• ঢাকা
  • বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

আশ্বাসে সন্তুষ্ট নয়, ঠাকুরগাঁওয়ে ইসির নিরপেক্ষতা দেখতে চায় ১১ দল


নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ২৮, ২০২৬, ০৬:১৬ পিএম
আশ্বাসে সন্তুষ্ট নয়, ঠাকুরগাঁওয়ে ইসির নিরপেক্ষতা দেখতে চায় ১১ দল

ছবি: সংগৃহীত

নির্বাচন কমিশনের আশ্বাসে সন্তুষ্ট নয় ১১-দলীয় প্রতিনিধিদল। ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা, ভোটারদের নিরাপত্তা এবং প্রচারে বাধা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ চায় তারা। অভিযোগ ওঠা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার, হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনায় ব্যবস্থা নেওয়া এবং ভোটারদের আস্থা ফেরাতে নির্বাচনী এলাকায় সেনা মোতায়েনের দাবিও জানিয়েছে দলগুলো। তাদের মতে, শুধু আশ্বাস নয়, ভোটের মাঠে কমিশনের নিরপেক্ষতা ও সক্ষমতার বাস্তব প্রতিফলন দেখতে চায় তারা।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ পুরো কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করে ১১-দলীয় প্রতিনিধিদল। ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও আলোচনা হয় বৈঠকে। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ।

বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, আগের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন কিছু পদক্ষেপের কথা জানালেও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে সন্তোষজনক ব্যবস্থা দেখা যায়নি। এ কারণে ভোটের আগে আবারও লিখিতভাবে দাবি ও অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে।

তিনি বলেন, আগামীকালের উপনির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, সক্ষমতা এবং মাঠপর্যায়ে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের কার্যকারিতা যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। কমিশনের দেওয়া আশ্বাসের প্রতিফলন ভোটের দিন দেখা না গেলে তা লোকদেখানো আশ্বাস হিসেবেই বিবেচিত হবে।

প্রতিনিধিদলের অন্যতম প্রধান দাবি, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা খায়রুল ইসলামকে প্রশাসনিক পদ থেকে প্রত্যাহার করা। তাঁর বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে নির্বাচনের আগে তাঁকে প্রত্যাহার এবং বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছে দলগুলো।

প্রতিনিধিদলের ভাষ্য, কমিশন জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে নির্বাচনী কার্যক্রম থেকে বিরত রাখা হয়েছে। তবে প্রশাসনিক পদে বহাল থাকলে তাঁর প্রভাব বিস্তারের সুযোগ থেকে যায় কি না, সে প্রশ্ন রয়েছে।

দলগুলোর মতে, অভিযোগ ওঠা কর্মকর্তা প্রশাসনিক দায়িত্বে বহাল থাকলে স্থানীয় ভোটার, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী এবং তাঁদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ থেকেই যাবে। তাই শুধু নির্বাচনী কার্যক্রম থেকে সাময়িকভাবে বিরত রাখা যথেষ্ট নয়। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

নির্বাচনী এলাকায় হামলা, সন্ত্রাস এবং প্রচার কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার অভিযোগও জানিয়েছে ১১-দলীয় প্রতিনিধিদল। এসব ঘটনায় কারা আক্রান্ত হয়েছেন, কখন ও কোথায় হামলা হয়েছে এবং কারা জড়িত, তার বিবরণসহ একটি তালিকা কমিশনের কাছে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা।

প্রতিনিধিদল অভিযোগগুলোর ভিত্তিতে কমিশন কী ব্যবস্থা নিয়েছে, তার স্পষ্ট জবাব চেয়েছে। তাদের আশঙ্কা, নির্বাচনী এলাকায় সহিংসতা ও ভয়ভীতির পরিবেশ বজায় থাকলে ভোটাররা স্বাধীনভাবে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে বাধার মুখে পড়তে পারেন।

বিশেষ করে হিন্দু ভোটারদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে দলগুলো। প্রতিনিধিদলের দাবি, সংশ্লিষ্ট এলাকায় প্রায় ১ লাখ ৬৮ হাজার হিন্দু ভোটার রয়েছেন। তাঁদের ভয়ভীতি প্রদর্শন বা হুমকির অভিযোগের বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

ধর্মীয় পরিচয়, রাজনৈতিক অবস্থান কিংবা কোনো প্রার্থীর সমর্থক হওয়ার কারণে যাতে কোনো ভোটার নিরাপত্তাহীনতায় না ভোগেন, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব কমিশনের বলে মনে করে প্রতিনিধিদল। এ ক্ষেত্রে সংবিধানের সপ্তম ভাগে নির্বাচন কমিশন-সংক্রান্ত ১১৮ থেকে ১২৬ অনুচ্ছেদে বর্ণিত সাংবিধানিক কাঠামো অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছে তারা।

নির্বাচনী এলাকায় ভোটারদের নিরাপত্তা ও আস্থা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেছে ১১ দল। হামিদুর রহমান আযাদের ভাষ্য, কমিশন জানিয়েছে, নির্বাচনী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রয়েছে। তবে এসব বাহিনীর অতীত ভূমিকা এবং সাম্প্রতিক নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতার কারণে তাদের ওপর ভোটারদের আস্থার প্রশ্ন রয়েছে বলে মনে করে দলগুলো।

প্রতিনিধিদলের মতে, সেনাবাহিনীর ওপর এখনো তুলনামূলকভাবে মানুষের আস্থা রয়েছে। নির্বাচনী এলাকায় সেনাসদস্যদের উপস্থিতি থাকলে ভোটাররা নির্ভয়ে কেন্দ্রে যেতে এবং ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।

এ কারণে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংখ্যা ও উপস্থিতির বিষয়টি বিবেচনায় না নিয়ে ভোটারদের নিরাপত্তা ও আস্থার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছে প্রতিনিধিদল।

১১-দলীয় প্রতিনিধিদলের বক্তব্য, নির্বাচনের আগে কমিশন যেসব আশ্বাস দিয়েছে, তার কার্যকর বাস্তবায়নই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ভোটের মাঠে নিরপেক্ষ পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া না হলে কমিশনের আশ্বাসের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাবে।

এসএইচ 

Link copied!