ঢাকা: বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘উন্নয়নের নামে আওয়ামী লীগ সরকারের সর্বগ্রাসী দুর্নীতি, আর ঋণ করে ঘি খাওয়ার পরিণতিতে দেশ এখন ঋণের চাকায় পিষ্ট। বেশ কিছুকাল থেকেই তারল্য সংকটে পড়ে দেশের অনেক ব্যাংক ধার করে চলছে।’
আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় বিএনপির চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি ও উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোসহ চলমান সরকার পতনের একদফার আন্দোলনের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দেশের সাধারণ মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে পারে না, হত দরিদ্র মানুষ পেট ভরে দু’বেলা খেতে পারে না, অন্যদিকে আওয়ামী স্বৈরশাসকেরা উন্নয়নের গালগল্প করে দেশটিকে ঋণের জালে জর্জরিত করে দেউলিয়ার পথে ঠেলে দিয়েছে। উন্নয়নের নামে আওয়ামী লীগ সরকারের সর্বগ্রাসী দুর্নীতি, আর ঋণ করে ঘি খাওয়ার পরিণতিতে দেশ এখন প্রায় ২০ লক্ষ কোটি টাকা ঋণের চাকায় পিষ্ট। কিন্তু সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব, ভ্রান্তনীতি গ্রহণ, নীতির সমন্বয়হীনতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির অভাব, সর্বোপরি লাগামহীন দুর্নীতির কারণে বাংলাদেশ সংকট থেকে বের হতে পারছে না।’
তিনি বলেন, ‘বেশ কিছুকাল থেকেই তারল্য সংকটে পড়ে দেশের অনেক ব্যাংক ধার করে চলছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের একপ্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যাংক খাতে অতিরিক্ত তারল্য কমে ৩ হাজার ৯০৯ কোটি টাকায় নেমেছে। এক বছর আগেও যা ২ লাখ ৩ হাজার ৪৩৫ কোটি টাকা ছিল। বিশেষ করে শরিয়াহ্ভিত্তিক পরিচালিত পাঁচটি ব্যাংক নিয়মিত সিআরআর রাখতে ব্যর্থ হয়ে জরিমানায় পড়েছে। এ সময়ে নিরাপত্তার কথা ভেবে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে টাকা তুলে হাতে রাখছেন অনেকে। কিন্তু তারল্য সংকটে অনেক ব্যাংক আমানতকারির নিজস্ব আমানতের এমনকি ১ লক্ষ টাকার চেকও অনার করতে পারছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। অপরদিকে তারল্য সংকটের কারণে ব্যাংকিং সেক্টর থেকে লোন দেয়া সংকুচিত হয়ে পড়েছে।’
বিভিন্ন পত্রিকার প্রতিবেদন তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের রিপোর্ট অনুযায়ী, গত জুন শেষে মূলধন ঘাটতিতে থাকা ব্যাংকের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫। মার্চে এ সংখ্যা ছিল ১১। মূলধন ঘাটতির পরিমাণ ৩৩ হাজার ৭৪৪ কোটি টাকা। মূলধন ঘাটতি দ্রুত বেড়েই চলেছে। আর আমানতকারীদের আমানতের ঝুঁকি আশংকাজনকভাবে বাড়ছে।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘রাষ্ট্রের অন্য সকল খাতের মত ব্যাংক খাতের প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসনকেও ধ্বংস করেছে তারা। কোন ব্যাংক লাইসেন্স পাবে কি না, টিকে থাকবে কি না তার অনেকখানিই নির্ভর করে ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর আশীর্বাদ পাওয়া বা না পাওয়ার ওপর।’
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘বর্তমান দূর্নীতিবাজ সরকারের সময় কানাডার বেগমপাড়া, মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোম, দুবাই, আমেরিকার বিভিন্ন স্টেট ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ এবং বেলারুশ সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ ও সরকারের আশীর্বাদপুষ্ট অনেকে জমি ও বাড়িঘর ক্রয় করে বিলাসবহুল জীবনযাপন করছে। এদিকে দেশের মানুষ আরও গরীব হচ্ছে।’
এমএস


























-20260722160634.jpg)







-20260725114857.jpg)




