নান্দাইল: ময়মনসিংহের নান্দাইলে এক মসজিদের ইমাম স্থানীয় এলাকাবাসীর নিকট থেকে প্রতারণা করে ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা নিয়ে উধাও হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঈদের এক সপ্তাহ পূর্বে ইমাম এই টাকা নিয়ে উধাও হন।
উপজেলার বীরবেতাগৈর ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের লক্ষীপুর গ্রামের লক্ষীপুর জামে মসজিদে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত ইমাম আব্দুল কাদির (৩৫) পাকুন্দিয়া উপজেলার জাঙালিয়া ইউনিয়নের তারাকান্দি গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। তিনি বিবাহিত। তার তিন ছেলে রয়েছে।
সরেজমিন বুধবার (৫ জুলাই) লক্ষীপুর গ্রামে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রায় ৮ মাস পূর্বে লক্ষীপুর জামে মসজিদে ইমাম হিসাবে চাকরি নেন আব্দুল কাদির। চাকরির পর থেকে মসজিদের মুসল্লি, সকালে কোরআন পড়তে আসা ছাত্র-ছাত্রী, বাড়ির মালিক,স্থানীয় হাটশিরা বাজারের দোকানদার, পাশের মাদ্রাসার শিক্ষকসহ স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলেন।
[202528]
একপর্যায়ে নিজেকে খুবই দ্বীনদার, আমানতদার হিসেবে প্রকাশ করেন তিনি। বিভিন্ন কবিরাজি চিকিৎসা করতে পারেন বলে জানান। তিনি সেনাবাহিনীতে চাকরি দেওয়ার কথাও জানান। তার বড় ভাই সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এবং অপর ভাই ডাক্তার। তিনি যেকোনো চাকুরে দিতে পারবেন তার ভাইদেরকে বলে স্থানীয় মানুষের কাছে এমনটি প্রকাশ করেন। নিজের এমনি সব গুণের কথা প্রকাশ করে প্রতারণার ফাঁদ পাতেন তিনি।
এরই সূত্র ধরে স্থানীয়দের কাছ থেকে টাকা হাওলাত ও লেনদেন করতে থাকেন। মসজিদের মুসুল্লি ও ছাত্র-ছাত্রীসহ বাজারের ব্যবসায়ীদের চা, পান, বিভিন্ন মিষ্টি ও ফল দ্বারা আপ্যায়ন করেন প্রায়সময়ই। সকলের নিকট তিনি দ্বীনদার ও বিশ্বাসী হয়ে উঠেন।
স্থানীয়রা জানান, ইমাম অনেক মানুষের কাছ থেকে প্রতারণা করে ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা নিয়েছেন। কিন্তু এখন লজ্জার ভয়ে কেউ মুখ খুলছেননা।
ছেলেকে মন্ত্রণালয়ে চাকুরি দিবেন এই কথায় বিশ্বাস করে মসজিদ সংলগ্ন বাড়ির মো.শাফি ইমাম কাদিরকে ৩ লাখ টাকা দেন।
[202497]
মো.শাফি বলেন, ইমামের ভাই একজন সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল। তিনি চাকুরি দিতে পারেন। এই বিশ্বাসে ধারদেনা করে আমি তাকে ৩ লাখ টাকা দেই। আমি গরীব মানুষ। এখন কি করবো আমি। এই হুজুরের সন্ধান চাই, বিচার চাই আমরা।
স্থানীয় হাটশিরা বাজারের ফার্নিচার ব্যবসায়ী বিজন জানান, তার কাছ থেকে হাওলাত হিসাবে ১০ হাজার টাকা নিয়ে ইমাম উধাও হয়ে গিয়েছে।
মসজিদ সংলগ্ন বাড়ির শহীদউল্লাহ বলেন, আমাদের মসজিদের ইমাম এলাকার বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে চাকরি ও বিদেশ পাঠানোর কথা বলে প্রতারণা করে আসুমানিক ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা নিয়ে যায়।তার বাড়ির ঠিকানায় গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নাই। সে ভোয়া ঠিকানা দিছে।
স্থানীয় গোলাপ রব্বানী বলেন, ইমাম আমাদের জানায় তার বড় ভাই আরমির বড় অফিসার, ছোট ভাই পিজির ডাক্তার, বড় বোনজামাই ডিআইজি, ছোট বোনজামাই নৌবাহিনীর এডমিরাল। এইরকম কথা বলে এলাকার মানুষের কাছ থেকে ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যায়। তিনি জানান তার ব্যবহৃত দুটি মোবাইল নাম্বার ০১৮২৬৩১১৪২২, 01933827430 বন্ধ রয়েছে।
[202530]
মসজিদ কমিটির সভাপতি আব্দুল আহাদ বলেন, ইমাম হিসাবে চাকরি নেওয়ার পর থেকেই তিনি সবার সাথে সরল বিশ্বাস তৈরি করে গভীর সখ্যতা গড়ে তোলেন। চাকুরীর জন্য টাকা, হাওলাত, কবিরাজি চিকিৎসার জন্য টাকাসহ নানা কৌশলে অনেক টাকা নিয়ে পালিয়ে যান প্রতারক ইমাম আব্দুল কাদির।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. ইলিয়াস কাঞ্চন এ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ বিষয়ে আমি খোঁজ নিয়েছি। মসজিদের লোকজন জানিয়েছে ইমাম সাহেব চাকরি দেওয়ার কথা বলে বিভিন্নভাবে প্রতারণা করে ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা নিয়ে গেছে। এরকম ইমামের কঠোর বিচার দাবী করেন তিনি।
নান্দাইল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুজ্জামান রাশেদ বলেন, এবিষয়ে থানায় কেউ কোন অভিযোগ করেননি।
সোনালীনিউজ/এম