• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

বিএনপি নেতার ‘ঘাড় থেকে মাথা সরিয়ে দেওয়ার’ হুমকি স্বেচ্ছাসেবকদল নেতার


শরীয়তপুর প্রতিনিধি নভেম্বর ৩, ২০২৬, ১২:২৪ পিএম
বিএনপি নেতার ‘ঘাড় থেকে মাথা সরিয়ে দেওয়ার’ হুমকি স্বেচ্ছাসেবকদল নেতার

ছবি : প্রতিনিধি

শরীয়তপুর: শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় জেলা শহরের কাছাকাছি স্থাপনের দাবিতে চলমান আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিরোধ নতুন মাত্রা পেয়েছে। সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব মোর্শেদ টিপু মাদবরকে উদ্দেশ করে ‘ঘাড় থেকে মাথা সরিয়ে দেওয়ার’ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আমিনুর রহমান আমান মাদবর। তার দেওয়া এমন হুমকির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা।

গত রোববার (১ নভেম্বর) সকালে শরীয়তপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে টিপু মাদবরের বিরুদ্ধে আয়োজিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বক্তব্য দেওয়ার সময় এ হুঁশিয়ারি দেন আমান মাদবর। এ সময় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা তাঁর পাশে উপস্থিত ছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, সাংবাদিকদের সামনে বক্তব্য দিচ্ছেন আমান মাদবর। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বলেন, জাতীয় সংসদের হুইপ ও শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মিয়া নুরুদ্দিন আহমেদ অপুকে নিয়ে কটূক্তির প্রতিবাদে তারা বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছেন। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দল থেকে বহিষ্কার ও গ্রেপ্তারের দাবিও জানিয়েছেন তারা।

আমান মাদবর আরও বলেন, জেলা বিএনপির নেতারা তাদের সড়ক অবরোধ তুলে নিতে বলেছেন এবং দুই-এক দিনের মধ্যে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দল থেকে বহিষ্কার ও গ্রেপ্তারের বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন। এরপর হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, মিয়া নুরুদ্দিন অপুকে নিয়ে কোনো ষড়যন্ত্র হলে, যে-ই জড়িত থাকুক এবং যত শক্তিশালীই হোক, তাঁর ঘাড় থেকে মাথা সরিয়ে দেওয়া হবে এবং তাঁকে শরীয়তপুরে অবাঞ্ছিত করা হবে।

জানা যায়, শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস জেলা শহরের কাছাকাছি স্থাপনের দাবিতে গত ২৮ অক্টোবর সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব মোর্শেদ টিপু মাদবরের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ওই কর্মসূচির পর জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহমেদ অপুকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীরা।

এর প্রতিবাদে গত ১ নভেম্বর সকালে জেলা যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের একাংশের নেতাকর্মীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। পরে শহরের প্রধান সড়ক অবরোধ করে টিপু মাদবরের বহিষ্কার ও গ্রেপ্তারের দাবি জানান তারা। এ সময় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সরদার এ কে এম নাসির উদ্দিন কালুর কাছে স্মারকলিপিও দেন বিক্ষোভকারীরা।

এদিকে, আমান মাদবরের হুমকির ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পরদিন সোমবার (২ নভেম্বর) রাতে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা-শরীয়তপুর মহাসড়কের পাশে স্থাপনের দাবিতে স্থানীয়দের নিয়ে আয়োজিত এক উঠান বৈঠকে বক্তব্য দেন টিপু মাদবর।

সেখানে নিজের ছবি পোড়ানো এবং তাঁকে ঘিরে দেওয়া হুমকির প্রসঙ্গ তুলে টিপু মাদবর বলেন, বিভিন্ন জায়গায় তাঁর ছবি তৈরি করে পোড়ানো হচ্ছে এবং তাঁকে ঘাড় নামিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। গত ১৭ বছর তিনি না থাকলে শরীয়তপুর শহরে কেউ মিছিল করার সাহস পেতেন না বলেও দাবি করেন তিনি।

২০১৮ সালে দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কর্মসূচির প্রসঙ্গ তুলে টিপু মাদবর বলেন, ওই সময় শফিকুর রহমান কিরণ, সাঈদ আহমেদ আসলাম ও কালু সরদারের বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তিনি সাহসিকতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করে তাঁদের রক্ষা করেছিলেন বলে দাবি করেন। নিজের জীবনের বড় একটি সময় রাজনৈতিক সংগ্রামে কেটেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেউ যেন তাঁকে যুদ্ধের হুংকার না দেন।

টিপু মাদবর আরও বলেন, তিনি চান শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শহরের প্রাণকেন্দ্রে স্থাপিত হোক। এ দাবির পেছনে তাঁর কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ নেই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আমিনুর রহমান আমান মাদবর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি এ ধরনের বক্তব্য দিইনি। আপনারা ভালো করে শুনেন।’ পরে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

অন্যদিকে, হুমকির ভিডিও সম্পর্কে সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব মোর্শেদ টিপু মাদবর বলেন, তাঁকে উদ্দেশ করে দেওয়া হুমকির ভিডিওটি তিনি দেখেছেন। এ ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের স্থান নির্ধারণ নিয়ে শুরু হওয়া আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অবস্থান এবং প্রকাশ্যে এমন হুমকির ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

পিএস

Link copied!