• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৪, ৯ বৈশাখ ১৪৩১

ভূতুড়ে পুতুল, ছবি তুলতে গেলেই নাকি বন্ধ হয় ক্যামেরা


নিউজ ডেস্ক ডিসেম্বর ৩১, ২০২৩, ১২:৫২ পিএম
ভূতুড়ে পুতুল, ছবি তুলতে গেলেই নাকি বন্ধ হয় ক্যামেরা

ঢাকা : সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পুতুলকে উদ্দেশ্যে করে লোকজন ‘সরি’ লিখতে শুরু করেছে। পুতুলটির নাম রবার্ট। বাসবাস করে সুদূর ফ্লোরিডার ফোর্ট ইস্ট মার্টেলো মিউজিয়ামে।

কাঠের চেয়ারের উপর বসে থাকে এই ছোট্ট রবার্ট। পরনে নাবিকের পোশাক। মাথায় টুপি। হাতে একটি ছোট্ট কুকুর। কিন্তু রবার্টের চোখমুখে যেন গভীর চিন্তার ছাপ। তার চোখের উদাসীন ভঙ্গির দিকে তাকালেই অবাক কাণ্ড ঘটে। শিউরে ওঠেন অনেকে।

বরার্টকে যারা দেখেন তারা বরার্টের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে দেন। সঙ্গে লেখেন ‘সরি রবার্ট’।

রবার্ট এবং তাকে বলা এই পাঁচ অক্ষরের শব্দের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ১১৯ বছরের ইতিহাস। এই মিউজিয়ামে রবার্টকে আনা হয় ১৯৯৪ সালে। এর আগে এই পুতুলের ঠিকানা ছিল ফ্লোরিডার কি ওয়েস্ট শহরের ওটো পরিবারের বাড়ি। ওয়েস্টের এক নামজাদা চিত্রকর ছিলেন রবার্ট ইউজিন ওটো। তাকে তার ছোটবেলায় তার দাদু জার্মানি থেকে একটি পুতুল এনে দিয়েছিলেন। পুতুলের নামও মালিকের নাম অনুসারে রাখা হয়।

শোনা যায়, ওটো বড় হয়ে যাওয়ার পরেও কখনও ওই পুতুলের সঙ্গে তার বিচ্ছেদ হয়নি। সে যেখানে যেত, পুতুলটি তার সঙ্গে থাকত। এমনকি, ওই পুতুলের সঙ্গে সে নিয়মিত কথা বলত। দুজনের গল্প হতো, ভাগ করে নিতেন মনের কথা।
আশপাশের মানুষের কাছে ওটোর এই আচরণ একেবারেই স্বাভাবিক ঠেকত না। অনেকে আড়ালে তাকে নিয়ে হাসাহাসিও করতেন। কিন্তু তাতে পরিস্থিতি বদলায়নি। ওটোর কাছে যেন ওই পুতুল ছিল জীবন্ত বন্ধু।

জানা যায়, জার্মানির স্টেইফ কোম্পানি পুতুলটি তৈরি করেছিল। পুতুল সম্ভবত বিক্রি করার জন্য তৈরি করেননি তারা। ঘর সাজানোই ছিল মূল উদ্দেশ্য। বর্তমানে রবার্টের পরনে পোশাকও প্রথম থেকে এক রকম ছিল না। ছোটবেলায় ওটো যে পোশাক পরতেন, তাই পরে পুতুলটিকে পরানো হয়।

শোনা যায়, ছোট থেকেই ওটো তার নিজের অপরাধমূলক কাজের দায় চাপাত এই পুতুলের উপর। সে একটু বড় হতে না হতে না হতেই পুতুলটির মধ্যে অলৌকিক গুণ বাড়তে থাকে। অনেকে বলেন, ওটোর বাড়ির জানলার উপরে পুতুলটি রাখা হত। মাঝে মধ্যেই নাকি সে সেখান থেকে অদৃশ্য হয়ে যেত। ওটোর বাড়ি এড়িয়ে চলতেন অনেকেই।

১৯৭৪ সালে ওটোর মৃত্যুর পর তাদের বাড়ি বিক্রি হয়ে যায়। পুতুলটি তখনও সেখানেই ছিল। অনেকে নাকি ওই বাড়ির ছাদে হাঁটাচলা এবং মাঝেমাঝে অট্টহাসির শব্দ শুনতে পেতেন। বাড়িময় নাকি ঘুরে বেড়াত ‘ভূত-পুতুল’। অনেকে আবার বলেন, কেউ ওই পুতুলের সামনে তাকে বা ওটোকে অপমান করে কথা বললে পুতুলের মুখের হাবভাব পাল্টে যেত।

ওটোরে মৃত্যু পরও ২০ বছর ওই বাড়িতে ছিল রবার্ট পুতুল। তার পর তাকে জাদুঘরে দিয়ে দেওয়া হয়। তার পর থেকে যেন রবার্টের কাহিনিতে মোড় ঘুরে গিয়েছে। একাধিক সিনেমা, টিভি শো-তে এই পুতুল ব্যবহার করা হয়েছে। রবার্টের জন্যই ধীরে ধীরে ভিড় বেড়েছে মিউজিয়ামে। তাকে নিয়ে বইও লেখা হয়েছে বিস্তর।

ফ্লরিডার ওই মিউজিয়াম থেকে রবার্টের প্রতিরূপ কেনা যায়। অনেকে আবার চাইলে টাকা দিয়ে তার সঙ্গে অন্ধকার ঘরে সময়ও কাটাতে পারেন।

শোনা যায়, রবার্টকে যারা দেখে গিয়েছেন, তার পর থেকেই নাকি তাদের জীবনে নেমে এসেছে দুর্ভাগ্যের আঁধার। দুঃসময় যেন কাটতেই চায় না তাদের জীবনে। তারা অনেকে পরে চিঠি লিখে রবার্টের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। মানুষের বিশ্বাস, রবার্ট পুতুলটিকে কোনও ভাবে অশ্রদ্ধা বা অসম্মান করলে জীবনে নেমে আসে অভিশাপ। সেই কাহিনিই এখন নতুন করে ভাইরাল হয়েছে সমাজমাধ্যমে। সকলে পুতুলটিকে ‘সরি’ বলতে শুরু করেছেন।

ফ্লরিডার মিউজিয়ামের দর্শকদের অনেকে দাবি করেছেন, তারা যখন পুতুলটির ছবি তোলার চেষ্টা করেছেন, সেই মুহূর্তে ক্যামেরা কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে। মিউজ়িয়াম থেকে বের হওয়ার পরে আবার নাকি ঠিক হয়ে যায় ক্যামেরা। যার অর্থ দাঁড়ায়, রবার্ট চায় না তার ছবি তোলা হোক।

রবার্টকে ঘিরে এমন কাণ্ডকারখানা অবশ্য শুধুমাত্র কল্পনা বলেই উড়িয়ে দেন অনেকে। তাদের মতে, অন্ধবিশ্বাস, ভয় বা কুসংস্কার থেকে তৈরি হয়েছে এই ধরনের কাহিনি। এই প্রচারের পেছনে কারও কারও ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য থাকতে পারে।

এমটিআই

Wordbridge School
Link copied!