ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণের ওপর মোট ৫০ ঘণ্টা আলোচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শনিবার (১৪ মার্চ) জাতীয় সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির প্রথম বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। অধিবেশন আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে বলে জানানো হয়েছে।
বৈঠক শেষে সংসদ সচিবালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের কার্যক্রম সম্পন্নের জন্য সময় বণ্টন এবং অধিবেশনের স্থায়িত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এতে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর মোট ৫০ ঘণ্টা আলোচনা করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সংসদের ব্যয়সংক্রান্ত একটি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর এক প্রতিবেদনে একাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম ২২টি অধিবেশন (জানুয়ারি ২০১৯ থেকে এপ্রিল ২০২৩) পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সংসদীয় কার্যক্রম পরিচালনায় প্রতি মিনিটে গড়ে প্রায় ২ লাখ ৭২ হাজার ৩৬৪ টাকা ব্যয় হয়েছে।
এই হিসাব অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর নির্ধারিত ৫০ ঘণ্টা আলোচনা হলে মোট সময় দাঁড়াবে ৩ হাজার মিনিট। সেই হিসাবে ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে প্রায় ৮১ কোটি ৭০ লাখ ৯২ হাজার টাকা। যদিও সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বাস্তবে ব্যয়ের পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে।
সংসদের ব্যয়ের ধারা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, নবম জাতীয় সংসদে প্রতি মিনিটে ব্যয় ছিল প্রায় ৪২ হাজার টাকা। দশম সংসদে তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ১ লাখ ৬৩ হাজার টাকায়। একাদশ সংসদে এই ব্যয় আরও বেড়ে প্রতি মিনিটে প্রায় ২ লাখ ৭২ হাজার টাকায় পৌঁছে যায়। এ হিসেবে ব্যয় ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, সরকারি ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন বিকেল ৩টায় অধিবেশন শুরু হবে এবং ৩০ এপ্রিল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন সমাপ্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রয়োজন হলে অধিবেশনের সময় ও কার্যদিবস পরিবর্তনের ক্ষমতা স্পিকারকে দেওয়া হয়েছে।
কার্য উপদেষ্টা কমিটির সভাপতি ও জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বিরোধীদলীয় নেতা মো. শফিকুর রহমানসহ মন্ত্রিসভার বেশ কয়েকজন সদস্য ও সংসদ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে চলতি অধিবেশনে সংসদ সদস্যদের পক্ষ থেকে মোট ৪৬৮টি প্রশ্ন জমা পড়েছে। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর জন্য আটটি এবং বিভিন্ন মন্ত্রীর জন্য ৪৬০টি প্রশ্ন রয়েছে। পাশাপাশি বিধি-৭১ অনুযায়ী মনোযোগ আকর্ষণের নোটিশ এসেছে ২৭টি এবং সিদ্ধান্ত প্রস্তাব (বিধি-১৩১) জমা পড়েছে ৯৭টি।
সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সংসদীয় কার্যক্রম পরিচালনার ব্যয় সময়ের সঙ্গে উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রশাসনিক ব্যয়, বেতন-ভাতা, বিদ্যুৎ, নিরাপত্তা ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে সংসদ পরিচালনার খরচও বেড়েছে।
এম







































