পটুয়াখালী: আসন্ন বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রেখে সর্বোচ্চ দুই ধাপে ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। প্রথম ধাপে মূল বেতন এবং দ্বিতীয় ধাপে অন্যান্য ভাতাসমূহ কার্যকর করা হলে দ্রুত বাস্তবায়ন সম্ভব হবে এবং দেশের প্রায় ২২ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের পরিবার কিছুটা স্বস্তি পাবে।
বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি, পটুয়াখালীর উদ্যোগে পটুয়াখালী শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে প্রতিনিধি সমাবেশ ও আলোচনা সভায় এই দাবি জানান তারা।
সভায় প্রধান অতিথি বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির আহবায়ক আব্দুল মালেক বলেন, দীর্ঘ ১১ বছরেও নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন না হওয়ায় দেশের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। এ সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেলেও বেতন কাঠামোয় কার্যকর কোনো পরিবর্তন না আসায় তাদের জীবনযাত্রা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠেছে।
আব্দুল মালেক বলেন, ১২ কেজি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ১,২০০ টাকা থেকে বেড়ে প্রায় ২,২০০ টাকায় পৌঁছেছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ, পানি, বাসাভাড়া, শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যয়ও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রতিটি পণ্য কর্মচারীদের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই পে স্কেল বাস্তবায়ন হবে এই অজুহাতে বার বার দ্রব্য মূল্য বেড়েছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতাগ্রহণের পরও বহুবার দ্রব্য মূল্য বেড়েছে। ফলে নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের অধিকাংশ কর্মচারী ব্যাংক, বীমা ও প্রভিডেন্ট ফান্ড থেকে ঋণ নিতে বাধ্য হচ্ছেন। মাস শেষে ঋণের কিস্তি পরিশোধের পর যে বেতন হাতে থাকে, তা দিয়ে ১০ থেকে ১৫ দিনের বেশি সংসার চালানো সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলন-সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে পে-কমিশন গঠন করা হলেও এখনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে জানা গেছে, সরকার ৩ ধাপে ৩ বছরে পে-স্কেল বাস্তবায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারে—যা কর্মচারীদের মধ্যে নতুন করে হতাশা ও ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। ৩ ধাপে ৩ বছরে পে স্কেল বাস্তবায়ন হলে কর্মচারীরা আরও ৩ বছর ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত থাকবে। এই সুযোগে অসাধু ব্যবসায়ীরা পে স্কেলকে পুঁজি করে প্রতিটি ধাপ কার্যকরের সময় পণ্যের দাম বাড়াবে, যা কর্মচারীদের আরও ব্যাপক ক্ষতি করবে।
আব্দুল মালেক আরও বলেন, “দীর্ঘ ১১ বছর অপেক্ষার পর যদি পে-স্কেল ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হয়, তাহলে বাস্তবে এর সুফল আমরা পাব না। বরং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে এই বৃদ্ধি কার্যত অর্থহীন হয়ে পড়বে।”
সংগঠনের সদস্য সচিব আশিকুল ইসলাম বলেন, “বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে ‘কাজ বেশি, মাইনা কম’—এই বাস্তবতায় আমরা দিন পার করছি। তাই দ্রুত ও কার্যকরভাবে দুই ধাপে পে-স্কেল বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি।”
কর্মচারীদের দাবি, ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের ফলে পে-স্কেলের প্রকৃত সুফল পাওয়া যাবে না। বরং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে এই আংশিক বেতন বৃদ্ধি বাস্তবে কোনো স্বস্তি বয়ে আনবে না।
সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন পটুয়াখালী জেলা কমিটির সভাপতি ও কেন্দ্রী কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শাহাবুদ্দিন মুন্সী শাবু।
এ সময় উপস্থি ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শাহিন খান ও রাশেল শেখ। বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন মো.মুনীরুজ্জামান -সদস্য সচিব, বা:স: ক:ক:সমিতি,পটুয়াখালী জেলা শাখা, মো. আবু জাফর, সভাপতি, শিক্ষক কর্মচারী কল্যাণ সমবায় সমিতি লি:,পটুয়াখালী সদর উপজেলা, মো. শহীদ বিশ্বাস -স্বাস্থ্য পরিদর্শক কল্যাণ সমিতি, পটুয়াখালী জেলা শাখা, মো. কামাল হোসেন, সভাপতি পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক কল্যাণ সমিতি -পটুয়াখালী, মো. দেলোয়ার হোসেন, সভাপতি স্বাস্থ্য সহকারী কল্যাণ সমিতি, কির্তিবাস চন্দ্র পাল,সাধারণ সম্পাদক শিক্ষক কর্মচারী কল্যাণ সমবায় সমিতি, মো. শাহজাহান সিকদার, সভাপতি বাংলাদেশ ভূমি অফিসার্স কল্যাণ সমিতি, সৈয়দ মিজানুর রহমান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, শামিম মৃধা, সাধারণ সম্পাদক ডিপ্লোমা কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন, মো.বশির উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি, নজরুল ইসলাম, সভাপতি পৌর কর্মচারী ইউনিয়ন, মো. মিজানুর রহমান খোকন, সাধারণ সম্পাদক, পৌর কর্মচারী ইউনিয়ন, আব্দুল গাফফার বিশ্বাস, সভাপতি, চতুর্থ শ্রেণি সরকারি কর্মচারী কল্যাণ ফেডারেশন,পটুয়াখালী জেলা শাখা.
সভাপতিত্ব করেন মু. শাহাবুদ্দিন মুন্সী , সভাপতি, বাংলাদেশ সরকারি বন্ধুত্ব কর্মচারী কল্যাণ সমিতি পটুয়াখালী জেলা এবং সঞ্চালনা করেন মো. গোলাম কিবরিয়া সভাপতি-বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকর্তা সমিতি, পটুয়াখালী জেলা শাখা।
সার্বিক ব্যবস্থাপনায় রেজাউল করিম, সিনিয়র সহ সভাপতি, বাংলাদেশ কালেক্টরেট সহকারী সমিতি পটুয়াখালীসহ অন্যান্য নেত্রীবৃন্দ।
পিএস