• ঢাকা
  • সোমবার, ০২ নভেম্বর, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

বন্ধ ৫২৯ কারখানা, পোশাকশিল্পে অস্থিরতার নেপথ্যে কী?


নিজস্ব প্রতিবেদক নভেম্বর ২, ২০২৬, ১১:৩৩ এএম
বন্ধ ৫২৯ কারখানা, পোশাকশিল্পে অস্থিরতার নেপথ্যে কী?

ফাইল ছবি

দেশের প্রধান রফতানি আয়ের উৎস তৈরি পোশাকশিল্পে ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে সৃষ্ট তীব্র অসন্তোষের জেরে বড় ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের প্রধান শিল্পাঞ্চলগুলোতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ, কর্মবিরতি, সড়ক অবরোধ ও সংঘর্ষের ঘটনায় একযোগে ৫২৯টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। কাজে যোগ দেননি প্রায় ১০ লাখ শ্রমিক।

গত কয়েক দিন ধরে চলা এই আন্দোলনের ফলে মিরপুর, সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর ও ময়মনসিংহের বিভিন্ন এলাকায় চরম জনভোগান্তি ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। শ্রমিকদের মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে মাসিক ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকায় উন্নীত করা, বকেয়া বেতন পরিশোধ, যথেচ্ছ ছাঁটাই ও কালো তালিকাভুক্তি বন্ধ করা, নিয়োগপত্র প্রদান এবং দৈনিক আট ঘণ্টা কর্মদিবস নিশ্চিত করা। বর্তমান বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, বাসাভাড়া ও অন্যান্য জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান ১২ হাজার ৫০০ টাকার মজুরিতে টিকে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়েছে বলে দাবি করছেন শ্রমিকরা।

আন্দোলনের একপর্যায়ে মিরপুর ও গাজীপুরসহ বিভিন্ন স্থানে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষ, যানবাহন ও পুলিশ বক্সে ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিপেটা, কাঁদানে গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে। এই পরিস্থিতির পেছনে রাজনৈতিক ইন্ধন ও বহিরাগতদের অনুপ্রবেশ রয়েছে বলে অভিযোগ করেছে সরকার।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, পোশাক খাতকে অস্থিতিশীল করতে এবং দেশের ভেতরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য একটি চক্র অপতৎপরতা চালাচ্ছে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক কর্মীকেও আটক করা হয়েছে।

এদিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে রবিবার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখা এবং জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়। এর আগে গতকাল সকালেই পোশাক শ্রমিকদের নতুন নিম্নতম মজুরি নির্ধারণের জন্য ছয় সদস্যের একটি মজুরি বোর্ড গঠন করে গেজেট প্রকাশ করে শ্রম ও মন্ত্রণালয়।

মালিকপক্ষ ও শ্রমিক নেতারা উভয় পক্ষই সংকট নিরসনে দ্রুত আলোচনার ওপর জোর দিয়েছেন। নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ এবং বিজিএমইএর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় শ্রমিকদের চাপের বিষয়টি যেমন অনুমেয়, তেমনই বৈশ্বিক মন্দা ও উৎপাদন ব্যয়ের চ্যালেঞ্জগুলোও মাথায় রাখতে হবে। কারখানা ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলা বন্ধ করে শ্রমিকদের দ্রুত কাজে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের শীর্ষ নেতারাও।

এসএইচ 

Link copied!