• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

নীলফামারীতে বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী হাসপাতাল, কী থাকছে সেখানে?


নিজস্ব প্রতিবেদক জানুয়ারি ২৬, ২০২৬, ১১:৫৯ এএম
নীলফামারীতে বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী হাসপাতাল, কী থাকছে সেখানে?

উত্তরাঞ্চলের মানুষের জন্য আধুনিক ও বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে নীলফামারীতে এক হাজার শয্যাবিশিষ্ট বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী জেনারেল হাসপাতাল স্থাপনের প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, রোববার (২৫ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানায়।

২০২৬ থেকে ২০২৯ সালের মধ্যে বাস্তবায়ন

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উদ্যোগে এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে প্রকল্পটি ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে বাস্তবায়ন করা হবে।

প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৪৫৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়ন ১৭৯ কোটি ২৭ লাখ টাকা, বাকি অর্থ চীনের অনুদান সহায়তা হিসেবে পাওয়া যাবে।

প্রেস উইং জানায়, গত বছরের মার্চে চীন সফরকালে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশে একটি উন্নতমানের হাসপাতাল স্থাপনের অনুরোধ জানান চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের কাছে। তারই ধারাবাহিকতায় দ্রুত সময়ের মধ্যে এই প্রকল্পে সম্মতি দেয় চীন সরকার।

আধুনিক হাসপাতাল ও পূর্ণাঙ্গ অবকাঠামো

প্রকল্পের আওতায় নীলফামারী সদর উপজেলায় একটি ১০ তলা আধুনিক হাসপাতাল ভবন নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি নির্মিত হবে— চিকিৎসকদের জন্য ১০ তলা অধ্যাপক ও সিনিয়র ডক্টর কোয়ার্টার, ১০ তলা ডক্টরস ডরমেটরি, ২ তলা ডুপ্লেক্স ডিরেক্টরস বাংলো, দুটি ৬ তলা নার্স ডরমেটরি এবং দুটি ১০ তলা কর্মচারী কোয়ার্টার (২য় ও ৩য় শ্রেণি)। এছাড়া হাসপাতালটিতে স্থাপন করা হবে আধুনিক চিকিৎসা যন্ত্রপাতি ও সহায়ক অবকাঠামো।

বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবার সুযোগ

এই হাসপাতালে সাধারণ চিকিৎসার পাশাপাশি থাকবে নেফ্রোলজি, কার্ডিওলজি, অনকোলজি, নিউরোলজিসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত বিভাগ। এছাড়া থাকবে— আধুনিক জরুরি বিভাগ, আইসিইউ, সিসিইউ ও এইচডিইউ, উন্নত ডায়াগনস্টিক সুবিধা এবং অত্যাধুনিক অপারেশন থিয়েটার।

এর মাধ্যমে জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি রোগের চিকিৎসা নিজ জেলাতেই সম্ভব হবে।

স্বাস্থ্যখাতে কৌশলগত বিনিয়োগ

একনেক সভায় প্রকল্প অনুমোদন প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন,এই হাসপাতাল শুধু একটি অবকাঠামো নয়, এটি দেশের স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে একটি কৌশলগত বিনিয়োগ।

তিনি বলেন, এই হাসপাতাল চালু হলে রংপুর ও ঢাকা-কেন্দ্রিক হাসপাতালগুলোর ওপর চাপ কমবে এবং স্বাস্থ্যসেবার বিকেন্দ্রীকরণ বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রধান উপদেষ্টা আরও জানান, এই হাসপাতাল ভবিষ্যতে নেপাল ও ভূটানসহ পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর রোগীদেরও চিকিৎসা সেবা দিতে সক্ষম হবে। ফলে দক্ষিণ এশিয়ার স্বাস্থ্যখাতে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।

বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে হাসপাতাল পরিচালনায় উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী রাজস্ব খাতে নিয়োগ দেওয়া হবে— ৮৯৩ জন চিকিৎসক, ১ হাজার ১৯৭ জন নার্স এবং ১ হাজার ৪১০ জন অন্যান্য জনবল।

এতে স্থানীয় অর্থনীতি ও স্বাস্থ্যখাতের সক্ষমতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

নীলফামারী জেলায় প্রায় ২১ লাখ মানুষের বসবাস। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী এই জনসংখ্যার জন্য প্রয়োজন ৪,৫০০ থেকে ৬,০০০ শয্যা, অথচ বর্তমানে জেলায় কার্যকর শয্যা সংখ্যা অত্যন্ত কম।

বর্তমানে জেলার মানুষ প্রধানত ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নীলফামারী জেনারেল হাসপাতাল ও উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ওপর নির্ভরশীল। এসব প্রতিষ্ঠানে আইসিইউ, ডায়ালাইসিস, ক্যান্সার ইউনিট, নিউরো ও কার্ডিয়াক কেয়ারসহ বিশেষায়িত সেবার ঘাটতি রয়েছে।

ফলে গুরুতর রোগীদের বাধ্য হয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে হয়, যা সময়, ব্যয় ও ঝুঁকি বাড়ায়।

নতুন এই হাসপাতাল চালু হলে লক্ষ লক্ষ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় ও ভোগান্তি কমবে, সময়মতো জীবনরক্ষাকারী সেবা নিশ্চিত হবে এবং উত্তরাঞ্চলের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এম

Wordbridge School
Link copied!