বাজারে অপরিপক্ব ও স্বাদহীন লিচু, চড়া দামে বিক্রি  

  • ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি  | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: মে ২, ২০২৬, ০৭:৩৩ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

সুমিষ্ট ও রসালো ফলের জন্য দেশজুড়ে পাবনার ঈশ্বরদীর লিচুর বিশেষ সুনাম রয়েছে। তবে সেই সুনামকে পুঁজি করে কিছু বাগানমালিক ও ব্যবসায়ী বেশি লাভের আশায় গাছ থেকে অপরিপক্ব ও স্বাদহীন লিচু পেড়ে বাজারে বিক্রি করছেন। ঈশ্বরদী পৌর বাজারসহ আশপাশের হাটগুলোতে এখন এই অপরিপক্ব লিচুতে সয়লাব। স্বাদে টক ও গুণগত মানহীন হলেও মৌসুমি ফল হিসেবে ক্রেতারা চড়া দামেই এসব লিচু বাড়ি নিয়ে যাচ্ছেন।

লিচুর রাজধানী হিসেবে খ্যাত ঈশ্বরদীতে জ্যৈষ্ঠ মাস আসার আগেই বৈশাখ মাসে বাজারে লিচু দেখা যাচ্ছে। কৃষকদের দাবি, তীব্র দাবদাহের কারণে গাছ থেকে লিচু ঝরে যাচ্ছে, তাই তারা অপরিপক্ব অবস্থাতেই পাড়ছেন। তবে কৃষি বিভাগ বলছে, এই সামান্য ঝরে পড়া একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। মূলত আগাম লাভের আশায় মোজাফফর বা আঁটি জাতের এই লিচুগুলো পরিপক্ব হওয়ার অন্তত ১০ থেকে ১৫ দিন আগেই বাজারে আনা হয়েছে। ফলে ভোক্তারা লিচুর আসল স্বাদ ও পুষ্টিমান থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

বাজারে প্রথম ফল ওঠায় দামও সাধারণের নাগালের বাইরে। বর্তমানে ১০০ পিসের এক ঝোপা দেশি লিচু ২৬০ থেকে ৩৬০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। পৌর বাজারের বিক্রেতারা ক্যারেটে লিচু সাজিয়ে গামছা দিয়ে ঢেকে রাখছেন এবং সামনের সামান্য কিছু অংশ দেখিয়ে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছেন। গতকাল শনিবার সকালে আরামবাড়িয়া বাজারে যে লিচু ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, দুপুরে পৌর বাজারে সেই একই লিচু ৩৬০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। জাবেদ মিয়া নামের এক ক্রেতা জানান, নতুন ফল দেখে মেয়ের আবদার মেটাতে চড়া দামে কিনছেন ঠিকই, তবে এগুলোর বেশির ভাগই এখনো কাঁচা। এদিকে চিকিৎসকেরা স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনায় নিয়ে অপরিপক্ব লিচু না খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

উপজেলা কৃষি বিভাগ বলছে, লিচুর গুণগত মান ও আকার ঠিক রাখতে মোজাফফর জাতের লিচু আরও ১০ থেকে ১৫ দিন পর সংগ্রহ করা উচিত। ঈশ্বরদীতে এবার লিচুর ব্যাপক ফলন হয়েছে। কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, লিচু এখন বাজারজাত করলে সেটির ওজন ও মিষ্টতা কোনটিই পাওয়া যাবে না।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ঈশ্বরদীতে এবার ৩ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে লিচুর বাগান রয়েছে। এসব বাগানে দেশি আঁটি লিচু ছাড়াও বোম্বাই, চিলি বোম্বাই ও চায়না-থ্রি জাতের লিচু উৎপাদিত হয়। এখান থেকে লিচু ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ সারা দেশে সরবরাহ করা হয়।

ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আবদুল মমিন জানান, গাছে এখন পর্যন্ত পর্যাপ্ত গুটি রয়েছে এবং বাগানমালিকেরা ভালো ফলন পাবেন বলে আশা করা যাচ্ছে। তবে ভালো স্বাদ ও পুষ্টি পেতে লিচু পুরোপুরি পরিপক্ব হওয়ার পর বাজারজাত করার জন্য চাষিদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

এসএইচ