ফাইল ছবি
বৈষম্যমুক্ত ৯ম পে স্কেলসহ সাত দফা দাবি নিয়ে মতবিনিময়ের জন্য বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের আবেদন করেছেন সরকারি চাকরিজীবীরা। সোমবার ৫ জানুয়ারি বাংলাদেশ সরকারি গাড়িচালক সমিতির আহ্বায়ক ইসহাক কবীরের নেতৃত্বে ৮ থেকে ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বিএনপির চেয়ারপারসনের ফরেন সেক্রেটারি সেল সিএসএফের কাছে এ আবেদন জমা দেন।
প্রতিনিধি দলের সদস্যরা জানান, অনুমতি পেলে শিগগিরই তারেক রহমানের সঙ্গে তাদের সাক্ষাৎ হতে পারে। সাক্ষাতে তারা সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও চলমান জীবনযাত্রার বাস্তবতা তুলে ধরতে চান।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ সচিবালয়ের বাইরের দপ্তর, অধিদপ্তর ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের সব কর্মচারী সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত একটি জোট। এতে শিক্ষক-কর্মচারীসহ প্রায় ২২ লাখ সরকারি কর্মচারী সম্পৃক্ত। সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে তারা ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছেন।
আবেদনে আরও বলা হয়, ২০১৫ সালে প্রণীত বৈষম্যমূলক পে স্কেলের পর থেকে সংগঠনটির পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে বৈষম্য নিরসনের দাবিতে কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। তবে তৎকালীন সরকার দাবি পূরণ না করে বরং বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে দমন-পীড়ন চালিয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
বর্তমানে বাজারমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, সেবা খাতে ব্যয় বৃদ্ধি এবং পরিবারের ভরণ-পোষণের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ১১ থেকে ২০ গ্রেডভুক্ত কর্মচারীরা চরম সংকটে দিন কাটাচ্ছেন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়। এ পরিস্থিতিতে বাস্তবতার আলোকে সাত দফা দাবি তুলে ধরতেই সাক্ষাতের আবেদন জানানো হয়েছে।
সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে ১:৪ অনুপাতে ১২ ধাপে সর্বনিম্ন ৩৫ হাজার টাকা মূল বেতন নির্ধারণ করে বৈষম্যহীন ৯ম পে স্কেল বাস্তবায়ন, যাদের মূল বেতন শেষ ধাপে উন্নীত হয়েছে তাদের বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি অব্যাহত রাখা, ২০১৫ সালের পে স্কেল গেজেটে প্রত্যাহার করা টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহাল এবং বেতন জ্যেষ্ঠতা ফিরিয়ে দেওয়া।
এ ছাড়া সব স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে গ্রাচ্যুইটির পাশাপাশি পেনশন চালু, বিদ্যমান গ্রাচ্যুইটি বা আনুতোষিকের হার ১০০ শতাংশ নির্ধারণ, পেনশন গ্রাচ্যুইটির হার ১ টাকার সমপরিমাণ ৫০০ টাকা করা, ব্লক পোস্টে কর্মরত কর্মচারীসহ সব পদে পদোন্নতি অথবা পাঁচ বছর পর পর উচ্চতর গ্রেড প্রদান এবং অধস্তন আদালতের কর্মচারীদের বিচার বিভাগীয় কর্মচারী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
দাবির মধ্যে আরও রয়েছে টেকনিক্যাল কাজে নিয়োজিত কর্মচারীদের টেকনিক্যাল পদমর্যাদা প্রদান, সব গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য ভাতা পুনর্নির্ধারণ ও রেশন ব্যবস্থা চালু, চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ বছর এবং অবসরের বয়সসীমা ৬২ বছর নির্ধারণ।
এ ছাড়া উন্নয়ন প্রকল্প থেকে রাজস্ব খাতে স্থানান্তরিত পদধারীদের প্রকল্পকালীন চাকরিকাল গণনা করে টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড না দেওয়ার বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত আদেশ বাতিলের দাবিও জানানো হয়েছে।
আবেদনে বলা হয়, শিক্ষক-কর্মচারীদের এসব ন্যায্য দাবি বিবেচনার জন্য বিএনপির সর্বোচ্চ অভিভাবক হিসেবে তারেক রহমানের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করে বিষয়গুলো তুলে ধরতে চান তারা। এজন্য সাক্ষাতের তারিখ ও সময় নির্ধারণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এসএইচ







































