বাসররাতে মুখ ধোয়ার পর কনেকে চিনতে পারছেন না বর, মূল ঘটনায় যা জানা গেল

  • জেলা প্রতিনিধি | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জানুয়ারি ২০, ২০২৬, ১২:০৪ পিএম

বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা, আত্মীয়দের আনন্দ আর নতুন জীবনের স্বপ্ন—সবকিছুই স্বাভাবিকভাবেই এগোচ্ছিল। কিন্তু বাসররাতে কনে মুখ ধোয়ার পরই নাটকীয় মোড় নেয় ঘটনা। বর রায়হান কবিরের দাবি, বিয়ের আগে যাকে পাত্রী হিসেবে দেখানো হয়েছিল, বাসরঘরে উপস্থিত নারী তিনি নন। এই অভিযোগ ঘিরেই মুহূর্তে বিয়ের আনন্দ রূপ নেয় উত্তেজনা, সন্দেহ ও মামলার জটিলতায়।

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার ভান্ডার এলাকায় ঘটে যাওয়া এই ‘কনে বদল’–সংক্রান্ত অভিযোগ এখন পুরো জেলাজুড়ে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। বিয়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায় এবং শেষ পর্যন্ত বরকে যেতে হয় কারাগারে।

কী ঘটেছিল?

আদালত ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১ আগস্ট রাণীশংকৈলের জিয়ারুল হকের মেজো মেয়ের সঙ্গে পীরগঞ্জ উপজেলার চন্ডিপুর এলাকার মৃত ইব্রাহীমের ছেলে রায়হান কবিরের বিয়ে হয়। বিয়ের রাতেই বর ও তার পরিবার কনে বদলের অভিযোগ তোলে।

বিষয়টি সমাধানের জন্য একাধিকবার দুই পক্ষ আলোচনায় বসলেও কোনো মীমাংসা হয়নি। পরে গত ২৭ আগস্ট কনের বাবা জিয়ারুল হক বর রায়হান কবির ও তার দুলাভাই মানিক হাসানকে আসামি করে আদালতে মামলা করেন। এর জবাবে ২ সেপ্টেম্বর রায়হান কবির কনের বাবা ও ঘটক মোতালেবের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা দায়ের করেন।

এই দুই মামলার প্রেক্ষাপটে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) আদালত রায়হান কবিরের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

বরের পরিবারের বক্তব্য

বরের মামা বাদল জানান, ঘটক মোতালেবের মাধ্যমে রায়হানের জন্য পাত্রী খোঁজা হচ্ছিল। জুলাইয়ের শেষদিকে শিবদিঘী এলাকার একটি চায়ের দোকানে একটি মেয়েকে দেখানো হয়। মেয়েটিকে পছন্দ হওয়ায় বিয়েতে সম্মতি দেন তারা। এরপর মেয়েপক্ষ দ্রুত বিয়ের তাগিদ দেয় এবং নতুন করে মেয়ে না দেখিয়েই আয়োজন সম্পন্ন হয়।

তিনি বলেন, “রাতে অতিরিক্ত মেকআপের কারণে বিষয়টি বোঝা যায়নি। কিন্তু বাসররাতে মুখ ধোয়ার পর রায়হান বুঝতে পারে, যাকে আগে দেখানো হয়েছিল তিনি এই মেয়ে নন। প্রতিবাদ জানালে পরদিন কনেকে তার বাবার বাড়িতে পাঠানো হয়।”

কনের পক্ষের দাবি

কনের বাবা জিয়ারুল হক কনে বদলের অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন। তার ভাষ্য, “আমার তিন মেয়ের মধ্যে মেজো মেয়ে জেমিন আক্তারকেই ছেলেপক্ষ আমাদের বাসায় এসে দেখে বিয়ে করেছে। ৭০ জন বরযাত্রীর সামনে বিয়ে হয়েছে। কনে বদলের প্রশ্নই আসে না।”

তিনি পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, বিয়ের পরদিন বরপক্ষ ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। সময়মতো টাকা দিতে না পারায় এখন মিথ্যা গল্প সাজিয়ে তাকে হেয় করা হচ্ছে।

ঘটক ও আইনজীবীর বক্তব্য

ঘটক মোতালেব জানান, তিনি কোনো ভুল মেয়ে দেখাননি। পাত্রীর বাবার বাড়িতেই সব নিয়ম মেনে মেয়ে দেখানো ও বিয়ে হয়েছে।

অন্যদিকে ছেলেপক্ষের আইনজীবী ও ঠাকুরগাঁও আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন বলেন, “ছেলের অভিযোগ গুরুতর—প্রতারণার মাধ্যমে কনে বদল করা হয়েছে। বিষয়টি এখন আদালতে বিচারাধীন। আমরা আশা করছি, আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।”

এ ঘটনায় বিয়ের সম্পর্ক যেমন ভেঙে পড়েছে, তেমনি একটি পারিবারিক বিষয় পরিণত হয়েছে বহুল আলোচিত আইনি দ্বন্দ্বে। এখন সবার দৃষ্টি আদালতের রায়ের দিকে।

এম