• ঢাকা
  • সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

রমজানে বাজার স্থিতিশীল রাখতে চাঁদাবাজি রোধে কঠোর হওয়ার আহ্বান


নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬, ০৬:১৭ পিএম
রমজানে বাজার স্থিতিশীল রাখতে চাঁদাবাজি রোধে কঠোর হওয়ার আহ্বান

ছবি: নিজস্ব

ঢাকা: আসন্ন রমজান উপলক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি, মজুদ, সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি পর্যালোচনার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও অংশীজনদের সাথে মতবিনিময় সভা করেছে দি ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে এফবিসিসিআই’র মতিঝিল কার্যালয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন এফবিসিসিআই’র প্রশাসক মোঃ আবদুর রহিম খান।

অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে খুচরা ও পাইকারি পর্যায়ের বিভিন্ন বাজার সমিতির নেতৃবৃন্দ জানান, ভোজ্যতেল, চিনি, পেঁয়াজ, ডালসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে দেশে। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে এবারের রমজানে এসব পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির সুযোগ নেই। তবে বাজার স্থিতিশীল রাখাতে সরবরাহ ব্যবস্থার বিভিন্ন ধাপে চাঁদাবাজি রোধ করতে কর্তৃপক্ষকে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা। পাশাপাশি, সাধারণ ভোক্তাদের প্রতি অনুরোধ জানান- প্রয়োজনের তুলনায় বেশি পণ্য ক্রয় করে বাজারে বাড়তি চাপ সৃষ্টি না করার।

তবে রমজানকে কেন্দ্র করে বাজার তদারকির নামে খুচরা ব্যবসায়ীদের হয়রানি বন্ধে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং এফবিসিসিআই‘র মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানান ব্যবসায়ীরা। তাঁদের দাবি, প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের পক্ষে বাজার অস্থিতিশীল করা সম্ভব নয়। আমদানিকারক ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিত্যপণ্যের সরবরাহ সচল রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

বাংলাদেশ চিনি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোঃ আবুল হাশেম বলেন, মিল মালিকরা ঠিকমত যোগান দিতে পারলে বাজারে চিনির সংকট হবে না। করপোরেট প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগে দেশে চিনি আমদানি করা গেলে ব্যবসায়ীরা প্রতিযোগিতামূলক দামে চিনি বিক্রয় করতে পারবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

দ্রব্য মূল্য স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে শুধু খুচরা পর্যায়ে বাজার তদারকি না করে, বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী ও আমদানিকারক পর্যায়ে সরকারের নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানান বাংলাদেশ পাইকারি ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোঃ গোলাম মাওলা। 

এ সময়, মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ডেপুটি জেনারেন ম্যানেজার তসলিম শাহরিয়ার জানান, রমজানের বাড়তি চাপ সামাল দেয়ার জন্য ভোজ্যতেল ও চিনির পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে দেশে। তবে নির্বাচন কেন্দ্রী ছুটির কারণে বন্দরে পণ্য খালাস, পরিবহন ও কাস্টমস কিছুটা বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এছাড়া সাপ্লাই-চেইনে অন্য কোন সংকট নেই।

এ দিকে, রমজানে শাক-সবজিসহ অন্যান্য কাঁচাপণ্যের বাজারও ভোক্তাদের নাগালে থাকার ইঙ্গিত দিয়েছেন কাঁচাবাজার বণিক সমিতির নেতৃবৃন্দ। তাঁরা জানান, লেবু ব্যতিত এই মুহুর্তে সকল কাঁচা সবজির দাম স্বাভাবিক রয়েছে।

সভার শুরুতে, নিত্যপণ্যের চাহিদা, মজুদ, সরবরাহ এবং বাজার পরিস্থিতির বর্তমান চিত্র তুলে ধরেন এফবিসিসিআই’র প্রশাসক মোঃ আবদুর রহিম খান। এ সময় তিনি বলেন, এবারের রোজা অন্যান্য বছরের তুলনায় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের কয়েক দিন পরই রোজা শুরু। সুতরাং সাধারণ ভোক্তাদের কথা বিবেচনায় রেখে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও বণিক সংগঠনগুলোকে আরও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে হবে।

এ বছর নিত্যপণ্যের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে ব্যবসায়ীরা ইতিবাচক ইঙ্গিত দিলেও, বাজার নিয়ে শঙ্কার কথা জানান বাজার বিশ্লেষক এবং কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির ভূঁইয়া। তিনি বলেন, এ বছর জ্বালানী সংকট দেখা দেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রমজানে এই সংকট আরও বাড়তে পারে। এছাড়া রোজা শুরুর অল্প কিছুদিন পূর্বেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ সময় নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করবে। এই ’ট্রানজিশন পিরিয়ডে’ হয়তো জোরালোভাবে বাজার তদারকি করাও সম্ভব হবে না। কিছু অসাধু লোক এই সুযোগ নিতে পারে।

অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে এফবিসিসিআই’র প্রশাসক মোঃ আবদুর রহিম খান বলেন, বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীগুলোর কাছে আমাদের অনুরোধ বাজারে সরবরাহ যেন বিঘ্নিত না হয়। বাজার তদারকি যেন ব্যবসায়ীদের উৎপাতের কারণ না হয় সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি। মতবিনিময় সভায় আলোচ্য বিষয়সমূহ এফবিসিসিআই’র পক্ষ থেকে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরা হবে বলেও জানান তিনি।

সভায় উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআই’র সাবেক পরিচালক মোঃ গিয়াসউদ্দিন চৌধুরী (খোকন), খন্দকার রুহুল আমিন, মোঃ আবুল হাশেম, এফবিসিসিআই’র মহাসচিব মোঃ আলমগীর, এফবিসিসিআই সেইফটি কাউন্সিলের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) আবু নাঈম মোঃ শাহিদউল্লাহ, এফবিসিসিআই’র সাধারণ পরিষদের সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন বণিক সমিতির নেতৃবৃন্দ, বাংলাদেশ ব্যাংক, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, প্রতিযোগিতা কমিশন, টিসিবি, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, কৃষি বিপণন অধিদপ্তর, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন শিল্পগোষ্ঠীর প্রতিনিধিবৃন্দ।

এএইচ/পিএস

Wordbridge School
Link copied!