• ঢাকা
  • সোমবার, ২৩ মে, ২০২২, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

পুরুষ না মহিলা কার ঘুম বেশি দরকার, জানালো গবেষণা


নিউজ ডেস্ক জানুয়ারি ২২, ২০২২, ০৪:৩৬ পিএম
পুরুষ না মহিলা কার ঘুম বেশি দরকার, জানালো গবেষণা

ঢাকা: ঘুম হল দৈনন্দিন কাজের ফাঁকে বিশ্রাম নেওয়ার একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। ঘুমের সময় সচেতন ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া স্তিমিত থাকে। ঘুম শরীরকে চাঙ্গা করে পরবর্তী দিনের কাজের জন্য আমাদের তৈরি করে। শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য ঠিকঠাক রাখতে পর্যাপ্ত ঘুমের কোনো বিকল্প নেই।

বয়স অনুযায়ী মানুষের ঘুমের প্রয়োজনীয় সময় ভিন্ন হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল স্লিপ ফাউন্ডেশনের পরামর্শপত্র অনুযায়ী ৬ থেকে ৯ বছর বয়সী শিশুদের রাতে অন্তত ৯-১১ ঘণ্টা ঘুমানো প্রয়োজন। ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের ৮-১০ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। ১৮ থেকে ৬৪ বছর বয়সী মানুষের রাতে ৭-৯ ঘণ্টা ঘুমানো প্রয়োজন। ৬৫ বছরের চেয়ে বেশি বয়সীদের জন্য ঘুমানো প্রয়োজন ৭-৮ ঘণ্টা।

চলতি কোভিড পরিস্থিতির কারণে অনেকে আবারো বাসা থেকে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন। বাড়ি থেকে অফিস করার যেটি প্রধান সমস্যা তা হল বাড়ি এবং অফিস একসঙ্গে সামলানো। 

এক্ষেত্রে কর্মজীবী মহিলাদের উপর বেশি চাপ পড়ে। এত কিছু সামলাতে গিয়ে ব্যঘাত ঘটে ঘুমের। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের ঘুমের প্রয়োজন বেশি।

সোসাইটি ফর উইমেন’স হেলথ রিসার্চের রিপোর্ট অনুযায়ী, ঘুমের সময় মহিলা এবং পুরুষের মধ্যে বিভিন্ন শারীরিক পরিবর্তন লক্ষণীয়।ন্যাশনাল লাইব্রেরী অফ মেডিসিন বলছে, প্রায় ৪০ শতাংশ নারী অনিদ্রায় ভুগে থাকেন।

পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের ঘুমের প্রয়োজন বেশি কেন?

প্রাথমিক কয়েকটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে জৈবিক গঠন অনুসারে পুরুষ এবং মহিলাদের ঘুমের প্রয়োজনীয়তার সামান্য পরিবর্তন থাকতে পারে। এ ছাড়া গবেষণায় বলা হচ্ছে যে ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের ঘুম অনেক বেশি সজাগ। তুলনায় ছেলেদের মধ্যে গভীর ঘুমের প্রবণতা আছে। মেয়েদের ঘুম খুব পাতলা হয়। ফলে সময় পেলেও বিভিন্ন কারণে ভেঙে যায়। 

অনেক মহিলারা যেহেতু ঘর এবং বাইরে দুটোই সামলান ফলে একটা মানসিক চাপ সব সময়ে কাজ করে তাদের মধ্যে। নিশ্চিন্তে ঘুমানোর সুযোগ কম থাকে। এ ছাড়াও হরমোনের ভারসাম্য রক্ষা, মানসিক স্বাস্থ্য ভাল রাখতে, ব্যক্তিগত জীবনযাপন ও কর্মক্ষমতা বজায়রাখতেও মহিলাদের ঘুমের প্রয়োজন বেশি।

গবেষণায় দেখা গিয়েছে অনিদ্রায় ভোগা মহিলারা উচ্চ রক্তচাপ, টাইপ ২ ডায়াবিটিস, হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যা, মানসিক বিষণ্ণতার মতো সমস্যায় পুরুষদের তুলনায় বেশি ভোগেন মহিলারা। যারা পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোমে আক্রান্ত তাদের জন্য পর্যাপ্ত ঘুম খুবই প্রয়োজন। দীর্ঘদিন ধরে ঘুমের ঘাটতি সরাসরি শরীরে এলএইচ হরমোনের নিঃসরণকে প্রভাবিত করে। এর ফলে গর্ভধারণেও অনেক জটিলতা দেখা দিতে পারে।

পর্যাপ্ত ঘুমানোর জন্য মহিলারা কী কী করবেন

১) রাত ১০টার মধ্যে ঘুমিয়ে পড়ার চেষ্টা করুন। সকাল ৭টায় উঠুন।

২) রাতে শোয়ার আগে কফি, চা, নিকোটিন এড়িয়ে চলুন।

৩) রাতে হালকা খাবার খান। শোয়ার আগে হাঁটাচলা করে নিন।

সোনালীনিউজ/এআর

Wordbridge School
Sonali IT Pharmacy Managment System