• ঢাকা
  • শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

যোগদানের পরই উধাও চিকিৎসক, ১১৩ দিন পর বদলির কাগজ হাতে হাসপাতালে


ঝালকাঠি প্রতিনিধি জুলাই ১১, ২০২৬, ১১:৩৮ এএম
যোগদানের পরই উধাও চিকিৎসক, ১১৩ দিন পর বদলির কাগজ হাতে হাসপাতালে

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদানের পর কার্যত দায়িত্ব পালন না করেই টানা ১১৩ দিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ উঠেছে এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকার পর বদলির আদেশ হাতে নিয়ে ছাড়পত্র নিতে হাসপাতালে হাজির হলে বিষয়টি নিয়ে হাসপাতালজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। একই সঙ্গে ওই সময়ে অর্থোপেডিক্স চিকিৎসক না থাকায় সাধারণ রোগীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. সিমুনা সিরাজ মীম রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সহকারী সার্জন (অর্থোপেডিক্স ও ট্রমাটোলজি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি তিনি রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করেন। যোগদানের পর ২২ ফেব্রুয়ারি মাত্র একদিন দায়িত্ব পালন করেন। পরে ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ মার্চ পর্যন্ত নৈমিত্তিক ছুটিতে থাকেন। ২ ও ৩ মার্চ বিলম্বে উপস্থিত হলেও ৪ মার্চ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত আর কর্মস্থলে আসেননি। স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাব অনুযায়ী এ সময়ে তার অননুমোদিত অনুপস্থিতি ছিল ১১৩ দিন। এর মধ্যে ১৬ মার্চ একদিন বিলম্বে উপস্থিতির তথ্য বায়োমেট্রিক হাজিরায় পাওয়া গেছে।

দীর্ঘ অনুপস্থিতির কারণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে তিন দফায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়। কিন্তু তার জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় বিষয়টি স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবের কাছে জানানো হয়। পাশাপাশি বায়োমেট্রিক হাজিরার তথ্য ও প্রয়োজনীয় নথিপত্রও পাঠানো হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন অর্থোপেডিক্স বিভাগের চিকিৎসক না থাকায় হাড়ভাঙা, দুর্ঘটনায় আহত ও অন্যান্য অর্থোপেডিক্স রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হতে হয়েছে। অনেক রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ছুটতে হয়েছে। এতে একদিকে যেমন সময় নষ্ট হয়েছে, অন্যদিকে বেড়েছে চিকিৎসা ব্যয়ও।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আবুল খায়ের মাহমুদ বলেন, “আমরা একাধিকবার তাকে কর্মস্থলে যোগদানের জন্য তাগিদ দিয়েছি। মোবাইল ফোনেও যোগাযোগের চেষ্টা করেছি। কিন্তু তিনি নিয়মিত দায়িত্বে ফেরেননি। পরে গত সোমবার সকালে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বদলির আদেশ নিয়ে ছাড়পত্রের জন্য আসেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার পর তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।”

অভিযোগের বিষয়ে ডা. সিমুনা সিরাজ মীম বলেন, “আমি অসুস্থ ছিলাম এবং আমার ছোট সন্তান রয়েছে। এসব কারণে ছুটির আবেদন করেই কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলাম। বর্তমানে আমাকে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বদলি করা হয়েছে।”

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের দীর্ঘ অনুপস্থিতি স্বাস্থ্যসেবার মানকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এমন ঘটনায় দায় নিরূপণ করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি জনস্বার্থে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এম

Link copied!