• ঢাকা
  • বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

এক ধাপেই বাস্তবায়ন চান সরকারি কর্মচারীরা, কল্যাণ সমিতির দুই প্রস্তাব


নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৬, ২০২৬, ১২:২৩ পিএম
এক ধাপেই বাস্তবায়ন চান সরকারি কর্মচারীরা, কল্যাণ সমিতির দুই প্রস্তাব

ফাইল ছবি

নবম জাতীয় পে স্কেল নিয়ে সরকারকে দুই দফা প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি। নতুন পে স্কেলে শতভাগ মূল বেতন এক ধাপেই বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। 

সোমবার (৬ জুলাই) এক ভিডিও বার্তায় সমিতির আহ্বায়ক আব্দুল মালেক এই প্রস্তাবের কথা তুলে ধরেন। এ সময় তিনি কর্মচারীদের ২২ লাখ পরিবারের দুঃখ, অভাব-অভিযোগ এবং মৌলিক অধিকার সরকার বাস্তবায়ন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

ভিডিও বার্তায় আব্দুল মালেক বলেন, সরকারি কর্মচারীরা আজকে হতাশাগ্রস্ত। দীর্ঘদিন ধরে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সাথে পেরে উঠতে পারছে না নিম্ন বেতনভুক্ত কর্মচারীরা। অধিকাংশ কর্মচারীই এখন ধারদেনায় জর্জরিত হয়ে পড়েছেন। ১১ বছর পর দুটি পে স্কেল পাওয়ার সময় অতিবাহিত হওয়ার পর, সেই দুটি পে স্কেলের সমন্বয় করে নবম পে স্কেল হতে যাচ্ছে। দুটির সমন্বয়ে জাতীয় বেতন কমিশনের কাছে সর্বনিম্ন ৩৫ হাজার টাকা চাওয়া হয়েছিল।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, জাতীয় বেতন কমিশন চুলচেরা বিশ্লেষণ করে যাচাই-বাছাই শেষে সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা প্রস্তাব করে সরকারের কাছে জমা দিয়েছে। বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতিসহ বিভিন্ন সংগঠন সেই ২০ হাজার টাকার প্রস্তাবের প্রতি সম্মান জানিয়েছে। ২২ লাখ পরিবারের কথা চিন্তা করে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরও এই সংগঠনটি বিভিন্নভাবে দাবিদাওয়া উপস্থাপন করে চলেছে।

২২ লাখ পরিবারের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে সমিতির আহ্বায়ক বলেন, ১১ বছর পর যে পে স্কেলটা পেতে যাচ্ছি, সর্বনিম্ন প্রস্তাবিত ২০ হাজার টাকা হিসেবে পুরো মূল বেতনটা যাতে একবারেই দেওয়া হয়। কারণ মূল বেতন যদি ভেঙে ভেঙে দেওয়া হয়, তবে নানা জটিলতা তৈরি হয় এবং কর্মচারীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হন।

তিনি জানান, প্রথম ধাপে বা একবারে পুরো মূল বেতনটা চান তারা। আর অন্যান্য যে ভাতা রয়েছে, সেগুলো দ্বিতীয় ধাপে দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানান। তবে সরকারের বা রাষ্ট্রের যদি কোনো অর্থনৈতিক অসঙ্গতি বা সমস্যা থাকে, সে ক্ষেত্রে দ্বিতীয় আরেকটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই দ্বিতীয় প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম ধাপে মূল বেতন পুরোটাই দেওয়া যেতে পারে, দ্বিতীয় ধাপে দেওয়া যেতে পারে বাড়ি ভাড়া ভাতা এবং তৃতীয় ধাপে অন্যান্য ভাতাগুলোকে সংযোজন করা যেতে পারে।

তার ভাষ্যমতে, এমনটি করা হলে কর্মচারী অঙ্গনে কোনো আপত্তি থাকবে না। কিন্তু প্রথম ধাপে মূল বেতনটা একবারে দেওয়ার কোনো বিকল্প নেই। পারিবারিক সচ্ছলতা এবং দ্রব্যমূল্যের সাথে তাল মিলিয়ে চলার স্বার্থে মূল বেতন একবারেই বাস্তবায়ন চান তারা।

সমিতির পক্ষ থেকে সরকারের কাছে তুলে ধরা দুই প্রস্তাবের প্রথমটিতে বলা হয়েছে, মূল বেতন শতভাগ একবারে বাস্তবায়ন করে দ্বিতীয় ধাপে সব ভাতা দেওয়া হোক। আর দ্বিতীয় প্রস্তাবে বলা হয়েছে, প্রথম ধাপে মূল বেতন একবারে দিয়ে দ্বিতীয় ধাপে বড় অঙ্কের ভাতা অর্থাৎ বাড়ি ভাড়া ভাতা এবং তৃতীয় ধাপে অন্যান্য ভাতা সংযোজন করা যেতে পারে।

দেশকে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে আব্দুল মালেক বলেন, বর্তমানে যে সরকার ক্ষমতায় আছে, সে সরকারকে সর্বাধিকভাবে সহযোগিতা করতে চান তারা। দেশকে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে যেতে চান। তবে দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করে কর্মচারী অঙ্গনে যে অসন্তোষ এবং নাভিশ্বাস তৈরি হয়েছে, তা দূর করার জন্য সরকারের কাছে বিনীত অনুরোধ জানান তিনি।

দ্রুত প্রজ্ঞাপন দিয়ে কর্মচারী অঙ্গনে স্বস্তি ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সাধারণ কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, এই দাবি বা কথাগুলো যদি আপনাদের হয়ে থাকে, তাহলে তা প্রচার করে সরকারের নজরে আনার চেষ্টা করবেন। সেখানে আপনাদের মতামত তুলে ধরবেন, যাতে সরকার কর্মচারীদের ২২ লাখ পরিবারের দুঃখ, অভাব-অভিযোগ এবং মৌলিক অধিকারের বিষয়টি বুঝতে পারে।

এসএইচ 

Link copied!