জামালপুর পৌর নির্বাচনে বহুমাত্রিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস

  • জেলা প্রতিনিধি | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬, ০৯:৫৮ এএম

নির্বাচন কমিশন তপশিল ঘোষণা করেনি। ভোটের দিনক্ষণও এখনও চূড়ান্ত নয়। তবুও আগাম রাজনৈতিক কৌশলে সরগরম হয়ে উঠেছে জামালপুর পৌরসভা। বিশেষ করে মেয়র পদে প্রার্থী বাছাই ঘিরে রাজনীতিতে শুরু হয়েছে মনস্তাত্ত্বিক লড়াই। একদিকে বিএনপির আব্দুল্লাহ আল মাসুদসহ প্রায় ১০ জন সম্ভাব্য প্রার্থীর সক্রিয় উপস্থিতি, অন্যদিকে এক একক ও গ্রহণযোগ্য মুখ বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুজিবুর রহমানকে সামনে এনে চমক দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। অন্যদিকে সমান তালে প্রস্তুতি নিচ্ছে এনসিপির আবিদ সৌরভ ও ইসলামী আন্দোলন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ভোটার সংখ্যা ও ভৌগোলিক বিস্তারে জামালপুর জেলা শহরের এই প্রথম শ্রেণির পৌরসভা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ৯৬ হাজার ৩৫৭ জন ভোটারের এই নগরে হিসাব-নিকাশ শুরু হয়ে গেছে বহু আগেই। তবে মূল আলোচনা জমে উঠেছে প্রার্থীদের সমীকরণ নিয়ে।

বিএনপির ভেতরে প্রায় ১০ জন নেতা সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে মাঠে সক্রিয়। এর মধ্যে জেলা যুবদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা খান তরুণ কর্মীদের সংগঠিত করে বেশ জোরালো অবস্থানে আছেন। অন্যদিকে মাঠ পর্যায়ের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ ও দলীয় কর্মসূচিতে সরব উপস্থিতির কারণে আলোচনায় রয়েছেন শহর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ মো. আবদুল্লাহ আল মাসুদ। এ ছাড়া আরও অন্তত আটজন নেতার অনুসারীরা ব্যানার, পোস্টার ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তৎপর। দলটিতে প্রার্থী বেশি থাকায় অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতা তীব্র হচ্ছে, যা অনেক ক্ষেত্রে বিভক্তির রূপ নিলেও দেখা দিচ্ছে।

ঠিক এই জায়গাতেই জামায়াতে ইসলামী হাঁটছে ভিন্ন কৌশলে। বিএনপির একের অধিক প্রার্থীর উপস্থিতি এবং কোন্দলকে নিজেদের সুযোগ হিসেবে দেখছে দলটি। তারা অনেক আগেই আইনজীবী মুজিবুর রহমানকে একক প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরে মাঠে নেমেছে। তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, ৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম শীর্ষ ছাত্রনেতা এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাবেক সভাপতি ছিলেন। পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি, রাজনৈতিক ও পেশাগত গ্রহণযোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে তারা সাধারণ ভোটারদের কাছে টানতে চাইছে। জামায়াতের নেতাদের বিশ্বাস, ভোটের সমীকরণে একক প্রার্থীর সুবিধা বড় প্রভাব ফেলবে।

নির্বাচনের দৌড়ে পিছিয়ে নেই অন্য দলগুলোও। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে প্রবীণ ও নবীন ভোটারদের টানতে তরুণ প্রার্থী আবিদ সৌরভকে সামনে আনা হয়েছে। তিনি ইতোমধ্যে অনলাইন সেবা ও নগর উন্নয়নের ৩৬ দফার রূপরেখা ঘোষণা করে নজর কাড়ার চেষ্টা করছেন। মাঠে স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের তৎপরতাও চোখে পড়ার মতো। 

সাধারণ ভোটাররা অবশ্য এসব মেরুকরণ বেশ সতর্ক চোখেই দেখছেন। তরুণ ভোটারদের স্পষ্ট বক্তব্য, শুধু শোডাউন বা দলীয় পরিচয় নয়; নগরের স্থায়ী জলাবদ্ধতা, চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজি দূরীকরণ, ড্রেনেজ সংকট ও যানজট নিরসনে যার বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা থাকবে, তাকেই প্রাধান্য দেবেন তারা।

তপশিল ঘোষণার আগেই প্রার্থী সংখ্যা ও দলীয় কৌশলের এই ফারাক জামালপুর পৌরসভার রাজনীতির পারদ নামতে দিচ্ছে না। বিএনপির প্রার্থীজট নাকি জামায়াতের একক মুখের চমক—ভোটের মাঠে শেষ রক্ষা কার হবে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

এম