লক্কর-ঝক্কর করে ঝুঁকি নিয়ে চলছে ট্রেন, ঈদ এলে বাড়ে লোক দেখানো প্রস্তুতি 

  • রাজশাহী ব্যুরো | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: মার্চ ১৪, ২০২৬, ১২:৩৭ পিএম

বয়সের ভারে সক্ষমতা হারিয়েছে রাজশাহীর পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের রেলপথ। কোথাও লাইন দেবে গেছে, কোথাও ভাঙা, আবার মাঝেমধ্যেই ঘটছে ট্রেন লাইনচ্যুতির ঘটনা। এমন বাস্তবতার মধ্যেই শুধু ঈদ উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে বাড়ে প্রস্তুতি। অন্য সময় তেমন উদ্যোগ লক্ষ্য করা যায় না। 

সম্প্রতি রাজশাহীর রেলপথ ঘুরে দেখা যায়, দ্রুতগতিতে চলছে রেলপথ সংস্কার, রেলক্রসিং ও কোচ মেরামতের কাজ। 

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, ঈদযাত্রার আগেই এসব কাজ সম্পন্ন হবে। পশ্চিমাঞ্চল রেলের ২৫৮/১ থেকে ২৫৯/০ পর্যন্ত এক কিলোমিটার রেলপথে মোট ৫৯টি জয়েন্ট রয়েছে। এসব জয়েন্টে ২৩৬টি নাট-বোল্ট থাকার কথা থাকলেও আছে মাত্র ১৮৯টি। 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই এক কিলোমিটারের চিত্রই যেন পুরো পশ্চিমাঞ্চল রেলের লাইনের প্রতিচ্ছবি। সবখানেই একই অবস্থা। শুধু ঈদ মৌসুমে কাজ হয়। অন্যসময় রেলপথ সংস্কারে তেমন উদ্যোগ লক্ষ্য করা যায় না। এতে সারা বছরই যাত্রীরা ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করেন। ভাঙ্গা লাইনে লক্কর ঝক্কর শব্দে কান ঝালাপালা হয়ে বলে দাবি করেন রাজশাহীর রেলপথে চলাচলকারী যাত্রী ইমরান আলী। তিনি বলেন, আমি ঢাকায় একটি কোম্পানিতে চাকরি করি প্রয়োজনে প্রায় আমাকে এই রেলওয়ে চলাচল করতে হয়। দীর্ঘ দিনের রেলপথ সংস্কারের খুবই প্রয়োজন। এটি সারাবছর অব্যাহত রাখতে হবে। ফলে ভ্রমণ আরও নিরাপদ হবে। 

রাজশাহীর স্থানীয় বাসিন্দা আশিক বলেন, ‘ট্রেন যখন যায়, তখন রেললাইনের প্রতিটি জয়েন্টে কাঁপন ধরে। নাট-বোল্ট কম থাকায় জয়েন্টে বিকট শব্দ হয়।’ প্রতিদিন এই রুটে লোকাল ও আন্তঃনগরসহ ১৭টি ট্রেন চলাচল করে বলেও জানান তিনি।

রেলওয়ের কয়েকজন কর্মীর দাবি, বসতিশূন্য  ফাঁকা এলাকা হওয়ায় নাট-বোল্ট বেশি চুরি হয়। এ কারণেই লাইনে নাট-বোল্টের ঘাটতি রয়েছে। এছাড়া পশ্চিমাঞ্চল রেলের অনেক স্থানে লাইনের ওপর ট্রেন উঠলেই স্লিপার দেবে যায়। কোথাও স্লিপার ভাঙা, কোথাও আবার ক্লিপ নেই। উঁচুনিচু ও আঁকাবাঁকা রেললাইনে রয়েছে পাথরের ঘাটতিও। 

গত বছর অন্তত আড়াইশ স্থানে রেলের লাইন ভেঙেছে। এতে একদিকে যেমন ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনা বেড়েছে, অন্যদিকে কমেছে ট্রেনের গতি। এমন বাস্তবতা মেনেই ট্রেনযোগে ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে প্রস্তুতি শুরু করেছে রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চল। রেলপথ সংস্কার, রেলক্রসিংসহ আগে-পরের লাইন এবং রেলের কোচ বা বগি মেরামতের কাজ পুরোদমে চলছে। বিশেষ করে রাজশাহী-জয়দেবপুর প্রকৌশলী বিভাগের আওতায় থাকা রেলপথে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের কর্মকর্তা ফরিদ আহমেদ জানান, পশ্চিমাঞ্চল রেলপথের রুট ১ হাজার ৯০০ কিলোমিটার। বয়স হওয়ায় এর সক্ষমতা কমেছে। এই রুটে ১২০টি ট্রেন চলাচল করে। বাস্তবতার নিরিখে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে মেরামতের বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, এবার রাজশাহী-ঢাকা রুটে কোনো ঈদ স্পেশাল ট্রেন নেই। তবে পার্বতীপুর-জয়দেবপুর রুটে দুই জোড়া স্পেশাল ট্রেন চলবে। পশ্চিমাঞ্চল রেলে ৫৫ হাজার যাত্রী আসনে বসে এবং সাড়ে ১৩ হাজার যাত্রী দাঁড়িয়ে যাওয়ার টিকিট পাবেন।

এম