রানা প্লাজায় অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া নাসিমার জীবন শেষ হলো পদ্মায় বাসডুবিতে

  • জেলা প্রতিনিধি | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: মার্চ ২৮, ২০২৬, ১১:১৪ এএম

২০১৩ সালের ভয়াবহ রানা প্লাজা ধস থেকে অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরা নাসিমা বেগমের জীবনের লড়াই থেমে গেল এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায়। এবার আর মৃত্যুকে ফাঁকি দিতে পারলেন না তিনি—রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় পদ্মানদীতে বাসডুবির ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন এই সংগ্রামী নারী।

গত বুধবার (২৫ মার্চ) ঢাকা ফেরার পথে দুর্ঘটনাটি ঘটে। একই ঘটনায় নাসিমার সঙ্গে তার পরিবারের আরও তিনজন নিহত হন। তারা হলেন— অন্তঃসত্ত্বা ভাগনি আজমিরা খাতুন, ভাগনির স্বামী আব্দুল আজিজ আজাদ এবং চার বছরের শিশু আব্দুর রহমান।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বিকেলে সবাই মিলে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন তারা। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি নদীতে পড়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে আব্দুল আজিজকে জীবিত উদ্ধার করা গেলেও নিখোঁজ থাকেন নাসিমাসহ তিনজন। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

শুক্রবার জুমার নামাজের পর পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়। শোকের মধ্যেই মরদেহ নিয়ে ফেরার পথে কুষ্টিয়া এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স দুর্ঘটনার শিকার হলেও বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো গেছে।

নাসিমা বেগমের জীবন ছিল বেঁচে থাকার এক দীর্ঘ সংগ্রামের গল্প। সাভারে রানা প্লাজা ধসের সময় ধ্বংসস্তূপের নিচে টানা তিন দিন আটকে থাকার পর তাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছিল। পরে গ্রামে ফিরে গেলেও স্বামীর মৃত্যুর পর জীবিকার তাগিদে আবার ঢাকায় ফেরার সিদ্ধান্ত নেন তিনি—যা শেষ পর্যন্ত হয়ে ওঠে তার জীবনের শেষ যাত্রা।

স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। নাসিমার এই করুণ পরিণতি পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে।

এম