় কোনো মামলা বাণিজ্য বা দালালি হয় না এবং এই সংক্রান্ত কোনো তথ্য তাঁর জানা নেই। ওসির দাবি, থানার সামনে সবসময় গণমাধ্যমকর্মীরাও উপস্থিত থাকেন।

তবে স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, কোনো ব্যক্তি রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে যদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নাম ভাঙিয়ে প্রভাব বিস্তার করে, তবে তা সাধারণ মানুষের মাঝে প্রশাসনের প্রতি আস্থাহীনতা তৈরি করে। তাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

এসএইচ 

Link copied!