• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

ঋণ থেকে মুক্তি পেতে জরায়ু কাটছেন ভারতের নারী শ্রমিকেরা


আন্তর্জাতিক ডেস্ক অক্টোবর ২৩, ২০২৬, ০৯:১৪ পিএম
ঋণ থেকে মুক্তি পেতে জরায়ু কাটছেন ভারতের নারী শ্রমিকেরা

ফাইল ছবি

ভারতের আখখেতের নারী শ্রমিকদের জীবন যেন এক জীবন্ত ট্র্যাজেডি। দক্ষিণ ভারতের কর্ণাটক কিংবা মহারাষ্ট্রের প্রত্যন্ত অঞ্চলের এই নারীরা ঋণ শোধ ও পরিবারের মুখে অন্ন তুলে দিতে পাঁচশ কিলোমিটারের বেশি দূরে গিয়ে দিনে ১৪ ঘণ্টা হাড়ভাঙা খাটুনি খাটেন। বিনিময়ে দৈনিক পান মোটে ৪০০ রুপি।

টয়লেট ও সুপেয় পানির সুবিধাহীন অস্থায়ী ক্যাম্পে গাদাগাদি করে থাকা এসব শ্রমিকের জীবনে ঋতুস্রাব, গর্ভাবস্থা কিংবা প্রসবকালীন ছুটির কোনো অবকাশ নেই। একদিন কাজ বন্ধ রাখলেই মজুরি কাটার খড়্গ এবং শ্রম ঠিকাদারের জরিমানা গুনতে হয়।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্টের এক প্রতিবেদনে এই নির্মম ও মর্মান্তিক চিত্র উঠে এসেছে। বিশ্বের মোট উৎপাদিত আখের ১৬ শতাংশই আসে ভারত থেকে, যা কোকা-কোলা ও পেপসিকোর মতো বিশ্বখ্যাত পানীয় জায়ান্টগুলোতে সরবরাহ করা হয়।

এই বিশাল সরবরাহ চেইনের পেছনে রয়েছে বিদ জেলার হাজার হাজার পরিযায়ী শ্রমিকের রক্ত-ঘাম। স্বামী-স্ত্রী মিলে প্রতিদিন গড়ে তিন টন আখ কাটার লক্ষ্য পূরণ করতে হয়। দলের অন্য সদস্যদের ওপর চাপ এড়াতে অসুস্থ শরীর নিয়েও নারীদের মাঠে নামতে বাধ্য হতে হয়।

মাসিক বা প্রসবকালীন যন্ত্রণার ছুটি মেলার জো না থাকায় অনেক নারী বাধ্য হয়ে চরম ও সর্বনাশা পথ বেছে নিচ্ছেন। শারীরিক এই অসহ্য যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে তারা জরায়ু কেটে ফেলার (হিস্টেরেকটমি) মতো ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।

২০১৯ সালে মহারাষ্ট্র সরকারের এক জরিপে উঠে এসেছিল, কেবল বিদ জেলাই ১৩ হাজার ৮৬১ জন নারী জরায়ু কেটে ফেলতে বাধ্য হয়েছেন, যার মধ্যে ৪৫ শতাংশের বেশি নারী পরবর্তীতে নানা শারীরিক ও মানসিক জটিলতার শিকার হয়েছেন।

সবিতা ও পূর্ণিমার মতো অনেক শ্রমিক ঋণের টাকায় অস্ত্রোপচার করিয়েও মুক্তি পাননি। উল্টো সংক্রমণ ও তীব্র পেটে ব্যথাসহ নতুন নতুন জটিলতায় তাদের জীবন আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। অথচ স্থানীয় ঠিকাদাররা দায় এড়িয়ে চলছেন এবং সরকারি নানা উদ্যোগের কথা কাগজে-কলমে থাকলেও মাঠপর্যায়ে কোনো পরিবর্তন আসেনি।

কোকা-কোলা কর্তৃপক্ষ কিছু সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার দাবি করলেও চরম বাস্তবতার বেড়াজালে বন্দি এসব নারী শ্রমিকের অবর্ণনীয় দুর্দশা কাটেনি। সর্বস্বান্ত এই মানুষগুলোর কাছে বেঁচে থাকাটাই এখন এক অন্তহীন সংগ্রামের নাম।

এসএইচ 

Link copied!