পুকুরে মুরগির বিষ্ঠা ব্যবহারে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে: মৎস্য কর্মকর্তা শাম্মী 

  • ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জুন ১৪, ২০২৬, ০৭:৫৭ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

পাবনার ঈশ্বরদীতে মাছ চাষে কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধি বিষয়ক মৎস্য চাষি প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (১৪ জুন) সকালে উপজেলার দাশুড়িয়া ব্র্যাক অফিসে এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। এতে উপজেলার অর্ধশতাধিক মৎস্য চাষি অংশ নেন।

প্রশিক্ষণে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা শাম্মী শিরিন। ব্র্যাক হ্যাচারি ম্যানেজার নাজমুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাকের সেলস অফিসার আব্দুল মালেক দেওয়ান, ক্যাশিয়ার কর্মকর্তা আফতাবুল আলম ও উৎপাদন কর্মকর্তা শাহিনুর রহমান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শাম্মী শিরিন বলেন, ‘সুস্থ উপায়ে মাছ চাষ করতে পুকুরে মুরগির বিষ্ঠা ব্যবহার অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। কিছু অসাধু মৎস্য চাষি অধিক মুনাফার আশায় পুকুরে মুরগির বিষ্ঠা ব্যবহার করেন। এই বিষ্ঠা খাওয়া মাছ নিয়মিত খেলে মানুষের ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এ ছাড়া পুকুরে ভাত দিলে মাছ দ্রুত বড় হলেও ক্রেতারা বাজারে গিয়ে প্রতারিত হন। ভাত খাওয়ানো মাছ কিনে রান্না করলে তা থেকে অতিরিক্ত পানি বের হয়ে ওজন অর্ধেক হয়ে যায় এবং মাছ নেতিয়ে ছোট হয়ে পড়ে।’

তিনি আরও বলেন, ‘অনেকে পুকুর সংস্কারের নামে ধানের জমি কেটে নতুন পুকুর তৈরি করছেন, যা সম্পূর্ণ আইনবহির্ভূত। পুকুর সংস্কারের প্রয়োজন হলে অবশ্যই উপজেলা মৎস্য অফিসে লিখিত আবেদন করতে হবে এবং আবেদনের রিসিভ কপি চাষিদের কাছে রাখতে হবে।’ এ সময় আড়তগুলোতে কাটা পাল্লা ব্যবহারের মাধ্যমে চাষিদের ঠকানোর বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি জানান, ঈশ্বরদীর মৎস্য আড়তগুলোতে ডিজিটাল পাল্লা ব্যবহার নিশ্চিত করতে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মৎস্য চাষিদের পরামর্শ দিয়ে এই কর্মকর্তা বলেন, পুকুরে পোনা ছাড়ার আগে চুন দিয়ে পুকুর শোধন করে নিতে হবে। বাজারে প্রাপ্ত মানসম্মত পুষ্টিকর ফিড ব্যবহার ও খাদ্যের প্রোটিনের মান যাচাই করা জরুরি। বায়ােসিকিউরিটি বা জৈব নিরাপত্তা মেনে পুকুরে বাইরের দূষিত পানি প্রবেশ বন্ধ করতে হবে। পোনা ছাড়ার আগে লবণ পানিতে চুবিয়ে নেওয়া উত্তম।

তিনি আরও জানান, পুকুরে অসুস্থ মাছ দেখা দিলে তা দ্রুত আলাদা করে মাটিতে পুঁতে ফেলতে হবে। খামারে প্রবেশের আগে সব সরঞ্জাম জীবাণুমুক্ত করা এবং নিয়মিত পানির গুণাগুণ পরীক্ষা করা প্রয়োজন। পুকুরে নির্ধারিত সময়ে মাছের ওজন অনুযায়ী খাবার দিতে হবে। অতিরিক্ত খাবার দিলে পানির পরিবেশ দূষিত হয় এবং মাছ সহজেই রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ে।

এসএইচ