• ঢাকা
  • শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

আর্জেন্টিনা ম্যাচে রেফারি নিয়ে ফিফার অভিনব ও কৌশলগত নতুন নিয়ম


ক্রীড়া ডেস্ক জুলাই ১১, ২০২৬, ১০:১১ এএম
আর্জেন্টিনা ম্যাচে রেফারি নিয়ে ফিফার অভিনব ও কৌশলগত নতুন নিয়ম

বিশ্বকাপ ফুটবলের আসর যত গড়াচ্ছে, মাঠের উত্তাপের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে রেফারিং নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা। বিশেষ করে নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনা ও মিশরের মধ্যকার হাইভোল্টেজ ম্যাচে ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়েরের কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে ফুটবল বিশ্বে বেশ শোরগোল তৈরি হয়েছে। আর এই বিতর্কের আবহেই সামনে এলো রেফারি নিয়োগে বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা ফিফার এক অভিনব ও ঐতিহাসিক কৌশলের কথা।

সাধারণত বিশ্বকাপের ম্যাচগুলোতে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ রেফারি নিয়োগ করাই ফিফার প্রধান লক্ষ্য থাকে। তবে প্যানেল চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে কেবল মাঠের যোগ্যতাই শেষ কথা নয়, পর্দার পেছনের রাজনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক সমীকরণও নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখে সংস্থাটি। আর এই ভূরাজনৈতিক মারপ্যাঁচের কারণেই টুর্নামেন্টের শেষভাগে এসে একটি চিরবৈরী সমীকরণ দাঁড়িয়েছে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডকে ঘিরে।

চলতি বিশ্বকাপের হিসাব বলছে, ইংল্যান্ড যদি টুর্নামেন্টের ফাইনাল পর্যন্ত পথ পার করে, তবে আর্জেন্টিনার কোনো রেফারিকে ইংলিশদের ম্যাচে দায়িত্ব দেওয়া হবে না। ঠিক একইভাবে, আর্জেন্টিনা যদি সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনালে পা রাখে, তবে বিপরীত দিক থেকে নরওয়ে আসলেও ইংল্যান্ডের দুই অভিজ্ঞ রেফারি অ্যান্থনি টেইলর ও মাইকেল অলিভারকে আলবিসেলেস্তেদের ম্যাচ পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হবে না।

চলতি আসরে ইতোমধ্যে দুর্দান্ত রেফারিং করে প্রশংসিত হয়েছেন ইংলিশ রেফারি মাইকেল অলিভার। কিন্তু আর্জেন্টিনা যদি ফাইনালে ওঠে, তবে আগামী ১৯ জুলাই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামের মহাকাব্যিক ফাইনালে বাঁশি হাতে তার থাকার কোনো সুযোগ নেই।

ফুটবল মাঠের এই কঠোর নিয়মের পেছনে লুকিয়ে আছে চার দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা দুই দেশের এক রক্তাক্ত রাজনৈতিক অধ্যায়। ১৯৮২ সালের ২ এপ্রিল দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরে যুক্তরাজ্যের নিয়ন্ত্রণে থাকা ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ দখল করে নেয় আর্জেন্টিনা। যার ফলশ্রুতিতে শুরু হয় দীর্ঘ ৭৪ দিনের রক্তক্ষয়ী ‘ফকল্যান্ড যুদ্ধ’।

সেই সংক্ষিপ্ত কিন্তু বিধ্বংসী যুদ্ধে ৬৪৯ জন আর্জেন্টাইন এবং ২৫৫ জন ব্রিটিশ সেনাসদস্য প্রাণ হারান। জুনে আর্জেন্টিনার আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে যুদ্ধের অবসান ঘটলেও, ফকল্যান্ডের সেই ক্ষত এবং রাজনৈতিক টানাপোড়েন এখনো দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে গভীর প্রভাব ফেলে চলেছে।

চার দশক আগের সেই ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক বৈরিতার ছায়া যাতে কোনোভাবেই ফুটবল মাঠে বাড়তি উত্তাপ বা অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্কের জন্ম দিতে না পারে, সেজন্যই ফিফার এই আগাম সতর্কতা ও কঠোর রেফারিং পলিসি।

এম

Link copied!