শরীয়তপুরে রান্নাঘরে মজুত ককটেল বিস্ফোরণে গৃহবধূ আহত

  • সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬, ০৬:১১ পিএম
ফাইল ছবি

শরীয়তপুরের জাজিরায় একটি বসতবাড়ির রান্নাঘরে মজুত রাখা ককটেল বিস্ফোরণে রোকেয়া বেগম (৪০) নামের এক গৃহবধূ গুরুতর আহত হয়েছেন। বিস্ফোরণের তীব্রতায় রান্নাঘরের টিনের চালা উড়ে যাওয়ার পাশাপাশি পাশের আরও দুটি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আহত গৃহবধূকে উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জাজিরার সেনেরচর ইউনিয়নের চরধুপুরিয়া চরকান্দি এলাকায় ফারুক ছৈয়ালের বাড়িতে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে ফারুক ছৈয়ালের স্ত্রী রোকেয়া বেগম রান্নার কাজ করতে রান্নাঘরে প্রবেশ করেন। ওই সময় সেখানে মজুত করে রাখা বিপুল পরিমাণ ককটেল একযোগে বিস্ফোরিত হয়। এতে বিকট শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে।

বিস্ফোরণের তীব্রতায় রান্নাঘরের টিনের চালা উড়ে গিয়ে পাশের বাঁশবাগানে পড়ে এবং সামাদ ছৈয়াল ও হাকিম ছৈয়ালের বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গুরুতর আহত রোকেয়া বেগমকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে প্রথমে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। পরে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।

স্থানিয় বাসিন্দারা জানান, এলাকাটিতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মূলনা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল শিকদার ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য তমিজ খাঁর সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এর জের ধরে গত ১০ আগস্ট দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত শতাধিক ককটেল বিস্ফোরিত হয়।

ওই সংঘর্ষে ৭০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ নিহত হন এবং একজনের হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন হওয়াসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। ককটেল বিস্ফোরণ হওয়া বাড়ির মালিক ফারুক ছৈয়াল বিএনপি নেতা রেজাউল শিকদারের সমর্থক হিসেবে পরিচিত। শনিবারের বিস্ফোরণের পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক তানভীর আহম্মেদ জানান, দুপুরে আহত অবস্থায় এক নারীকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তার শরীরে বোমা বিস্ফোরণজনিত গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ্ আহম্মেদ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। সেখানে বিপুল পরিমাণ ককটেল গচ্ছিত রাখা ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে এবং কারা সেখানে ককটেল মজুত করেছিল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

এসএইচ