চট্টগ্রাম চেম্বার নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদের

  • চট্টগ্রাম প্রতিনিধি | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: মে ২২, ২০২৬, ০৬:১৪ পিএম
ছবি : প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচনকে “প্রহসনের নির্বাচন” আখ্যা দিয়ে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ।

শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে চট্টগ্রামের Radisson Blu Chattogram Bay View-এ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির প্যানেল লিডার এস এম নুরুল হক এ ঘোষণা দেন।

সংবাদ সম্মেলনে চেম্বারের নির্বাচন প্রক্রিয়া, তফসিল ঘোষণা এবং আদালত সংশ্লিষ্ট জটিলতা নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরা হয়।

এস এম নুরুল হক বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ব্যবসায়ীদের আন্দোলনের মুখে চেম্বারের তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদ পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়। পরে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হলে সদস্য যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে ভুয়া সদস্য ও অকার্যকর সংগঠন বাদ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে একটি স্বার্থান্বেষী মহল প্রক্রিয়াগত জালিয়াতির মাধ্যমে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছয়জন পরিচালক নির্বাচিত করার সুযোগ তৈরি করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে এফবিসিসিআই সালিশি ট্রাইব্যুনালে আবেদন করা হলে বিষয়টি দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ায় জড়িয়ে পড়ে। হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগের বিভিন্ন নির্দেশনার পর ট্রাইব্যুনাল নতুন তফসিল ঘোষণা করে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের নির্দেশ দিলেও তা উপেক্ষা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

নুরুল হক অভিযোগ করেন, গত ১৮ মে হঠাৎ করে নির্বাচন বোর্ড আগামী ২৩ মে স্থগিত নির্বাচন আয়োজনের তারিখ ঘোষণা করে, যা ব্যবসায়ীদের জন্য অপ্রস্তুত সময়। ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ব্যবসায়িক ব্যস্ততা এবং অনেক ব্যবসায়ীর বিদেশে অবস্থানের কারণে অধিকাংশ ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, “স্বল্প সময় দিয়ে তড়িঘড়ি নির্বাচন আয়োজন করা হলে তা ব্যবসায়ী সমাজের ভোটাধিকার হরণ করে একটি প্রহসনের নির্বাচনে পরিণত হবে।”

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও দাবি করেন, বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্টে রিট করা হলে নির্বাচন স্থগিতের আদেশ দেওয়া হয়। পরে চেম্বার জজ আদালত সেই আদেশ স্থগিত করলেও আগামী ৮ জুন চূড়ান্ত শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। এ অবস্থায় নির্বাচন আয়োজন আদালতের নির্দেশনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এস এম নুরুল হক বলেন, “এই নির্বাচন সম্পূর্ণ বেআইনি, পক্ষপাতমূলক এবং আরোপিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এটি কোনোভাবেই ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণমূলক গণতান্ত্রিক নির্বাচন নয়।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, আদালতের রায় ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থ উপেক্ষা করে একপক্ষীয়ভাবে নির্বাচন আয়োজন করা হলে তা চট্টগ্রাম চেম্বারের ইতিহাসে কলঙ্কজনক ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে আগামী ২৩ মে’র নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে সব সদস্যকে ভোট বর্জনের আহ্বান জানানো হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন রাসেদ আলী, মু. মুছা, মোস্তাক আহমদ, আবছার হোমেন, আলী হোসেন, কামাল হোসেন, মো. আজিজ ও মো. রানা আল মামুন।

পিএস