রাজবাড়ী: রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলায় বসবাসরত এক হতদরিদ্র পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি শরিফুল ইসলাম (৩০) এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। তার দুটি কিডনিই নষ্ট হয়ে গেছে। চিকিৎসা চালিয়ে যেতে না পারায় অসহায় এই মানুষটি এখন সমাজের সহৃদয় ও বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করছেন।
শরিফুল ইসলাম শেখ, পিতা মো, জাবেদ আলী শেখ, বালিয়াকান্দি উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের দিলালপুর গ্রামে তার বসবাস। পেশায় তিনি একজন ভ্যানচালক এবং পরিবারের একমাত্র অবলম্বন। প্রায় ৮ থেকে ৯ মাস আগে জ্বরে আক্রান্ত হয়ে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিলেও পরে দেখা দেয় প্রস্রাবজনিত জটিলতা। পরবর্তীতে ফরিদপুরে গিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে জানা যায়—তার দুটি কিডনিই সম্পূর্ণরূপে ক্ষতিগ্রস্ত।
চিকিৎসকরা জানান, শরিফুলকে বাঁচাতে নিয়মিত ডায়ালাইসিস ও দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা প্রয়োজন। বর্তমানে তাকে প্রতি সপ্তাহে দুই দিন ডায়ালাইসিস করাতে হয়, যার খরচ প্রায় ৮ হাজার টাকা। কিন্তু দিনমজুর পরিবারের এই বিপুল ব্যয় বহন করা তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
শরিফুল জানান, চিকিৎসার খরচ জোগাতে ইতোমধ্যে তার বাড়ির গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি বিক্রি করে দিয়েছেন। এখন তিনি সম্পূর্ণ নিঃস্ব। তার স্ত্রী মোছা. তাজমিনা আক্তার (২৬) শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী। তাদের একমাত্র মেয়ে সামিয়া আক্তার সাফা (৬) প্লে-গ্রুপে পড়াশোনা করছে এবং ছোট ছেলে মো. আদিব শেখ (২) এখনো শৈশবেই রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “আমি বাঁচতে চাই। কিন্তু টাকার অভাবে চিকিৎসা চালাতে পারছি না। সমাজের সামর্থ্যবান মানুষজন যদি একটু সাহায্যের হাত বাড়ান, তাহলে হয়তো আমি আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারব।”
চাচাতো ভাই মো. কালাম শেখ বলেন, “শরিফুল আমার চাচাতো ভাই। খুব পরিশ্রমী মানুষ ছিল, ভ্যানচালিয়ে পরিবার চালাত। এখন ওর এই অবস্থা দেখে খুব কষ্ট লাগে। আমরা নিজেরা যতটুকু পারছি সাহায্য করছি, কিন্তু এই ব্যয় আমাদের পক্ষে বহন করা সম্ভব না। সমাজের সবাই যদি একটু এগিয়ে আসে, তাহলে হয়তো ওকে বাঁচানো সম্ভব।”
চাচা আব্দুল মজিদ শেখ বলেন, “শরিফুল ছোটবেলা থেকেই সংগ্রামী। নিজের পরিশ্রমে সংসার চালিয়েছে। এখন আল্লাহর এমন পরীক্ষায় পড়ে গেছে। একজন অভিভাবক হিসেবে আমি খুবই অসহায় বোধ করছি। সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের কাছে অনুরোধ ওর চিকিৎসার জন্য সাহায্যের হাত বাড়ান।”
প্রতিবেশী পলি বেগম বলেন, “ওদের সংসারের অবস্থা খুব খারাপ। শরিফুল অসুস্থ হওয়ার পর থেকে ঘরে ঠিকমতো খাবারও জোটে না। আমরা প্রতিবেশীরা মাঝে মাঝে সাহায্য করি, কিন্তু এটা যথেষ্ট না। সবাই যদি এগিয়ে আসে, তাহলে ওর চিকিৎসা চালানো সম্ভব হবে।”
বাবা জাবেদ আলী শেখ বলেন, “শরিফুল আমার একমাত্র ছেলে। ও-ই ছিল আমাদের পরিবারের ভরসা। এখন ছেলেকে এই অবস্থায় দেখে বুকটা ফেটে যায়। আমি একজন অসহায় বাবা, ছেলের চিকিৎসা করানোর সামর্থ্য নেই। দেশবাসীর কাছে হাতজোড় করে অনুরোধ করি, আপনারা আমার ছেলেকে বাঁচাতে সাহায্য করুন।”
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিষয়টি শুনলাম শরিফুল নামে ব্যক্তির দুটি কিডনি নষ্ট হয়ে গেছে, তাকে বলবো আমাদের কাছে আবেদন করতে তাহলে আমরা সমাজসেবার পক্ষ থেকে যারা গুরুত্বর অসুস্থ আছে বিশেষ করে যারা কিডনি সহ অন্যান জটিল রোগে আক্রান্ত আছেন তাদের সরকারিভাবে যে সাহায্য প্রদানের সুযোগ আছে সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
পিএস