• ঢাকা
  • রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২০, ১০ কার্তিক ১৪২৭
Sonalinews.com

ডিসেম্বরের মধ্যে কমিটি পুনর্গঠন, মার্চে কাউন্সিল


নিজস্ব প্রতিবেদক সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২০, ০৩:৪১ পিএম ডিসেম্বরের মধ্যে কমিটি পুনর্গঠন, মার্চে কাউন্সিল

ঢাকা : আগামী বছর মার্চে দলের সপ্তম জাতীয় কাউন্সিল করার চিন্তা-ভাবনা করছে বিএনপি। সারা দেশে কমিটি পুনর্গঠনের কাজ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করতে চায় দলটি। ইতোমধ্যে থানা-পৌর-ইউনিয়নসহ সব পর্যায়ের কমিটির হালনাগাদ তথ্য চেয়ে জেলা নেতাদের কাছে চিঠি দেয়া হয়েছে।

মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির ক্ষেত্রে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কমিটি দেয়ার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকরা মৌখিকভাবে নির্দেশনাও দিয়েছেন। বিএনপির দায়িত্বশীল একাধিক নেতা এসব তথ্য জানিয়েছেন।

দলীয় সূত্র জানায়, যেসব জেলার নেতারা ইতোমধ্যে কেন্দ্রের নির্দেশনা মেনে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সব পর্যায়ের কমিটি গঠন করেছেন তাদের মূল্যায়ন করবে বিএনপির হাইকমান্ড। নারায়ণগঞ্জ, লক্ষ্মীপুর ও ফরিদপুরে এক বছরের বেশি সময় ধরে বিএনপির জেলা কমিটি নেই। এগুলোতে আহ্বায়ক কমিটি গঠনের কাজ চলছে। অক্টোবরে ঘোষণা করা হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় জানান, সাংগঠনিক কার্যক্রম জাতীয় কাউন্সিলের একটা অংশ। প্রতিটি জেলা, উপজেলা বা থানার সব ইউনিট জাতীয় কাউন্সিলের আগে সম্পন্ন করতে হয়। এটি ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। তবে বিশ্ব ও বাংলাদেশে স্বাভাবিক পরিস্থিতির জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, পুনর্গঠন একটি চলমান প্রক্রিয়া। করোনার কারণে সাংগঠনিক কার্যক্রম দীর্ঘদিন স্থগিত থাকার পর তা আবার শুরু হয়েছে। যথাসময়ে পুনর্গঠনের কাজ শেষ করা হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিএনপির ৮২টি সাংগঠনিক জেলা শাখার বেশিরভাগের পূর্ণাঙ্গ ও আংশিক কমিটি রয়েছে। এরমধ্যে ২৭টির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হলেও সেগুলোর মেয়াদ শেষ। মাদারীপুরের জেলা কমিটির সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। রাজশাহী মহানগর, বরিশাল মহানগর, পটুয়াখালীসহ বেশ কিছু জেলা শাখা বহু আগে মেয়াদোত্তীর্ণ হলেও এখন পর্যন্ত নতুন কমিটি গঠন করতে পারেনি।

পূর্ণাঙ্গ কমিটির মধ্যে গাজীপুর, লালমনিরহাট, খাগড়াছড়ি, সুনামগঞ্জ, জামালপুর, মেহেরপুর, গাইবান্ধা, মৌলভীবাজার, কুষ্টিয়া, সিরাজগঞ্জ, জয়পুরহাট, শেরপুর জেলা কমিটির মেয়াদ আরও রয়েছে। এ অবস্থায় আবারও পুনর্গঠনের কাজ শুরু হয়েছে।

একাধিক নীতিনির্ধারক জানান, দল পুনর্গঠন নিয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনা হল- মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা কমিটি ৩ মাসের জন্য প্রথমে আহ্বায়ক কমিটি করা হবে। তারা ইউনিয়ন-থানাসহ সংশ্লিষ্ট জেলার সব পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে অথবা সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে নেতৃত্ব বের করবেন। সব শেষে জেলা কাউন্সিল করে ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন করবেন।

এদিকে, জেলা কমিটি গঠনে সংশ্লিষ্ট বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জেলার নেতারা তাদের ইউনিট কমিটি করেছেন কিনা তাও দেখভাল করছেন দায়িত্বপ্রাপ্তরা। করোনা মহামারীর কারণে প্রায় ৬ মাস কমিটি গঠন ও পুনর্গঠনসহ সাংগঠনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকার পর ২০ সেপ্টেম্বর থেকে আবার শুরু করেছে বিএনপি। সব পুনর্গঠনের কাজ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করতে চায় দলটি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বলেন, সর্বশেষ ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল হয়। দলটির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জাতীয় নির্বাহী কমিটি ৩ বছরের জন্য নির্বাচিত হয় এবং পরবর্তী জাতীয় নির্বাহী কমিটি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত কমিটিই দায়িত্ব পালন করে। গত বছরের মার্চে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। কিন্তু দলের চেয়ারপারসন কারাগারে থাকা, করোনাভাইরাসসহ বিভিন্ন কারণে মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও কাউন্সিলের উদ্যোগ নেয়া হায়নি। আগামী বছরের মার্চে জাতীয় কাউন্সিল করার টার্গেট নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।

বেশ কয়েকটি জেলা কমিটির পুনর্গঠন কাজে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সন্তুষ্ট বলে জানা গেছে। এরমধ্যে গাজীপুর মহানগর বিএনপির বর্তমান কমিটি কাউন্সিলের মাধ্যমে আটটি থানার মধ্যে ছয়টির কমিটি দিয়েছে। বাকি দুটির কমিটিও শিগগিরই গঠন করা হবে। এছাড়া ৫৭টি ওয়ার্ডের কমিটিও করা হয়েছে। মহানগরের একজন সহ-সভাপতি বলেন, বর্তমান কমিটি দায়িত্ব নেয়ার পর যে চমক দেখিয়েছে তাতে নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত। আন্দোলন-সংগ্রামে বর্তমান নেতৃত্বের ভূমিকাও প্রশংসনীয়। কেন্দ্র ঘোষিত প্রতিটি কর্মসূচি সফলভাবে পালন করেছে কমিটি।

জানতে চাইলে গাজীপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা হাসান উদ্দিন সরকার বলেন, জেলা থেকে মহানগরের স্বতন্ত্র নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা দারুণ উজ্জীবিত। আমরা দায়িত্ব নেয়ার পর নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও দ্রুততার সঙ্গে সব ওয়ার্ডের কমিটি করেছি। ছয়টি থানা কমিটি করেছি।

সাধারণ সম্পাদক আলহাজ মো. সোহরাব উদ্দিন বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আমাদের ওপর আস্থা রেখে দায়িত্ব দিয়েছেন। আমরা প্রাণপণ চেষ্টা করছি দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে। সবার সহযোগিতায় কাউন্সিলের মাধ্যমে থানা কমিটি করেছি। সবক’টি ওয়ার্ড কমিটিও করেছি। সঠিক, ত্যাগী ও যোগ্য নেতাকর্মীরা এসব কমিটিতে স্থান পাওয়ায় তৃণমূলে বিএনপিতে নতুন করে প্রাণ সঞ্চার হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সবচেয়ে বড় বিষয় হল- দায়িত্ব পাওয়ার পর আমরা নেতাকর্মীদের মধ্যে শক্তিশালী বন্ধন তৈরির ওপর জোর দিয়েছিলাম। নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করে গাজীপুর মহানগরকে শক্তিশালী করতে দিন-রাত কাজ করছি। আমরা সফল হয়েছি বলে মনে করি। আগামী দিনে গাজীপুর মহানগরকে কিভাবে মডেল ইউনিট করা যায়- তা নিয়েও কাজ চলছে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে আমরা সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করে কাজ করে যাব।

পুনর্গঠনের বিষয়ে রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, রাজশাহী, বগুড়া, নওগাঁসহ আরও কয়েকটি জেলার নেতারা খুব ভালো কাজ করছেন। বিভাগের অর্ধেক পুনর্গঠনের কাজ শেষ হয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে সব কাজ শেষ করার জন্য মৌখিক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

ঢাকা বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ বলেন, পুনর্গঠনের কাজ দ্রুত শেষ করা হবে বলে আশা করছি। ফরিদপুর বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিমুজ্জামান সেলিম বলেন, আশা করছি শিগগিরই পুনর্গঠনের কাজ শেষ হবে।

বগুড়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ বলেন, এ জেলার অধীনে ১২টি উপজেলা ও ১২টি পৌরসভা আছে। এছাড়া ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন তো রয়েছে। পুনর্গঠনের অর্ধেক কাজ ইতোমধ্যে হয়েছে। আশা করছি সব কাজ শেষ করে ডিসেম্বরে জেলা সম্মেলন করতে পারব।

গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এম মনছুর আলী বলেন, ইতোমধ্যে সব ইউনিয়ন কমিটি করেছি। এছাড়া চারটি পৌর ও একটি থানা কমিটিও করেছি। অনুমতি না পাওয়ায় এবং করোনার কারণে বাকি কমিটি করতে পারেনি। তবে শিগগিরই সব কমিটি গঠনের কাজ শেষ করা হবে।

সোনালীনিউজ/এমটিআই

Side banner