কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে কথিত পীর আব্দুর রহমান ওরফে শামীম রেজা জাহাঙ্গীরকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামি তালিকা ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এজাহারে হামলার সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে স্পষ্টভাবে দেখা কিছু ব্যক্তির নাম না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভিডিও বিশ্লেষণে দেখা যায়, শনিবার দুপুরে লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একটি দল দরবারে ঢুকে ভাঙচুর চালায় এবং পরে শামীম রেজাকে টেনে বের করে মারধর করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নারীসহ অন্তত সাতজন আহত হন।
ভিডিও ফুটেজে হামলায় সরাসরি অংশ নেওয়া একাধিক ব্যক্তির নাম সামনে এলেও মামলায় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের কিছু নেতার নাম না থাকায় বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়েছে। অপরদিকে মামলার এক নম্বর আসামি করা হয়েছে জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতা মুহাম্মদ খাজা আহম্মেদকে।
নিহতের ভাই ও মামলার বাদী ফজলুর রহমান এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয়দের দাবি, হামলার আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গ্রামবাসীকে সংগঠিত করা হয় এবং কিছু ভিডিওতে নেতৃত্বস্থানীয়দের ভূমিকা স্পষ্ট থাকলেও মামলায় তা প্রতিফলিত হয়নি।
তবে পুলিশ বলছে, মামলার প্রাথমিক তালিকা বাদীপক্ষ দিয়েছে এবং তদন্তে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য প্রমাণ যাচাই করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে প্রশাসন।
এ ঘটনায় এলাকায় রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও মামলার নিরপেক্ষতা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এসএইচ