শেরপুরে মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আটক ১

  • শেরপুর প্রতিনিধি | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬, ০৬:০৫ পিএম
ছবি : প্রতিনিধি

শেরপুর: শেরপুর সদর উপজেলার কুমড়ারচর এলাকায় জমি থেকে মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে বসতবাড়িতে ঢুকে হামলা, মারধর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শেরপুর সদর থানায় মামলা হয়েছে। মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মামলার এজাহার ও পুলিশের নথি অনুযায়ী, গত সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে শেরপুর সদর থানাধীন আনন্দবাজার সংলগ্ন কুমড়ারচর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মামলার বাদী ওমর ফারুক (২৩)। তিনি অভিযোগ করেছেন, জমিতে মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে আগে থেকেই কয়েকজনের সঙ্গে তাদের বিরোধ চলছিল।

এজাহারে বলা হয়, ঘটনার দিন একপর্যায়ে অভিযুক্তরা দলবদ্ধ হয়ে দেশীয় অস্ত্র, রামদা, লোহার শাবল ও লোহার রড নিয়ে বাদীর বসতবাড়ির উঠানে প্রবেশ করেন। সেখানে বাদী ও তার স্বজনদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে হামলা চালানো হয়।

[275781]

বাদীর অভিযোগ, হামলায় তার বাবা ও দুই চাচাসহ কয়েকজন আহত হন। তাদের মধ্যে একজনের মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। অন্যদেরও লোহার রড ও অন্যান্য অস্ত্র দিয়ে মারধর করা হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, হামলার সময় নগদ ৫০ হাজার টাকা এবং এক ব্যক্তির গলায় থাকা ৮ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন নিয়ে যাওয়া হয়। তবে এসব অভিযোগ তদন্তাধীন এবং আদালতে প্রমাণিত হওয়ার আগে এগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।
নথি অনুযায়ী, আহতদের প্রথমে শেরপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে কয়েকজনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। গুরুতর আহত একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) শেরপুর সদর থানায় মামলা নম্বর ৪১ দায়ের করা হয়। মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৭, ৩২৩, ৩২৪, ৩২৬, ৩০৭, ৩৭৯, ৫০৬ ও ১১৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

পুলিশের আদালতে দেওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মো. হারুন মিয়াকে (৪৫) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে ১৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ৪৫ মিনিটে শেরপুর পৌরসভার নারদপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে। গ্রেপ্তারের সময় তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকায় তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার কথাও পুলিশের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশ মামলাটির সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে রাখার আবেদন করেছে। মামলার তদন্ত চলছে।

এসআই