• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

যুক্তরাষ্ট্রের ‘মাদার অব অল বোম্বস’ কতটা শক্তিশালী?


আন্তর্জাতিক ডেস্ক অক্টোবর ১৫, ২০২৬, ০৯:২৭ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের ‘মাদার অব অল বোম্বস’ কতটা শক্তিশালী?

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে নতুন করে কোনো হামলা না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু এ প্রতিশ্রুতির পরপরই তেহরানে সম্ভাব্য ভয়াবহ হামলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল মার্কিন সামরিক বাহিনী।

শুধু তাই নয়, এই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় অ-পারমাণবিক বোমা ‘মাদার অব অল বোম্বস’ নামে পরিচিত জিবিইউ-৪৩/বি ব্যবহারের বিষয়টিও রয়েছে বলে জানা গেছে।

সামরিক পরিকল্পনার বিষয়ে অবগত একাধিক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে দেশটির সংবাদ মাধ্যম সিএনএন। প্রতিবেদনে বলা হয়, এই পরিকল্পনায় রয়েছে ‘জিবিইউ-৪৩/বি ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাস্ট’, যা মূলত মাদার অব অল বোম্বস (এমওএবি) নামে বেশ পরিচিত। 

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পুনরায় সামরিক অভিযান শুরুর নির্দেশ দিলে এটি মোতায়েন করা হতে পারে।

তার জন্য লক্ষ্যবস্তুও তৈরি রয়েছে বলে জানা গেছে। সিএনএন বলছে, সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ইরানের বিভিন্ন জ্বালানি অবকাঠামো এবং দেশটির পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে অবস্থিত সন্দেহভাজন পারমাণবিক কেন্দ্র।

এমওএবি আসলে কী?

জিবিইউ-৪৩/বি ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাস্ট বা এমওএবি হলো মার্কিন অস্ত্রাগারের সবচেয়ে বড় অ-পারমাণবিক বোমা। এর ওজন ২১ হাজার ৬০০ পাউন্ড (প্রায় ৯.৮ টন)।

এটি একটি বিশাল এলাকা জুড়ে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটানোর জন্য তৈরি করা হয়েছে।

তবে মাটির গভীরে থাকা বাংকার ধ্বংসকারী বোমার মতো এটি মাটির নিচে প্রবেশ করে না; বরং মাটির সংস্পর্শে আসার আগেই বাতাসে বিস্ফোরিত হয়ে চতুর্দিকে ভয়াবহ ধাক্কা বা বিস্ফোরণ ছড়িয়ে দেয়। মার্কিন সংবাদ মাধ্যম সিএনএনের তথ্য অনুযায়ী, এটি প্রায় ৯টি সিটি ব্লকের সমপরিমাণ এলাকা ধ্বংস করে দিতে পারে। ফলে ভূগর্ভস্থ স্থাপনার চেয়ে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে থাকা লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জন্য এটি সবচেয়ে উপযোগী।

অস্ত্রটি তৈরি হয়েছিল কবে?

ইরাক যুদ্ধের সময় অস্ত্রটি তৈরি করা হয়েছিল এবং এর অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব ফেলা।

বিশাল বিস্ফোরণের মাধ্যমে শত্রু বাহিনীকে ভীতসন্ত্রস্ত করা এবং তাদের আত্মসমর্পণ বা যুদ্ধ থেকে বিরত রাখাই ছিল এর মূল লক্ষ্য। প্রধানত বিপুলসংখ্যক সৈন্য, সামরিক সরঞ্জাম এবং ভূপৃষ্ঠের শক্ত অবকাঠামো ধ্বংস করতেই এটি ডিজাইন করা হয়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে অর্থাৎ ২০১৭ সালে আফগানিস্তানে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) সুড়ঙ্গ কমপ্লেক্সে এই বোমা ফেলার অনুমোদন দিয়েছিলেন।

তবে আফগান কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, ওই হামলায় ৩৬ জন আইএস জঙ্গি নিহত হয় এবং তাদের সুড়ঙ্গ, অস্ত্র ও গোলাবারুদ ধ্বংস হয়ে যায়। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করেছিলেন, ওই হামলায় কোনো বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়নি।

ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় আঘাত হানবে?

ব্যাপক ধ্বংসক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও ইরানের সবচেয়ে সুরক্ষিত পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে এমওএবির কার্যকারিতা খুবই সীমিত। 

পরিকল্পনা সংক্রান্ত সূত্রের বরাতে সিএনএন বলছে, বোমাটি গ্রানাইট পাথরের পুরু স্তরে সুরক্ষিত পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন বা ভূগর্ভের গভীরে থাকা অন্যান্য পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোকে ধ্বংস করার মতো গভীরে ভেদ করতে পারবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

অস্ত্রটিকে একটি বিশাল এলাকা ধ্বংস করার জন্য কার্যকর হিসেবে বর্ণনা করলেও একটি সূত্র বলেছে, এটি নিশ্চিতভাবেই ভূগর্ভের গভীরে প্রবেশের জন্য তৈরি কোনো ওয়ারহেড নয়।

এছাড়া লোকালয় বা অসামরিক কোনো জ্বালানি অবকাঠামোর কাছে এটি ব্যবহার করা হলে, এর বিশাল ধ্বংসাত্মক ব্যাপ্তির কারণে ব্যাপক বেসামরিক প্রাণহানির আশঙ্কাও রয়েছে।

সামরিক পরিকল্পনাকারীরা মূলত তেহরানের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির মাধ্যম হিসেবে এই বোমার কথা বিবেচনা করেছেন। এক কর্মকর্তা সিএনএনকে জানান, ইরানকে পুরোপুরি নতি স্বীকার করাতে না পারলেও বা চূড়ান্ত সামরিক বিজয় নিশ্চিত না করলেও, চলতি সংঘাতের গতিপথ বদলে দিতে এটি ব্যবহার করা হতে পারে।

তীব্র সংঘাতের আশঙ্কা

ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানের ক্ষেত্রে এমওএবি ব্যবহার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এক চরম সামরিক উত্তেজনা বাড়িয়ে দিতে পারে। সিএনএন বলছে, আসন্ন নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্প নতুন কোনো হামলা না করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া সত্ত্বেও, তিনি আবার সামরিক হামলার অনুমোদন দিলে ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা জবাবের জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

তবে ইরানের বিরুদ্ধে এমওএবি মোতায়েনের কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। সামরিক পরিকল্পনায় এর অন্তর্ভুক্তি এটাই নির্দেশ করে যে এই বিকল্পটি বিবেচনায় রাখা হয়েছে, তবে এটি ব্যবহার করা হবেই এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই বলেও উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

এম

Link copied!