• ঢাকা
  • শনিবার, ০৭ মার্চ, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

ব্যর্থতা পেরিয়ে সাফল্যের গল্প

দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যর্থতা, আসিফ এখন হার্ভার্ডের শিক্ষার্থী


মৌলভীবাজার প্রতিনিধি মার্চ ৭, ২০২৬, ০৩:২১ পিএম
দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যর্থতা, আসিফ এখন হার্ভার্ডের শিক্ষার্থী

ছবি: সংগৃহীত

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার তরুণ আসিফ মোক্তাদির একসময় দেশের সাতটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েও কোথাও সুযোগ পাননি। সেই ব্যর্থতা তাকে থামাতে পারেনি। অধ্যবসায়, সংগ্রাম এবং অদম্য ইচ্ছাশক্তির পথ ধরে তিনি পৌঁছে গেছেন বিশ্বের শীর্ষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একটিতে। সম্প্রতি তিনি যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জনস্বাস্থ্য বিভাগে (এমপিএইচ ইন হেলথ পলিসি) পড়ার সুযোগ পেয়েছেন। একই সঙ্গে আইভি লীগভুক্ত কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও ভর্তি অফার পেয়েছেন তিনি।

১৯৯৬ সালের ১ জানুয়ারি জন্ম নেওয়া আসিফের শৈশব কেটেছে মৌলভীবাজারে। ছোটবেলা থেকেই ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় ব্যর্থতার সময়টি ছিল তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন অধ্যায়।

এরপর পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান তিনি। নতুন দেশ, নতুন পরিবেশ এবং অভিবাসী জীবনের বাস্তবতা ছিল কঠিন। জীবনের শুরুতে একটি কফি শপে কাজ করতে হয়েছে তাকে। দিনের পরিশ্রম শেষে ক্লান্ত শরীর নিয়ে ঘরে ফিরে যখন দেখতেন তার বন্ধুরা দেশে পড়াশোনা করছে, তখন অনেক সময় মায়ের বুকে মাথা রেখে কান্না করতেন। এমন কঠিন সময় পেরিয়েই গড়ে ওঠে তার সংগ্রামের পথচলা।

পরে যুক্তরাষ্ট্রের বাফেলো স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে বায়োলজিক্যাল সায়েন্সে স্নাতক সম্পন্ন করেন তিনি। এরপর মাস্টার্স অব সায়েন্স ইন ফিজিশিয়ান অ্যাসোসিয়েট স্টাডিজ ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসা সহকারী হিসেবে কর্মরত।

চিকিৎসা পেশায় কাজ করতে গিয়ে অভিবাসী ও প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সংগ্রাম খুব কাছ থেকে দেখেছেন আসিফ। ভাষাগত বাধা, অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা এবং জটিল স্বাস্থ্যব্যবস্থার কারণে অনেক মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হন। এই বাস্তবতা তাকে গভীরভাবে নাড়া দেয়।

সেখান থেকেই জন্ম নেয় নতুন স্বপ্ন-শুধু রোগী দেখা নয়, বরং স্বাস্থ্যনীতি পর্যায়ে কাজ করে বৃহত্তর পরিসরে পরিবর্তন আনা। সেই লক্ষ্যেই বিশ্বের শীর্ষ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করেন তিনি এবং হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ অর্জন করেন।

ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে আসিফ লিখেছেন, জীবনের একসময় মনে হয়েছিল সব শেষ। কিন্তু এখন বুঝি, ব্যর্থতা কখনো শেষ নয়-বরং নতুন পথের শুরু। চার বছর আগে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ঘুরতে গিয়ে জন হার্ভার্ডের স্মৃতিফলকের সামনে দাঁড়িয়ে একটি ছবি তুলেছিলেন। তখন তিনি কেবল বিস্ময়ে চারপাশ দেখছিলেন। তখন কল্পনাও করেননি, একদিন এই বিশ্ববিদ্যালয়েই পড়ার সুযোগ পাবেন।

তিনি আরও লিখেছেন, হার্ভার্ডে যে কয়েকজন বাংলাদেশি পড়েছেন বা এখনও পড়ছেন, তাদের মধ্যে একজন হতে পারা তার কাছে অন্যরকম অনুভূতি। মানুষের স্বপ্নই তাকে বড় করে তোলে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ভবিষ্যতে আসিফ জনস্বাস্থ্য ও স্বাস্থ্যনীতি খাতে কাজ করে অভিবাসী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য আরও ন্যায়সঙ্গত স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে চান। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করাও তার অন্যতম স্বপ্ন।

সমাজসেবামূলক কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের মর্যাদাপূর্ণ ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস কর্পস (এনএইচএসসি) স্কলারশিপ এবং মাদার ক্যাব্রিনি ফাউন্ডেশনের ৫০ হাজার ডলারের স্কলারশিপ অর্জন করেছেন।

এসএইচ 

Wordbridge School
Link copied!