ফাইল ছবি
নবম জাতীয় পে-স্কেল অনুযায়ী আগামী মাস থেকেই নতুন স্কেলে বেতন পেতে যাচ্ছেন দেশের সরকারি চাকরিজীবীরা। তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের এই নতুন পে-স্কেলে বেতন পেতে আরও কিছু সময় বিলম্ব হবে বলে জানিয়েছে অর্থ বিভাগ। পৃথক কোনো প্রজ্ঞাপনের প্রয়োজন না থাকলেও কেন শিক্ষকদের বেতন পেতে এই দেরি হচ্ছে, তা নিয়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মূলত মাদ্রাসায় কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার হিসাব নিকাশ কম্পিউটারের পরিবর্তে ম্যানুয়ালি বা হাতে-কলমে করতে হয়। অন্যদিকে স্কুল-কলেজ কিংবা কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের বেতন-ভাতার পুরো হিসাব কম্পিউটারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালিত হয়। এই ম্যানুয়াল বা হাতে-কলমে হিসাব করার জটিলতার কারণেই এমপিওভুক্ত জনবলের নতুন পে-স্কেলে বেতন পেতে বিলম্ব হচ্ছে।
নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন পেতে কিছুটা সময় লাগবে। তাঁরা আগামী নভেম্বর অথবা ডিসেম্বর মাসের মধ্যে শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন স্কেলে বেতন দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, যদিও শেষ পর্যন্ত তা নাও হতে পারে।
মাদ্রাসায় কর্মরত জনবল বাদ দিয়ে কেবল স্কুল-কলেজ ও কারিগরিতে কর্মরতদের নতুন পে-স্কেলে আগে বেতন দেওয়া যায় কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মকর্তা পরিষ্কার জানান, এটি কোনোভাবেই সম্ভব নয়। কারণ বিভাগগুলো আলাদা হলেও মন্ত্রণালয় একটাই। তাই সবাইকে একসঙ্গে রেখেই নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা প্রদান করা হবে।
এর আগে গত ১ সেপ্টেম্বর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন স্পষ্ট করে বলেছিলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদেরও নতুন বেতন কাঠামোতেই বেতন দেওয়া হবে।
বর্তমানে সারা দেশে ছয় লাখের বেশি শিক্ষক ও কর্মচারী এমপিওভুক্ত ব্যবস্থার আওতায় রয়েছেন। এর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) অধীন রয়েছেন প্রায় ৪ লাখ, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন পৌনে ২ লাখের মতো এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন রয়েছেন ২৩ হাজারের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী।
সাধারণত যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিজস্ব আয় ভালো, তারা এমপিওর বাইরেও শিক্ষক ও কর্মচারীদের অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা দিয়ে থাকে। তবে দেশের অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সেই আর্থিক সক্ষমতা না থাকায় তারা পুরোপুরি এমপিওর ওপর নির্ভর করে।
এসএইচ







































