ছবি: প্রতিনিধি
ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলায় নদী, খাল ও নিচু জমিতে জমা কচুরিপানার জটে রোপা আমন চাষ ব্যাহত হচ্ছে। আবাদের শুরুতেই খেত থেকে বিপুল পরিমাণ কচুরিপানা সরাতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা। এতে তাদের উৎপাদন খরচ অনেকটা বেড়ে যাচ্ছে।
কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিষখালী নদী ও পাশের ছোট-বড় খাল দিয়ে উজান থেকে ভেসে আসা কচুরিপানা জোয়ারের পানিতে জমিতে ঢুকে পড়ে। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এসব কচুরিপানা ঘন হয়ে জট বেঁধে যায়। আমন ধান রোপণের আগে জমি প্রস্তুত করতে গিয়ে কৃষককে বাধ্য হয়ে শ্রমিক দিয়ে তা পরিষ্কার করতে হচ্ছে।
উপজেলার চেঁচরী রামপুর, আমুয়া, আওড়াবুনিয়া, সদর ও শৌলজালিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা যায়, কৃষকেরা দিনচুক্তিতে শ্রমিক নিয়ে খেত থেকে কচুরিপানা তুলে শুকনা জায়গায় রাখছেন। এতে প্রতি বিঘা জমিতে অতিরিক্ত আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা শ্রমিক খরচ বাবদ ব্যয় হচ্ছে।
চেঁচরী রামপুর ইউনিয়নের কৃষক মো. ছায়েদ আলী ফকির জানান, সার, ডিজেল ও হাল চাষের বাড়তি দামের সঙ্গে এখন যুক্ত হয়েছে কচুরিপানা সরানোর খরচ। সময়মতো কচুরিপানা সরাতে না পারলে আমন রোপণের সময় পার হয়ে যাওয়ার ভয় পাচ্ছেন তিনি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক জায়গায় খাল ভরাট ও অপরিকল্পিত বাঁধের কারণে পানি নামতে পারছে না। ফলে কচুরিপানা আটকে স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।
কাঁঠালিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ফাতেমা ইসলাম জানান, বিষখালী নদীর সঙ্গে সংযুক্ত খালগুলোতে এবার কচুরিপানা কিছুটা বেশি। কৃষকদের দ্রুত খেত পরিষ্কার করে আমন রোপণের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি যেসব খালে পানির প্রবাহ আটকে আছে, সেগুলো পরিষ্কারের জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।
আমনের ভরা মৌসুমে এই বাড়তি খরচ ও শ্রমের চাপে শেষ পর্যন্ত লোকসানের মুখে পড়ার আশঙ্কা করছেন এলাকার চাষিরা।
এসএইচ

























original1787417799-20260822173831.jpg)













