ছবি: সংগৃহীত
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও নাছির উদ্দীন নাছির নেতৃত্বাধীন কমিটির মেয়াদ গত ১ মার্চ দুই বছর পূর্ণ হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে সংগঠনটির নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের আলোচনা ও তৎপরতা জোরদার হয়েছে।
ছাত্রদলের অলিখিত গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ দুই বছর। বিশ্ববিদ্যালয় ও জেলা পর্যায়ের কমিটির মেয়াদ এক বছর হলেও বাস্তবে অনেক কমিটি দীর্ঘ সময় ধরে বহাল থেকেছে। সর্বশেষ পাঁচটি কেন্দ্রীয় কমিটির মধ্যে চারটিরই মেয়াদ দুই বছরের কম–বেশি সময় স্থায়ী হয়েছে। এর মধ্যে রাজীব–আকরাম কমিটি প্রায় পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করেছিল।
২০২৪ সালের ১ মার্চ রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে সভাপতি ও নাছির উদ্দীন নাছিরকে সাধারণ সম্পাদক করে সাত সদস্যের আংশিক কেন্দ্রীয় কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে একই বছরের ১৫ জুন ২৬০ সদস্যের আংশিক পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। তবে ওই কমিটিতে শীর্ষ দুই নেতার ঘনিষ্ঠদের প্রাধান্য দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এতে পরীক্ষিত ও ত্যাগী অনেক নেতা পদ না পাওয়ায় সংগঠনের ভেতরে অসন্তোষ দেখা দেয় এবং পদবঞ্চিতদের আন্দোলনের ঘটনাও ঘটে।
মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নতুন নেতৃত্বকে ঘিরে সংগঠনের ভেতরে নানা সমীকরণ, লবিং ও আলোচনা শুরু হয়েছে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক-এই দুই গুরুত্বপূর্ণ পদকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইতিমধ্যে তদবির ও রাজনৈতিক যোগাযোগ বাড়িয়েছেন। দলীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠান, ক্যাম্পাসে আড্ডা, ইফতার ও কর্মী সমাবেশের মাধ্যমে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন তারা। পাশাপাশি অতীতের আন্দোলন–সংগ্রাম, মামলা–হামলা ও নির্যাতনের অভিজ্ঞতাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরছেন।
সংগঠন সূত্র বলছে, নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। যেকোনো সময় নতুন কমিটি ঘোষণা হতে পারে। সম্ভাব্য সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে অন্তত ডজনখানেক নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে।
সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আমানউল্লাহ আমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম জিসান এবং প্রচার সম্পাদক শরিফ প্রধান শুভ। তারা সবাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০৯–১০ সেশনের শিক্ষার্থী। একই সেশন থেকে বর্তমান সহসভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি খোরসেদ আলম সোহেলের নামও আলোচনায় রয়েছে।
অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় আছেন কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক রাজু আহমেদ, গাজী মো. সাদ্দাম হোসেন, মিনহাজ আহমেদ প্রিন্স, তারেক হাসান মামুন এবং তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মাহমুদ ইসলাম কাজল। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাবেক নেতা ও বিএনপি মিডিয়া সেলের যোগাযোগ সমন্বয়ক দ্বীন ইসলাম খানও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের বর্তমান কমিটির কয়েকজন নেতার নামও সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে আছেন শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন, সহসভাপতি আনিসুর রহমান খন্দকার অনিক ও নাছির উদ্দীন শাওন।
দলীয় নেতারা বলছেন, নতুন নেতৃত্ব বাছাইয়ে আন্দোলন–সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং ছাত্রসমাজের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতাকে গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে। তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে নেতৃত্ব গঠনের বিষয়টিও বিবেচনায় থাকতে পারে।
বিএনপির সাবেক কেন্দ্রীয় শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, বর্তমান প্রজন্ম জেন–জি। ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্বে এমন নেতাদের আসা উচিত, যারা এই প্রজন্মের প্রত্যাশা বুঝতে পারবে এবং শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব গড়ে তুলতে পারবে।
তবে সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য করতে রাজি হননি সংগঠনের দায়িত্বশীল নেতারা। তারা জানান, ছাত্রদলের সাংগঠনিক অভিভাবক বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানই নতুন নেতৃত্বের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।
এসএইচ







































