• ঢাকা
  • বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

রাত পোহালেই ভোট, ঠাকুরগাঁওয়ে মুখোমুখি বিএনপি-জামায়াত


ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি অক্টোবর ২৮, ২০২৬, ০৭:৪৯ পিএম
রাত পোহালেই ভোট, ঠাকুরগাঁওয়ে মুখোমুখি বিএনপি-জামায়াত

ফাইল ছবি

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ বৃহস্পতিবার। শেষ মুহূর্তে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন, ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ভোট পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের তালিকা নিয়ে দুই পক্ষই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তুলেছে। ফলে ভোটের পরিবেশ, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা চলছে।

রাষ্ট্রপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছেড়ে দেওয়া এ আসনে বিএনপির প্রার্থী তাঁর ছোট ভাই মির্জা ফয়সাল আমিন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দলটির কেন্দ্রীয় নেতা দেলাওয়ার হোসেন। আসনটিতে জয় পেতে দুই দলই সাংগঠনিক তৎপরতা চালিয়েছে।

বিএনপির কাছে আসনটি ধরে রাখা রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক গুরুত্ব বহন করছে। অন্যদিকে জামায়াতের লক্ষ্য আসনটিতে জয়ী হয়ে সংসদে নিজেদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো। ফলে উপনির্বাচনটি দুই দলের সমর্থন ও সাংগঠনিক শক্তি যাচাইয়ের ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।

মঙ্গলবার রাতে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা কামরুল ইসলামের কাছে লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ জানান জামায়াতের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন এবং বিএনপির প্রতিনিধিরা। অভিযোগের বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন, ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের তালিকা তৈরিতে পক্ষপাতিত্ব।

রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে দেলাওয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, নির্বাচনী প্রচার শেষ হওয়ার পরও স্থানীয় বেসরকারি সংস্থা ইএসডিওর কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করা হয়েছে। সেখানে তাঁদের ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিতে প্রভাবিত করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর মতে, প্রচার শেষ হওয়ার পর এমন কর্মকাণ্ড নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন।

সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের তালিকা নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন জামায়াতের এই প্রার্থী। তাঁর অভিযোগ, তালিকায় একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের অনুসারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আখানগরের বলিতাপাড়ায় জামায়াতের নির্বাচনী উঠান বৈঠকে বিএনপির সমর্থকদের বিরুদ্ধে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, এ ঘটনায় জামায়াতের নেতাকর্মীরা আহত হলেও তাঁরা বিচার পাননি; উল্টো তাঁদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ঠাকুরগাঁও পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন দেলাওয়ার হোসেন। এসব ঘটনায় ভোট কতটা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। ভোটের দিনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত থাকার বিষয়টি নির্ভর করবে বলেও জানান তিনি।

জামায়াতের অভিযোগ অস্বীকার করে সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের তালিকা নিয়ে পাল্টা অভিযোগ তুলেছে বিএনপি। জেলা বিএনপির প্রতিনিধি ও পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর মো. আতাউর রহমান জানান, তাঁরাও রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ জমা দিয়েছেন।

আতাউর রহমানের দাবি, সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের তালিকায় জামায়াত-ঘনিষ্ঠ কয়েকজনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করতে প্রতিপক্ষ উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

হামলা, ভাঙচুর ও নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে জামায়াতের অভিযোগের বিষয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, বড় রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে মাঠপর্যায়ে বিএনপির অসংখ্য সমর্থক রয়েছেন। বড় নির্বাচনে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটতে পারে। তবে এসব ঘটনা যেন নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে দলের পক্ষ থেকে সতর্কতা রয়েছে বলে জানান তিনি।

দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্যে ভোট পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা, ভোটারদের নিরাপত্তা এবং নির্বাচনী আচরণবিধি অনুসরণের বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম জানিয়েছেন, সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ভোটাররা যেন কোনো বাধা ছাড়াই ভোট দিতে পারেন, সেটিই প্রশাসনের অগ্রাধিকার।

ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার মো. বেলাল হোসেন জানিয়েছেন, নির্বাচনে কোনো পক্ষকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে না। ফলাফল যে প্রার্থীর পক্ষেই যাক, সবাই তা মেনে নেবেন বলে প্রত্যাশা তাঁর। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজন সম্ভব বলেও আশাবাদ জানিয়েছেন তিনি।

নির্বাচনী এলাকায় বিশৃঙ্খলা এড়াতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বিজিবির ঠাকুরগাঁও সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মো. সুরুজ মিয়া জানিয়েছেন, ভোটাররা যাতে নিরাপদে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারেন, সে জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ, এসআরবি ও বিজিবি মোতায়েন থাকবে। রিটার্নিং কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দায়িত্ব পালনে ম্যাজিস্ট্রেটও থাকবেন।

সব মিলিয়ে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতের প্রতিদ্বন্দ্বিতা শেষ মুহূর্তে পাল্টাপাল্টি অভিযোগে আরও আলোচনায় এসেছে। দুই পক্ষের অভিযোগগুলোর নিষ্পত্তি এবং ভোটের দিন প্রশাসনের ভূমিকা কেমন হয়, তার ওপর নির্বাচনী পরিবেশের গ্রহণযোগ্যতা অনেকটাই নির্ভর করছে। এখন ভোটারদের রায় এবং শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করাই প্রধান বিষয়।

এসএইচ 

Link copied!