মাদারীপুর: লিবিয়া হয়ে ইতালির পথে যাত্রা করে গত ১০ মাস ধরে নিখোঁজ রয়েছেন মাদারীপুরে ১৫ যুবক। এই যুবকরা বেঁচে আছে কি না, জানেন না তাদের পরিবার। অথচ প্রত্যেকটি পরিবার থেকে ২৮/৩০ লাখ টাকা করে হাতিয়ে নিয়েছে দালালচক্র। আর সেই টাকা দিয়ে দালাল রাতারাতি নির্মাণ করেছে ডুপ্লেক্স বাড়ি। নিখোঁজ যুবকদের সন্ধানে বাড়িতে গেলে লাপাত্তা চক্রের সদস্যরা।
স্বজনরা জানায়, মাদারীপুর সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের গাজীরচর এলাকার জাহাঙ্গীর ঢালীর স্ত্রী পেয়ারা বেগমের খপ্পড়ে পড়ে বেশ কয়েকজন যুবক। যুবকদের পরিবারের সাথে ১৫ লাখ টাকা করে প্রত্যেককে সরাসরি ইতালি যাওয়ার চুক্তি হয়। গত বছরের জানুয়ারিতে বাড়ি ছাড়েন লিমন বেপারী, জয় আহম্মেদ, রবিউল মাতুব্বর, ওয়ালিদ হাসান, জীদান হোসেন, শরিফুল ইসলাম, আজমুল খাঁ, মোহাম্মদ আলী, তুহিন মজুমদার, মাহবুব নামেসহ ১৫ যুবক।
পরে তাদের সবাইকে লিবিয়ায় নিয়ে আটকে রাখা হয়। মুক্তিপনের জন্য করা হয় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। পরে প্রত্যকের পরিবার থেকে মুক্তিপণের লাখ লাখ টাকা আদায় করে দালালচক্র। শেষমেশ দালালের মাধ্যমে ওই বছরের এপ্রিলে ইঞ্জিন চালিত নৌকায় লিবিয়া হয়ে ইতালির উদ্দেশ্যে যাত্রা করে যুবকরা। কিন্তু এরপর আর কোন সন্ধানই মিলছে না তাদের। নিখোঁজদের পরিবারে চলছে হতাশা।
অভিযোগ আছে, পেয়ারা বেগমের বড় ছেলে ফারদিন ঢালী ইতালি অবস্থান করে মানবপাচারের নির্দেশনা দেয়। আর ছোট ছেলে সৌরভ যুবকদের পরিবারের কাছে থেকে আদায় করে অর্থ। এর সঙ্গে জড়িত আছে শরিয়তপুরের জালাল কাজীর ছেলে সবুজ কাজী ও লিয়াকত শেখের ছেলে মুজাহিদ শেখও। সবুজ ও মুজাহিদ সম্পর্কে শ্যালক ও দুলাভাই।
অভিযুক্ত পেয়ারা বেগম, সবুজ ও মুজাহিদের বাড়ি গিয়ে পাওয়া যায় নাই। তাদের বসতঘর তালাবদ্ধ এবং মোবাইল বন্ধ।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জানান, নিখোঁজ ১৫ যুবকের পরিবারের মধ্যে একজনের পরিবার একটি মামলা করেছেন। সেই মামলায় তিনজন গ্রেপ্তার রয়েছে। এছাড়া বাকি নিখোঁজদের পরিবার থেকে লিখিত অভিযোগ করলে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
পিএস