পাবনা: শেষ সময়ে কোরবানির ঈদকে ঘিরে ব্যস্ত সময় পার করছেন পাবনার খামারিরা। প্রায় এক বছর ধরে গরু মোটাতাজা করেছেন তারা। দেশীয় খাবার দিয়ে প্রাকৃতিক উপায়ে মোটাতাজা করায় নেই কোনো শঙ্কা। ফলে এবার কোরবানির পশু বিক্রি করে ভালো দাম পাওয়ার আশা খামারিদের। আর প্রাণীসম্পদ দপ্তর বলছে, এ বছর জেলায় চাহিদার দ্বিগুণ কোরবানির পশু প্রস্তুত রয়েছে।
দরজায় কড়া নাড়ছে ঈদ উল আজহা। আর এই ঈদের প্রধান আনন্দ পশু কোরবানি। তাই খামারে খামারে পশুর যত্নে ব্যস্ত সময় কাটছে খামারিদের। এক বছর ধরে স্বপ্ন বুনছেন তারা। এমন চিত্রের দেখা মেলে পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার চৌবাড়িয়া হারোপাড়া গ্রামে।
এই গ্রামের জনতা ডেইরী খামারের চারজন মালিকের একজন আব্দুল আলিম বলেন, এক বছর ধরে দেশীয় পদ্ধতিতে ষাঁড় গরু মোটাতাজা করছেন তারা। কাঁচা ঘাস, খৈল, ভুসি, লালি গুড়, ধানের গুড়া সহ বিভিন্ন খাবার দিয়ে গরু লালন পালন করেছেন। ফলে সুস্থ সবল গরু নিয়ে নেই কোনো শঙ্কা। অনেকে খামারে এসে দেখেশুনে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
চাটমোহর উপজেলার পার্শ্বডাঙ্গা গ্রামের খামারি মোফাজ্জল হোসেন বলেন, কোরবানির ঈদ সামনে রেখে হাটে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে দেশি ও বিভিন্ন জাতের ষাঁড় গরু। ইতোমধ্যে কোরবানির হাটে বিক্রির জন্য নেয়া হচ্ছে। কিছু কিছু বিক্রি হচ্ছে। কিছু ফেরত নিয়ে আসতে হচ্ছে। তবে দাম মোটামুটি সাধ্যের মধ্যে হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই খামারিরাও ভালো দাম পাবে আশা করি।
আটঘরিয়া উপজেলার একদন্ত গ্রামের খামারি শহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা মূলত কোরবানির ঈদকে সামনে রেখেই গরু মোটাতাজা করি। ষাঁড় গরু মাঝারি আকারেরটা বেশি চাহিদা ক্রেতাদের। তাই আমরা সেই চাহিদা মাথায় রেখে গরু লালন পালন করে প্রস্তুত করি। এবারও করেছি। আশা করি বিক্রি ভালো হবে, দামও ভালো পাবো।
পাবনা জেলা প্রাণী সম্পদ দপ্তরের কর্মকর্তা জহুরুল ইসলাম বলেন, প্রতিটি উপজেলায় ভেটেরিনারী টিম খামারিদের নানারকম পরামর্শ দিচ্ছে, যাতে কেউ ক্ষতিকর কোনো ওষুধ ব্যবহারে গরু মোটাতাজা করতে না পারে।
তিনি আরো জানান, পাবনা জেলায় ৩৩ হাজার খামারে কোরবানির পশু প্রস্তুত করা হয়েছে ৬ লাখ ৫৩ হাজার ৫৮৮টি। পাবনা জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৫৭২টি। উদ্বৃত্ত পশু ৩ লাখ ১৭ হাজার ১৬টি।
পিএস