চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানার হাজিপাড়া সুন্নিয়া মাদ্রাসা এলাকায় সাত বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (২২ মে) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্ত যুবককে আটক করে গণপিটুনি দেয়। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে গিয়ে উত্তেজিত জনতার তোপের মুখে পড়ে পুলিশও প্রায় দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ ছিল।
গুরুতর অবস্থায় ওই শিশুকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শিশুটির শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, আজ দুপুর ১২টার দিকে শিশুটি একটি কাজে ঘরের বাইরে বের হলে অভিযুক্ত যুবক তাকে একটি নির্জন স্থানে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় শিশুটির চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে এবং অভিযুক্তকে হাতেনাতে আটক করে মারধর শুরু করে।
খবর পেয়ে ডবলমুরিং থানা-পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালে স্থানীয় বাসিন্দাদের তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়ে। সম্প্রতি বাকলিয়া এলাকায় ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার জের টেনে উত্তেজিত জনতা পুলিশকে লক্ষ্য করে স্লোগান দিতে থাকে এবং চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে।
ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জামাল উদ্দীন বলেন, আমরা খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করি। কিন্তু বাকলিয়া এলাকার ঘটনার মতো এখানেও উত্তেজিত জনতা পুলিশকে অবরুদ্ধ করে ফেলে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টার পর আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে সেখান থেকে বের হতে সক্ষম হই।
ওসি আরও জানান, পুলিশ অভিযুক্ত যুবককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। তাকে বর্তমানে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত চলছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) সহকারী কমিশনার (মিডিয়া) আমিনুর রশিদ বলেন, অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ভুক্তভোগী শিশু ও তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও আইনি সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অপরাধীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পিএস