রাজশাহীতে প্রস্তুত সাড়ে ৪ লাখ পশু, কোরবানির আগাম প্রস্তুতি 

  • রাজশাহী প্রতিনিধি | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: এপ্রিল ৩০, ২০২৬, ০৩:০২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

রাজশাহী: আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে পশু মোটাতাজাকরণের মাধ্যমে বিক্রির উপযোগী করতে রাজশাহীর খামারিরা ব্যস্ত সময় পার করছেন।

রাজশাহীতে এবার কোরবানির পশুর পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রাণীসম্পদ অফিস। জেলা প্রাণী সম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী জেলায় এবার মোট কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা ৪ লাখ ৬৩ হাজার ১১টি, যেখানে সম্ভাব্য চাহিদা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৭১ হাজার ৫৮টি। ফলে এবার চাহিদার তুলনায় প্রায় ৯১ হাজার ৯৫৩টি পশু বেশি রয়েছে। ফলে এবার কোরবানির পশুর সরবরাহ নিয়ে কোনো সংকট থাকবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

খামারিরা জানান,  ঈদকে কেন্দ্র করে কয়েক মাস ধরেই তারা পশু মোটাতাজাকরণ, পরিচর্যা ও বাজারজাতের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। প্রাকৃতিক উপায়ে পশু লালন-পালনে এবার বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। খামারিরা আশা করছেন, বাজারে পশুর চাহিদা ভালো থাকলে তারা ন্যায্য দাম পাবেন।

জানা যায়, রাজশাহী বিভাগে কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৮৪১টি গরু, ৩ হাজার ৪২৫টি মহিষ, ৩ লাখ ১১ হাজার ৩৩৯টি ছাগল এবং ৪৩ হাজার ৪০৬টি ভেড়া। সংখ্যার হিসাবে সবচেয়ে বেশি রয়েছে ছাগল, যা মোট প্রাপ্য পশুর বড় একটি অংশজুড়ে আছে। এরপর রয়েছে গরু, ভেড়া ও মহিষ।

ঈদ উপলক্ষে একসময় সীমান্তবর্তী রাজশাহী অঞ্চলে কোরবানি হাটে দাপুটে উপস্থিতি ছিল ভারতীয় গরুর। বছরের পর বছর ভারত থেকে গরু আসায় স্থানীয়ভাবে গরু-ছাগল পালনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিল সাধারণ মানুষ। কিন্ত গেল কয়েক বছর সীমান্তে বিজিবির চৌকস পর্যবেক্ষণে ভারতীয় গরুর আমদানি বন্ধ হওয়ায় আবারও আগ্রহ বেড়েছে স্থানীয়দের। এখন রাজশাহী বিভাগের সব জেলাতেই বাড়ি বাড়ি গরু-ছাগল পালন করা হয় বাণিজ্যিকভাবে। অনেকেই নতুন করে খামার গড়ে তুলেছেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে কোরবানির জন্য বাইরের গরু-ছাগলের চাহিদা প্রায় শূন্যের কোঠায় পৌঁছেছে। পাশাপাশি খামারের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় কর্মসংস্থানও হয়েছে বলে জানিয়েছেন খামারিরা।

রাজশাহীর পবা উপজেলার খামারি ইমতিয়াজ বলেন, “এবার আমরা আগেভাগেই প্রস্তুতি নিয়েছি। দেশীয় পদ্ধতিতে পশু পালন করেছি। পশু পালনে আমাদের খরচও বেড়েছে, তাই বাজারে যেন ন্যায্যমূল্য পাওয়া যায়, সেটাই প্রত্যাশা।”

আরেক খামারি সাইদুল ইসলাম বলেন,“আমাদের বাড়িতেই এখন খামারের মত করে পশু পালন হয়। সামনের কোরবানির হাট উপলক্ষে আমাদের ছয়মাস আগে থেকেই পরিকল্পনা রয়েছে। এবার আমার ৬ টি ষাঁড় গরু রয়েছে। গো-খাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় কিছুট উদ্বিগ্ন ছিলাম। আশা করছি এবার আমরা ভালো দাম পাাবো।”

মোহনপুর উপজেলার খামারি সেলিনা বেগম বলেন, “হাটে বড় পশুর তুলনায় ছোট আকারের পশুর চাহিদা বেশি থাকে সবসময়। তাই গরুর পাশাপাশি ছাগল ও ভেড়া পালন করেছি। আমার ২ টি গরু ৭ টি ছাগল রয়েছে। এগুলো কোরবানির জন্য প্রস্তুত করছি।”

দূর্গাপুর উপজেলার গরু খামারি রাফিউল বলেন, “আমরা কোরবানি উপলক্ষে গরু লালন-পালন করি। আমরা চাই আমাদের পশুর নায্য দাম। সেজন্য সরকারের নিকট আবেদন থাকবে, বিগত বছরের মত এবারো যাতে ভারতীয় গরু দেশে না ঢোকে। ভারতীয় গরু না আসলে আমরা আমাদের দেশি গরুর নায্য দাম পাবো।”

এদিকে সংশ্লিষ্ট প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, রাজশাহী বিভাগে এবার পশুর উৎপাদন সন্তোষজনক। বিভাগীয় পর্যায়ে খামারিদের প্রশিক্ষণ, রোগ প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচি এবং পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা জোরদার করা হয়েছে। ফলে বাজারে সুস্থ ও নিরাপদ পশু সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। রাজশাহী জেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ আতোয়ার রহমান বলেন, “রাজশাহীতে বিগত কয়েক বছর থেকে দেশি পশু দিয়েই কোরবানির চাহিদা পূরণ হচ্ছে। এবারো রাজশাহীতে চাহিদার তুলনায় বাড়তি পশু রয়েছে। যেগুলো দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাবে। পশুর ভালো মাংস উৎপাদনে প্রাণীসম্পদ অফিসের মাধ্যমে আমরা খামারিদের নিয়মিত পরামর্শ ও পশু চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

পিএস