বছর না ঘুরতেই ধসে পড়ল গোদাগাড়ী ইকোপার্কের ওয়াকওয়ে

  • রাজশাহী প্রতিনিধি | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জুলাই ২০, ২০২৬, ০৩:৫৮ পিএম
ছবি : প্রতিনিধি

রাজশাহী: নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার সরমংলা খাড়ি ইকোপার্কের একটি ওয়াকওয়ের প্রায় ২০ মিটার অংশ দেবে গেছে। টানা বর্ষণে গাইডওয়ালের সঙ্গে ওয়াকওয়েরও ক্ষতি হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে নির্মাণের মান নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন উঠেছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতে ঠিকাদারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হবে।

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার সরমংলা খাড়ি এলাকায় গড়ে তোলা ইকোপার্কের ওয়াকওয়ে নির্মাণের এক বছরের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সাম্প্রতিক টানা বৃষ্টির প্রভাবে ওয়াকওয়ের প্রায় ২০ মিটার অংশ দেবে যাওয়ার পাশাপাশি গাইডওয়ালের একটি অংশ খাড়ির দিকে হেলে পড়েছে। এতে পুরো স্থাপনাটির স্থায়িত্ব ও নির্মাণমান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) এলাকার পরিবেশ ও পর্যটন সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সরমংলা খাড়িকে ইকোপার্ক হিসেবে উন্নয়ন করে। প্রকল্পের অংশ হিসেবে পদ্মা নদী থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে খাড়িতে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়। পাশাপাশি দর্শনার্থীদের চলাচলের সুবিধা ও সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য খাড়ির পাড়ে গাইডওয়াল এবং টাইলস বসানো ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হয়।

তবে কয়েক দিনের টানা বর্ষণের পর ওয়াকওয়ের একটি বড় অংশ দেবে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত অংশের আশপাশেও একাধিক ফাটল দেখা দিয়েছে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের ধসের আশঙ্কা তৈরি করেছে।

সোমবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ২০ মিটার এলাকাজুড়ে ওয়াকওয়ে নিচের দিকে বসে গেছে। কয়েকটি স্থানে টাইলস সরে গেছে এবং গাইডওয়ালের অংশ খাড়ির দিকে হেলে রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ও ত্রুটিপূর্ণ কাজের কারণেই এত অল্প সময়ের মধ্যে এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ওয়াকওয়ে ও গাইডওয়াল নির্মাণের জন্য পৃথক কোনো প্রকল্প বা বরাদ্দ ছিল না। বিএমডিএর একটি পাইপলাইন স্থাপন প্রকল্পে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকেই অতিরিক্তভাবে সৌন্দর্যবর্ধনের এ কাজ দেওয়া হয়। প্রায় ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণকাজটি সম্পন্ন হয়েছিল।

এ বিষয়ে বিএমডিএর গোদাগাড়ী জোন-১-এর সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল লতিফ বলেন, ওয়াকওয়ে ও গাইডওয়াল নির্মাণের জন্য আলাদা বাজেট ছিল না। সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্দেশ্যে অন্য একটি প্রকল্পের আওতায় ঠিকাদারকে দিয়ে কাজটি করা হয়েছিল। সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে প্রায় ২০ মিটার অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঠিকাদারের নিরাপত্তা জামানত এখনো সংরক্ষিত রয়েছে। বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ঠিকাদারের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

পিএস