• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২৪ জুন, ২০২১, ১১ আষাঢ় ১৪২৮
abc constructions

নারীদের স্ট্রেচ মার্ক কি? যেভাবে প্রতিকার করবেন


নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৯, ২০২১, ১২:৪৯ পিএম
নারীদের স্ট্রেচ মার্ক কি? যেভাবে প্রতিকার করবেন

ফাইল ফটো

ঢাকা: ত্বকে ফাটা দাগ বা স্ট্রেচ মার্ক। এই দাগ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নারীদের হতে দেখা যায়। সাদা রেখার মতো এ দাগগুলো ঘাড়ে, বগলে, পেটে, কোমরে, উরুতে, নিতম্বে কিংবা স্তনে হয়ে থাকে। যা খুবই বিচ্ছিরি দেখায়। ওজন বৃদ্ধি ছাড়াও গর্ভাবস্থায় দেহে ফাটা দাগ বা স্ট্রেচ মার্ক হতে পারে। কারণ গর্ভধারণের সময় নারী শরীরে বিভিন্ন রকম পরিবর্তন আসে। তারমধ্যে একটি পরিবর্তন হচ্ছে স্ট্রেচ মার্ক। গর্ভাবস্থায় এই ধরণের দাগ হওয়া অনিবার্য। বহু নারী এই স্ট্রেচ মার্ক দেখে সন্তান প্রসবের আনন্দ ভুলে উল্টো বিষন্নতাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। তবে শুধু নারী নন, পুরুষেরও স্ট্রেস মার্ক হতে পারে।

দেখতে কেমন?

স্ট্রেচ মার্ক দেখতে লম্বা লম্বা সাদা ফাটা দাগের মতো। কখনো কখনো রঙ পাল্টে এরা লালচে বা বেগুনি রঙেরও হয়।

কেন হয়?

এই সমস্যা মুলত বাড়তি ওজনের কারণে হয়। শরীরের আয়তন বেড়ে গেলে ত্বক বাড়তি আয়তন ঢাকতে প্রসারিত হয়। ফলে এই দাগের সৃষ্টি হয়। আমাদের ত্বকের মধ্যে যে একটা টান টান ভাব থাকে তা কোলাজেন নামে এক তন্তু বা ফাইবারের কল্যাণে। এই কোলাজেন তন্তু ঠিকমতো তৈরি হতে না পারলে বা ভেঙে গেলে এই ধরনের দাগ দেখা যায়। সেক্ষেত্রে আদতে ত্বকের অন্তঃস্তর দুর্বল হয়ে যায় ও ফেটে ফেটে যায়। চামড়ায় অতিরিক্ত স্টেরয়েড ক্রিম লাগালে বা অ্যাড্রিনাল গ্রন্থির গোলমালের কারণেও অতিরিক্ত স্টেরয়েড বেরলে কোলাজেন তন্তুর সমস্যা হয়।

কোথায় হয়?

আমাদের শরীরের বিভিন্ন অংশে এই ফাটা দাগগুলো দেখা যায়। পেট, কোমর, হাত, ঘাড়, হাটুর পেছনে, উরু এমনকি স্তনেও স্ট্রেচ মার্ক দেখা দেয়। তবে এরা মূলত কাঁধে বেশি হয়। আর নারীদের ক্ষেত্রে দেখা যায় স্তনের উপরিভাগে কিংবা প্রেগন্যান্সির পরে থাই বা উরুর ওপরদিকে। কুলিংস নামে একটি হরমোনের রোগ আছে। তাতেও এই ধরনের স্ট্রেচ মার্ক দেখা যায়। পুরুষদের ক্ষেত্রে এই দাগ সাধারণত কাঁধে হয়।

করণীয়

ত্বকে স্ট্রেচ মার্ক দেখা গেলে কয়েকটি জিনিস মেনে চলুন। সেগুলো হচ্ছে-

এই দাগ নির্মূল করা সম্ভব?

অবশ্যই সম্ভব। আসলে ত্বকের যেকোনো দাগই বড্ড বেশি বিরক্তিকর ও অস্বস্তিকর। স্ট্রেচ মার্ক সেদিক দিয়ে আরও একধাপ এগিয়ে। কখনো কখনো এ দাগগুলো মনে তীব্র অসন্তোষের সৃষ্টি করে। তবে এই নিয়ে অত ভাবনার কিছু নেই। কারণ স্ট্রেচ মার্কের সমস্যায় অনেকেই ভুগে থাকেন। আধুনিক চিকিত্সার কল্যাণে এই দাগ খুব সহজেই দূর করা সম্ভব।

কীভাবে দূর করবেন?

ডার্মারোলার বা মাইক্রোনিডলিং বলে এক ধরনের পদ্ধতি আছে। এতে প্রথমে লোকাল অ্যানাস্থেটিক ক্রিম লাগিয়ে কিছুটা ত্বক অবশ করে রোলারটিকে চামড়ায় বোলানো বা ঘষা হয়। এতে মরা চামড়া দূর হয় ও নতুন কোষ জন্মগ্রহণ করে, রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পায় এবং স্ট্রেচ মার্ক গঠন প্রতিহত করে। এর ফলে চার থেকে ছয় মাসের মধ্যে কিছু কোলাজেন নতুন করে তৈরি হয়। এতে স্ট্রেচ মার্ক পুরোপুরি চলে না গেলেও উন্নতি ঘটে।

সর্বাধুনিক ফ্র্যাকশনাল কার্বন ডাই অক্সাইড লেজার পদ্ধতিতেও খুব ভালো কাজ হয়। এতে লেসার রশ্মি ডারমিস বা অন্তঃস্তরে ঢোকে ও নতুন কোলাজেন তৈরিতে সাহায্য করে। প্রেগন্যান্সির পরের স্ট্রেচ মার্কেরও অনেকটাই উন্নতি হয়। অনেক সময় স্ট্রেচ মার্ক দূর করতে সার্জারিও করা হয় কারণ পূর্ববর্তী অস্ত্রোপচারের পরে শরীরে খুব চওড়া দাগ তৈরি হয় এবং ভেতরের চর্বিস্তর ফুলে বের হয়ে আসে। সেক্ষেত্রে পুনরায় সার্জারি করে দাগটি সরু করে দেয়া যায়।

ঘরোয়াভাবে প্রতিকারের দুটি পদ্ধতি-

ক্যাস্টর অয়েল

ত্বক ও চুলের জন্য ক্যাস্টর অয়েল জাদুকরী ভূমিকা রাখে। শরীরের ফাটা স্থানে ক্যাস্টর অয়েল ব্যবহারে ফলে ধীরে ধীরে দাগ দূর হয়ে যায়। এজন্য নিয়মিত ক্যাস্টর অয়েল ফাটা স্থানে ১০ থেকে ১৫ মিনিট ম্যাসেজ করে ব্যবহার করুন। এরপর পাতলা সুতি কাপড় দিয়ে ফাটা স্থান ঢেকে রাখুন এবং হিটিং প্যাড ব্যবহার করে ঢেকে রাখা স্থানে সেঁক দিন। একমাসের মধ্যেই পরিবর্তন চোখে পড়বে।

ডিমের সাদা অংশ

ডিমের সাদা অংশ ত্বকের জন্য খুবই উপকারী উপাদান। প্রোটিন এবং অ্যামিনো অ্যাসিডে ভরপুর ডিমের সাদা অংশ ত্বকের জন্য সুপারফুড। ত্বকের ফাটা দাগে নিয়মিত ডিমের সাদা অংশ ব্যবহার করলে ত্বক দ্রুত টাইট হতে থাকে। ফলে ধীরে ধীরে ত্বকের ফাটা দাগ দূর হয়ে যায়।

পাশাপাশি লেবুর রস, আলুর রস, অ্যালোভেরা জেল, এপ্রিকটস, ব্ল্যাক টি এবং অরগ্যান অয়েল ব্যবহার করতে পারেন শরীরের ফাটা স্থানে। যে উপাদানটিই ব্যবহার করুন না কেন, নিয়মিত করতে হবে। ধৈর্য্য ধরে ত্বকের যত্ন নিলে ধীরে ধীরে দাগ কমতে শুরু করবে।

পাশাপাশি খাদ্যাভাসেও পরিবর্তন আনতে হবে। ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ খাবার যেমন- বেরি, কাঁচা বাঁধাকপি, ভিটামিন সি জাতীয় ফল, কিউই ফল, বাঙ্গি, মটর, মরিচ, ব্রকলি, আনারস, পালং শাক, টমেটো, শালগম ইত্যাদি খেতে হবে। এতে শরীরের ফ্রি র‍্যাডিকেলস দূর হবে।

সোনালীনিউজ/এমএইচ

Haque Milk Chocolate Digestive Biscuit
Wordbridge School