ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলায় আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষিতে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে নানা প্রত্যাশা ও মতামত প্রকাশিত হয়েছে। এলাকাবাসী আশা করছেন, নির্বাচন হবে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য।
নাসিরনগরের বিভিন্ন এলাকার ভোটাররা জানান, তারা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতসহ জনগণের মৌলিক চাহিদায় বাস্তব পরিবর্তন দেখতে চান। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের জনগণের কথা শোনার এবং এলাকার সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখার ওপর তারা জোর দিয়েছেন।
একজন ভোটার বলেন, “ভোট দিতে চাই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে। ভোট যেন সঠিকভাবে দিতে পারি, সেটাই আমাদের দাবি।” আরেকজন বলেন, নির্বাচনের পর জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ বজায় রাখা এবং এলাকার উন্নয়নে কাজ করা জরুরি।
বৃহৎ অংশের তরুণ ভোটার মনে করছেন, নির্বাচন শুধু ক্ষমতার পরিবর্তনের সুযোগ নয়, বরং এলাকার ভবিষ্যৎ নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। তারা স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং দক্ষ নেতৃত্বের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।
নাসিরনগর উপজেলার অর্থনীতি মূলত কৃষি, মৎস্য, ছোট ব্যবসা ও প্রবাসী আয়ের ওপর নির্ভরশীল। তাই ভোটারদের কাছে উন্নয়ন এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পায়।
স্থানীয়রা বিগত নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। কেউ বলছেন, কিছু উন্নয়ন হয়েছে, তবে প্রত্যাশিত পরিবর্তন আসেনি। বিশেষ করে গ্রামীণ সড়ক, জলাবদ্ধতা নিরসন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়ন এবং সরকারি সেবার সহজ প্রাপ্যতা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ।
নারী ভোটাররা নিরাপত্তা ও সামাজিক সুযোগ-সুবিধার দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন। একজন নারী ভোটার বলেন, “নির্বাচনের পর নারীদের কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাস্তব পদক্ষেপ চাই।”
বয়স্ক ভোটাররা ভাতা, স্বাস্থ্যসেবা এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সঠিক বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়েছেন। তরুণরা কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর সেবার দিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন।
নির্বাচনকালীন পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখা অত্যন্ত জরুরি বলে ভোটাররা মনে করেন। কোনো ধরনের সহিংসতা, প্রভাব বিস্তার বা অনিয়ম যেন না ঘটে, সেই আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
নাসিরনগরের ভোটারদের মূল প্রত্যাশা স্পষ্ট—একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন, যেখানে জনগণের মতামতের সঠিক প্রতিফলন ঘটবে এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হবে।
এসএইচ