হামিদীর ২২ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা ও জনকল্যাণে প্রতিশ্রুতি

  • নিজস্ব প্রতিনিধি | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬, ০৪:১৩ পিএম
সংগৃহীত ছবি

জনগণের বৃহত্তর কল্যাণ, সামাজিক ন্যায়বিচার ও টেকসই উন্নয়নের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনে সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মাওলানা শেখ নূরে আলম হামিদী ২২ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। এলাকার দীর্ঘদিনের অবহেলা, বঞ্চনা ও বৈষম্য দূর করে একটি শান্তিপূর্ণ, আধুনিক ও সমৃদ্ধ জনপদ গড়ে তোলাই এই ইশতেহারের মূল লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইশতেহার ঘোষণা করেন তিনি। এ সময় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মৌলভীবাজার জেলা শাখার সভাপতি মুফতি হাবীবুর রহমান ও সংগঠনের জেলা শাখার সহসভাপতি মাওলানা আবুল কালাম সহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, শিক্ষাবিদ, আলেম-ওলামা, সাংবাদিক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

শেখ নূরে আলম হামিদী বলেন, “শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ একটি সম্ভাবনাময় জনপদ হলেও দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলের মানুষ তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। আমি নির্বাচিত হলে জনগণের কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করবো এবং এই জনপদকে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত করবো ইনশাআল্লাহ।”

সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যমুক্ত সমাজ গঠনের অঙ্গীকার

ইশতেহারের প্রথম দফাতেই সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও নৈরাজ্য নির্মূলের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সমাজে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে কোনো উন্নয়ন টেকসই হয় না। এজন্য সকল অপশক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

অবহেলিত মানুষের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান

খনিজ সম্পদে ভরপুর মৌলভীবাজার-৪ আসনের অবহেলিত ও বঞ্চিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় দৃঢ় ভূমিকা রাখার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করে স্থানীয় মানুষের জীবনমান উন্নয়ন তার অগ্রাধিকার বলে জানান।

যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়ন

গ্রামীণ সড়ক সংস্কার, নতুন সড়ক নির্মাণ, প্রয়োজনীয় সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ এবং পুরোনো অবকাঠামো সংস্কারের মাধ্যমে আধুনিক ও টেকসই যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ, ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামত ও দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতির কথাও উল্লেখ করা হয়।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে যুগান্তকারী পরিকল্পনা

শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়নে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ডিজিটাল ক্লাসরুম স্থাপন ও মানসম্মত শিক্ষক নিয়োগের অঙ্গীকার করেন তিনি।
স্বাস্থ্যখাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন, পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ, কমিউনিটি ক্লিনিকের কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং গর্ভবতী মা ও শিশুদের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দেন।

কৃষি, মৎস্য ও পর্যটনে সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন

কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ, কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, ভর্তুকি প্রদান ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কৃষি খাতকে আধুনিকায়নের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।
একই সঙ্গে মৎস্য চাষে আধুনিকীকরণ, মৎস্যজীবীদের প্রশিক্ষণ এবং জলমহালে মাছ উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্যোগের কথা জানান তিনি।

এছাড়া শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কাজে লাগিয়ে পর্যটন শিল্পের বিকাশ এবং এর মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা তুলে ধরেন তিনি।

বিদ্যুৎ, আইনশৃঙ্খলা ও পরিবেশ সংরক্ষণ

গ্রামাঞ্চলে শতভাগ নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, এলাকা সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত করতে কার্যকর পদক্ষেপ এবং পুলিশি সেবার আধুনিকীকরণ করে জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়।
পরিবেশ দূষণ রোধে কার্যকর আইন বাস্তবায়ন এবং নদী, খাল ও বিল সংরক্ষণের বিষয়টিও গুরুত্ব পায় ইশতেহারে।

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, নারী ও সংখ্যালঘুদের উন্নয়ন

মসজিদ, মাদ্রাসাসহ সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ও সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
নারীদের নিরাপত্তা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে একটি আলাদা সেল গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়। বিশেষ করে হস্তশিল্প ও কুটির শিল্পে নারীদের সম্পৃক্ত করতে সেলাই মেশিন, ক্ষুদ্র ঋণ ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়।

চা শ্রমিক, অনগ্রসর জনগোষ্ঠী, ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের জীবনমান উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিও ইশতেহারে বিশেষভাবে স্থান পায়।

বড় প্রকল্পের ঘোষণা

কমলগঞ্জে প্রস্তাবিত মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা, শ্রীমঙ্গলে চা গবেষণা ইনস্টিটিউট ও চা নিলাম কেন্দ্রের আধুনিকায়ন, মৎস্য গবেষণা ও যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট স্থাপন এবং শমসেরনগর বিমানবন্দর পুনরায় চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়।

পাশাপাশি স্থানীয় উদ্যোক্তাদের জন্য ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প বিকাশে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

প্রবাসীদের নিরাপদ অভিবাসন

প্রবাসীদের নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করা, আইনি সহায়তা প্রদান, রেমিট্যান্স প্রেরণে প্রণোদনা ও সহজ ব্যাংকিং সেবা এবং দেশে ফেরা প্রবাসীদের পুনর্বাসন ও বিনিয়োগে সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। 

জনগণের প্রতি আহ্বান

ইশতেহার ঘোষণাকালে শেখ নূরে আলম হামিদী বলেন, “এই ২২ দফা শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, এটি শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জের ভবিষ্যৎ রূপরেখা। আমি ক্ষমতার জন্য নয়, মানুষের জন্য রাজনীতি করতে চাই।”

এ সময় তিনি সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে উন্নয়ন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে তার পাশে থাকার আহ্বান জানান।

এসবিআর