পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল ও প্রিমিয়াম কোয়ালিটির বোরো ধান ‘বিনাধান-২৫’ চাষ করে ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন কৃষকরা। ধানের বাম্পার ফলন এবং গুণগত মান ভালো হওয়ায় কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে। বিনাধান-২৫-এর পাশাপাশি ব্রি ধান-১০৮ এবং হাইব্রিড এসএল-৮ জাতের ধানের পরীক্ষামূলক চাষাবাদেও আশানুরূপ ফলন পাওয়া গেছে।
বিনা উপকেন্দ্র ঈশ্বরদী ও স্থানীয় কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বিনাধান-২৫ জাতটি অত্যন্ত উচ্চফলনশীল এবং এর চাল বিদেশের বাসমতী চালের মতো লম্বা ও সরু। এই ধানে অ্যামাইলোজের পরিমাণ ২৫.১ শতাংশ এবং প্রোটিনের পরিমাণ ৬.৬ শতাংশ। ভাত সাদা, ঝরঝরে ও সুস্বাদু হওয়ায় বাজারে এর চাহিদা ও মূল্য দুটিই বেশি। রপ্তানিযোগ্য এই জাতের গড় জীবনকাল ১৪৫ দিন।
ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আব্দুল মমিন এবং বিনা উপকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ ফেরদৌস ইকবাল জানান, বিনাধান-২৫-এর গাছ লম্বা হলেও শক্ত হওয়ায় তা সহজে হেলে পড়ে না। ধান পরিপক্ক হওয়ার পরও এর ডিগ পাতা খাড়া ও গাঢ় সবুজ থাকে। প্রতিটি শীষে গড়ে ২৮০ থেকে ২৯০টি পুষ্ট দানা থাকে এবং হেক্টরপ্রতি সাড়ে ৮ টন পর্যন্ত ফলন পাওয়া সম্ভব।
কৃষকরা জানান, এই জাতের ধানে রোগবালাই ও পোকার আক্রমণ প্রচলিত অন্য জাতের তুলনায় অনেক কম। গাছ থেকে খড়ও বেশি পাওয়া যায়। বিশেষ করে এই ধান আগাম পেকে যাওয়ায় কালবৈশাখী ঝড় বা আগাম বৃষ্টির হাত থেকে ফসল রক্ষা পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
সংশ্লিষ্ট কৃষি কর্মকর্তারা মনে করছেন, আট বছরের গবেষণায় উদ্ভাবিত এই জাতটি চাষাবাদের ফলে বিদেশ থেকে সরু ও চিকন চাল আমদানির ওপর নির্ভরতা অনেকটাই কমে আসবে। ধানের এই নতুন জাতটি সম্পর্কে কৃষকদের সচেতন করতে মাঠ দিবসসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে বিনা উপকেন্দ্র ঈশ্বরদী ও কৃষি তথ্য সার্ভিস। উন্নত পরিচর্যা নিশ্চিত করলে এই ধান চাষে কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে বড় ধরনের লাভবান হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
এসএইচ