• ঢাকা
  • রবিবার, ১৬ জুন, ২০২৪, ১ আষাঢ় ১৪৩১
গণমাধ্যমে সম্পাদক

রাত পোহাবার কত দেরি?


নিয়ন মতিয়ুল জুন ২২, ২০২৩, ১২:২১ পিএম
রাত পোহাবার কত দেরি?

ঢাকা : কিছুদিন আগে এক কাজে বসুন্ধরায় যাই। ফেরার পথে পুরোনো এক সহকর্মীকে ফোনে না পেয়ে তার অনলাইন অফিসে ঢুকি। তখন প্রচণ্ড গরম। পিয়ন বললো, বার্তাপ্রধান স্যারের আজ ডে অফ, আসবেন না। হতাশ হয়ে ওয়েটিংরুমের এসিতে কিছুক্ষণ জিরিয়ে নিচ্ছিলাম। হঠাৎ মনে হলো, আরে এখানকার সম্পাদক তো একজন কবি, লেখক। দেখা করা যায় কি?

পিয়নকে আমার ভিজিটিং কার্ড পাঠিয়ে সাক্ষাৎ করতে চাইলাম। কিছুক্ষণ পর পিয়ন সম্পাদকের রুম থেকে বেরিয়ে কার্ডটি ফেরত দিল। বললো, স্যার আপনাকে এডমিন ম্যাডামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে বলেছেন। চাকরির ব্যাপারে ম্যাডাম ভালো বলতে পারবেন! আমি তো পুরোই হতবাক। পিয়নকে বললাম, উনি কি মনে করছেন আমি চাকরি চাইতে এসেছি? পিয়ন বললো, জি।

এসির ঠাণ্ডা হওয়া কেমন গরম বোধ হতে লাগলো। আমার ঘরের কবি, লেখককে ফোন দিলাম, জানালাম ঘটনাটি। সে বললো, তুমি কেন উনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চাইছো? উনি তো কবি-সাহিত্যিকদের মধ্যে প্রচণ্ড অহংকারী, বেয়াদব। গণমাধ্যমের সম্পাদক হয়ে আকাশে উড়ছেন। বের হয়ে ভাবছি, ভদ্রলোক অফিসের কাজ বাদ দিয়ে ক্ষণে ক্ষণে ফেসবুকে আপডেট দেন। সাহিত্যের জ্ঞান বিতরণ করেন। সেই ব্যস্ততায় ডুবে থাকার জন্যই হয়তো এমনটা ভেবেছেন!

২.
দেশের শীর্ষ জনপ্রিয় পত্রিকা থেকে আসা এক সাংবাদিকদের সম্পাদনায় বছর দেড়েক আগে একটি গণমাধ্যমের যাত্রা শুরু হয়েছিল। টিম ছিল একেবারেই তারকাসমৃদ্ধ। আত্মপ্রকাশের আগেই যেটা আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছিল। তবে উদ্বোধনের কয়েক মাসেই কেমন ঝিমিয়ে পড়ে। প্রবল কৌতুহল নিয়ে পরিচিত একজনের কাছে কারণ জানতে চাইলাম। সে বললো, সবাই বস হলে কর্মী হবে কে? ‘অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট’ ভাইয়া।

কিছুদিন আগে আমার সুযোগ হলো সেই তারকা সম্পাদকের সামনে বসার। আমার ‘গণমাধ্যম অন্দরের ইতি-নেতি’ বইটি হাতে দিয়ে বললাম, ভাই, আপনারা কিন্তু গণমাধ্যমের সংকটকালীন ‘আইডল’। কিন্তু আপনার টিম ভেঙে গেল কেন? একটু যদি ইঙ্গিত দিতেন। বলতে পারেন, এটা আমার নিষ্পাপ কৌতুহল। তিনি শীতল, নির্বিকার দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকালেন। প্রশ্নটি এড়িয়ে বললেন, তেমন কিছু নয়। আমিই ছেড়ে এসেছি। টিউনিং না হওয়ায় কিছুক্ষণ একপাক্ষিক বক বক করে চলে এলাম। সঙ্গী বললো, উনি একজন ভালো লেখক, সাহিত্যিক। ফেসবুকে ব্যাপক সক্রিয়।  

৩.
দেশে মূলত ভালো, উদ্যমী, সৃজনশীল, নির্মোহ সম্পাদকের সংকট যাচ্ছে। সম্পাদকদের বেশিরভাগই সুবিধাবাদী, স্বার্থপর, স্বেচ্ছাচারি, দলদাস, অপেশাদার ও প্রবলরকম আধিপত্য ও উপনিবেশবাদী দৃষ্টিভঙ্গির। বিশেষ করে আধুনিক গণমাধ্যম ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে প্রায় সবাই জিরো ঘিলুর অধিকারী। যে কারণে প্রায় প্রতিটি হাউজে তেলবাজি, দলাদলি, রেষারেষি, মানসিকপীড়ন, নোংরা পলিটিক্সের কারণে গণমাধ্যমকর্মীরা হাইপারটেনশনের রোগী হয়েছেন, হচ্ছেন।

লেখক : সাংবাদিক
(গণমাধ্যম ভাবনা: ২২ জুন, ২০২৩। ঢাকা)

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব ভাবনার প্রতিফলন। সোনালীনিউজ-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে লেখকের এই মতামতের অমিল থাকাটা স্বাভাবিক। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য সোনালীনিউজ কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না। এর দায় সম্পূর্ণই লেখকের।

Wordbridge School
Link copied!