বেতন–ভাতা নিয়ে বিরোধ: হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার সঙ্গে শিক্ষকের হাতাহাতি

  • চট্টগ্রাম ব্যুরো | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: মার্চ ৬, ২০২৬, ০৫:৫৯ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় বেতন–ভাতা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার সঙ্গে এক শিক্ষকের হুমকি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে ফটিকছড়ি উপজেলা পরিষদ ভবনের করিডোরে এ ঘটনা ঘটে। এতে জড়িয়ে পড়েন ফটিকছড়ি করোনেশন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দীন এবং উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা এ কে এম নজরুল ইসলাম।

সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নথি ও প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দীনের দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিতির অভিযোগে তাঁর বেতন স্থগিত করা হয়। দাপ্তরিক নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত সময়ের অনুপস্থিতির বিষয়টি উল্লেখ করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

জানা যায়, বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক নাজিম উদ্দীন সরকার লিখিতভাবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে বিষয়টি অবহিত করেছিলেন। প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, ওই সময়ের মধ্যে প্রায় নয় মাসের বেতন উত্তোলন করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে আরও প্রায় পাঁচ মাস কর্মস্থলে অনুপস্থিতি অব্যাহত ছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দীন দাবি করেন, গত বছরের ৫ আগস্টের পর তিনি মব পরিস্থিতির শিকার হওয়ায় বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিত থাকতে পারেননি। সে সময় দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হয়নি বলেই ওই সময়টিকে ছুটির আওতায় বিবেচনা করে বেতন–ভাতা দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা এ কে এম নজরুল ইসলাম জানান, আলোচনার সময় জসিম উদ্দীন জানতে চান অনুপস্থিত থাকলেও গেজেটেড কর্মকর্তা বেতন–ভাতা পেতে পারেন কি না। জবাবে তিনি বলেন, যথাযথভাবে ছুটি অনুমোদিত থাকলে বেতন–ভাতা প্রাপ্য হতে পারে। তবে অনুপস্থিতির অভিযোগ থাকায় ছুটি মঞ্জুরের প্রয়োজনীয় নথিপত্র দেখাতে হবে।

তিনি অভিযোগ করেন, এ কথা বলার পর জসিম উদ্দীন বেতন স্থগিতসংক্রান্ত একটি চিঠি তাঁর কাছ থেকে কেড়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলেন এবং অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ সেলিম রেজা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, বিষয়টি প্রাথমিকভাবে সমাধানের পথে ছিল। কিন্তু অফিসিয়াল নথি নিয়ে টানাটানি ও তা ছিঁড়ে ফেলার ঘটনায় পরিস্থিতি অস্বাভাবিক হয়ে ওঠে। প্রশাসনিক ভবনে একজন শিক্ষকের এমন আচরণ দুঃখজনক।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে এটি প্রক্রিয়াগত ভুল বোঝাবুঝি থেকে সৃষ্টি হয়েছে। পরে উভয় পক্ষ নিজেদের মধ্যে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেছে। তবে প্রশাসনিক নথি ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগটি তদন্তের আওতায় আসতে পারে।

এসএইচ