• ঢাকা
  • বুধবার, ০৪ নভেম্বর, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে পালাবদল, নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেল ডেমোক্র্যাটরা


আন্তর্জাতিক ডেস্ক নভেম্বর ৪, ২০২৬, ১১:১৬ এএম
যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে পালাবদল, নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেল ডেমোক্র্যাটরা

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় রাজনৈতিক পালাবদল ঘটেছে। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি। চারটি আসন পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছে ডেমোক্র্যাটরা। গত বছরও দলটির জন্য এমন জয়কে প্রায় অসম্ভব বলে মনে করা হচ্ছিল।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাতে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। মূলত রিপাবলিকানদের কাছ থেকে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিতে ডেমোক্র্যাটদের চারটি আসন বাড়ানোর প্রয়োজন ছিল। এর মধ্যে কয়েকটি জয় ছিল বেশ নাটকীয়।

উদাহরণ হিসেবে, সাউথ ক্যারোলাইনায় রিপাবলিকানদের দখলে থাকা একটি আসন ছিনিয়ে নিয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ও চিকিৎসক অ্যানি অ্যান্ড্রুজ। আসনটির আগের প্রতিনিধি ছিলেন রিপাবলিকান ডারলিন গ্রাহাম। তিনি দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্বে থাকা প্রয়াত সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের বোন। সাউথ ক্যারোলাইনায় সর্বশেষ ১৯৯৮ সালে কোনো ডেমোক্র্যাট সিনেট নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন।

পার্শ্ববর্তী নর্থ ক্যারোলাইনাতেও সিনেটের আসন হাতবদল হয়েছে। সেখানে সাবেক গভর্নর ও ডেমোক্র্যাট প্রার্থী রয় কুপার তার রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী মাইকেল হোয়াটলিকে হারিয়েছেন।

অন্যদিকে, রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত টেক্সাসে অপ্রত্যাশিত জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ও ধর্মতত্ত্বের শিক্ষার্থী জেমস তালারিকো। তিনি অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটনকে পরাজিত করেছেন। টেক্সাসে সর্বশেষ ১৯৯৪ সালে কোনো ডেমোক্র্যাট জয় পেয়েছিলেন।

ওহাইওতে বর্তমান রিপাবলিকান সিনেটর জন হাস্টেডকেও হারিয়েছেন ডেমোক্র্যাট শেরড ব্রাউন। এর মধ্য দিয়ে ওই আসনটিও ডেমোক্র্যাটদের দখলে এসেছে। কানসাসে ডেমোক্র্যাট ও মেগা-চার্চের যাজক অ্যাডাম হ্যামিলটন আরেক বর্তমান সিনেটর, রিপাবলিকান রজার মার্শালকে পরাজিত করেছেন।

প্রসঙ্গত, বর্তমান ১১৯তম কংগ্রেসের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে ১০০ সদস্যের সিনেটে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল ৫৩। ডেমোক্র্যাটদের ছিল ৪৫ সদস্যের সংখ্যালঘু অবস্থান। তাদের সঙ্গে জোটে ছিলেন দুজন স্বতন্ত্র সিনেটর।

তবে মঙ্গলবারের নির্বাচনী ফলাফলে সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠতার নিয়ন্ত্রণ বদলে যাচ্ছে। এই ফলাফলের মধ্য দিয়ে রিপাবলিকানদের ‘ট্রাইফেকটা’ও শেষ হতে যাচ্ছে। ২০২৪ সালের নির্বাচনে দলটি ওয়াশিংটন ডিসির ক্ষমতার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র—সিনেট, প্রতিনিধি পরিষদ ও প্রেসিডেন্টের পদ—নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিল। এবার সেই নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে তারা।

অবশ্য মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের তুলনায় সিনেটের নিয়ন্ত্রণ বদলানো কঠিন হবে বলে ধারণা করা হয়েছিল। কারণ, সিনেটে নির্বাচনের জন্য আসন ছিল তুলনামূলক কম।

সিনেটরদের মেয়াদ ছয় বছর। অন্যদিকে, প্রতিনিধি পরিষদের নির্বাচিত সদস্যদের মেয়াদ দুই বছর। সিনেটের নির্বাচনও পর্যায়ক্রমে হয়। ফলে একবারে সিনেটের মোট আসনের মাত্র এক-তৃতীয়াংশে ভোট হয়।

এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সিনেটের ৩৫টি আসনে ভোট হয়েছে। এর মধ্যে ৩৩টি ছিল নিয়মিত নির্বাচন এবং দুটি ছিল ওহাইও ও ফ্লোরিডায় বিশেষ নির্বাচন। ২০২৫ সালে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় প্রশাসনে যোগ দেয়ার পর ওই দুই রাজ্যের সিনেট আসন শূন্য হয়েছিল।

মঙ্গলবারের নির্বাচনে অন্তত সাতটি সিনেট আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা ছিল। এসব আসন ছিল আলাস্কা, আইওয়া, কানসাস, মেইন, ওহাইও, টেক্সাস ও মিশিগানে।

তবে টেক্সাস ও কানসাসের মতো অঙ্গরাজ্য সাধারণত এমন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনের তালিকায় থাকে না। কারণ, রাজ্য দুটিকে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কানসাসে সর্বশেষ ১৯৩২ সালে কোনো ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত হয়েছিলেন।

এদিকে জর্জিয়ার মতো দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্যে জন অসফের নির্বাচনী লড়াইসহ বেশ কয়েকটি আসন সফলভাবে ধরে রেখেছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। সিনেটে ১৭ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করা মার্ক ওয়ার্নারও ভার্জিনিয়ার প্রতিনিধি হিসেবে নিজের আসন ধরে রেখেছেন।

এম

Link copied!