টাকার বিনিময়ে পুশইনে সহযোগিতা! সীমান্তে সক্রিয় বাংলাদেশি দালাল চক্র

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জুন ২১, ২০২৬, ০৮:০৯ পিএম
ছবি : প্রতিনিধি

চাঁপাইনবাবগঞ্জ: সীমান্ত এলাকায় অবৈধ পুশইন ঠেকাতে বিজিবির কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকলেও অর্থের লোভে কিছু বাংলাদেশি নাগরিক ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে (বিএসএফ) সহযোগিতা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় নারী-পুরুষকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টার পেছনে একটি সংঘবদ্ধ দালাল চক্র সক্রিয় রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, বিজিবির টহলের সময়সূচি ও অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে বিএসএফকে সহায়তা করা হচ্ছে। এমনকি সীমান্তের দুর্বল ও সুবিধাজনক পথ চিহ্নিত করে দেওয়ার কাজও করছে কিছু ব্যক্তি। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, একজনকে পুশইনে সহায়তা করতে পারলে দালালদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রোকনপুর সীমান্ত এলাকায় গিয়ে জানা যায়, সীমান্তঘেঁষা নদীপথগুলো এখন পুশইনের নতুন রুট হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা করা হচ্ছে। কাঁটাতারের বেড়া ও স্থলপথে নজরদারি বৃদ্ধি পাওয়ায় রাতের অন্ধকার কিংবা ভোরের সময় নদীপথ দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর কৌশল নেওয়া হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

স্থানীয়দের মতে, সীমান্ত এলাকার আর্থিকভাবে অসচ্ছল কিছু মানুষকে টাকার প্রলোভন দেখিয়ে এসব কাজে যুক্ত করা হচ্ছে। এতে সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশের চেষ্টা আরও সংগঠিত রূপ পাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সীমান্ত এলাকায় পুশইন কার্যক্রমে কিছু বাংলাদেশি নাগরিকের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে একটি সংঘবদ্ধ চক্র বিএসএফের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে এসব কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশইনের চেষ্টা প্রতিরোধে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি। সীমান্তজুড়ে নজরদারি বৃদ্ধি, টহল জোরদার এবং গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।

বিজিবি জানান,, বাংলাদেশের সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় যেকোনো পুশইনের চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।

পিএস