ফাইল ছবি
গত মার্চের শুরুতেই জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের রাকিব-নাছির কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। এরপর থেকেই সংগঠনের ভেতরে-বাইরে নতুন কমিটির গুঞ্জন জোরালো হয়ে উঠেছে। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার পর এই আলোচনা আরও গতি পেয়েছে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক-শীর্ষ এই দুই পদের নেতৃত্ব নির্ধারণকে ঘিরে এখন চলছে শেষ মুহূর্তের নানা সমীকরণ, লবিং ও পদপ্রত্যাশীদের ব্যাপক দৌড়ঝাঁপ।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রদলের সাংগঠনিক অভিভাবক বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া তদারকি করছেন। ক্ষমতা হারানোর দেড় যুগ পর পুনরায় ক্ষমতায় এসে ছাত্রদলের কমিটিতে যাতে কোনো বিতর্কিত বা অনুপ্রবেশকারী স্থান না পায়, সেজন্য সরকারি একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা ও নিজস্ব পর্যায় থেকে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে যাদের বিরুদ্ধে নেতিবাচক তথ্য আসবে, তারা দলের পরীক্ষিত ও ত্যাগী কর্মী হলেও শীর্ষ নেতৃত্বে স্থান পাবেন না। ফলে এবার কপাল পুড়তে পারে বেশ কয়েকজন বিতর্কিত ছাত্রনেতার।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করছেন। তিনি জানান, বিএনপির ওয়ার্ড থেকে জাতীয় পর্যায় এবং সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কমিটিতে অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী বা অরাজনৈতিক ব্যক্তিকে যুক্ত করার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। নতুন কমিটিতে পুরোনো ও পরীক্ষিত নেতৃত্বের ওপর আস্থা রাখার পাশাপাশি কঠোরভাবে শৃঙ্খলা রক্ষা করা হবে।
নতুন কমিটিতে সেশনের ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া গেছে। বর্তমান সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ২০০৬-২০০৭ সেশনের শিক্ষার্থী হওয়ায় এই ব্যাচ ও এর পরের কয়েকটি ব্যাচ এবার বাদ পড়তে পারে। অন্যদিকে অপেক্ষাকৃত জুনিয়রদেরও এখনই শীর্ষ পদে আনার সম্ভাবনা কম। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ২০০৮-০৯ থেকে ২০১২-১৩ সেশনের শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকেই এবার কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নির্বাচন করা হতে পারে। বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠের ভূমিকা, হাসিনা শাসনামলে নির্যাতন-মামলার শিকার হওয়া এবং পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তিকে এবার যোগ্যতার মূল মাপকাঠি ধরা হয়েছে। তবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের সঙ্গে পারিবারিক বা ব্যক্তিগত সংশ্লিষ্টতা থাকলে তারা সরাসরি বাদ পড়বেন।
শীর্ষ নেতৃত্বের দৌড়ে সভাপতি পদে খোরশেদ আলম সোহেল, আমানউল্লাহ আমান, মমিনুল ইসলাম জিসান এবং শরিফ প্রধান শুভর নাম জোরালোভাবে আলোচনায় রয়েছে। এছাড়া পরের ব্যাচ থেকে গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, আনিসুর রহমান খন্দকার অনিক এবং মো. তরিকুল ইসলাম তারিকও আলোচনায় আছেন।
অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে মো. রাজু আহমেদ, গাজী মো. সাদ্দাম হোসেন, মোহাম্মদ আব্দুর রহিম রনি, তারেক হাসান মামুন, মিনহাজ আহমেদ প্রিন্স, মাহমুদ ইসলাম কাজল, নাছির উদ্দিন শাওন, দ্বীন ইসলাম খান এবং নাহিদুজ্জামান শিপনের নাম শোনা যাচ্ছে। ২০১২-১৩ সেশন থেকে আলোচনায় আছেন তৌহিদুল ইসলাম।
তবে পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে অতীতে চাঁদাবাজি, অপহরণ, মারধর ও অস্ত্র ব্যবসার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, যা নিয়ে হাইকমান্ড অত্যন্ত সতর্ক। অতীতে ছাত্রদলের শীর্ষ পদে থাকা কারও কারও পরিবারের বিরুদ্ধে ভিন্ন রাজনৈতিক আদর্শের অভিযোগ থাকায়, এবার আগেভাগেই পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড কঠোরভাবে যাচাই করা হচ্ছে। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ছাত্রদলের সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমান যেকোনো মুহূর্তে চূড়ান্ত কমিটির ঘোষণা দেবেন বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এসএইচ
আপনার মতামত লিখুন :